ফিরে দেখা কোহলি এবং কুম্বলের কুখ্যাত ঝামেলাকে

ভারতীয় ক্রিকেট দলে অনিল কুম্বলে এবং বিরাট কোহলির ঝামেলার এক বছরেরও বেশি সময় হতে চলল। ভারতীয় দলের প্রাক্তন এই ডান-হাতি লেগ স্পিনার যখন ভারতীয় দলের কোচ হিসাবে ছিলেন, ভারত তখন যথেষ্ট সাফল্যই পাচ্ছিল। কিন্তু তাঁর সঙ্গে বচসা বাঁধে ভারতীয় দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলির। শেষমেশ এই ঝামেলার অবসান হয় কুম্বলে ভারতীয় দলের কোচের পদ ত্যাগ করলে।

যদিও এটা সকলের জানা যে কুম্বলে এবং বিরাটের মধ্যে সবকিছু ঠিক ছিল না, কিন্তু এটা সঠিকভাবে কেউই বলতে পারবে না যে তাঁদের মধ্যে এই বচসা কবে থেকে শুরু হয়েছিল। এই প্রশ্নের উত্তর কেবলমাত্র দু’জনই দিতে পারবেন, কোহলি এবং কুম্বলে। কিন্তু এই ঝামেলার পর তাঁরা দু’জনেই এই বিষয় নিয়ে কিছুই জানায়নি কাউকে।

তবে এই ঝামেলার সীমানা ছাড়িয়েছিল ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসের ভাইজ্যাগ টেস্টে। এই টেস্ট শুরু হওয়ার আগেই অবশ্য খবর আসছিল যে এর আগের রাজকোট টেস্ট থেকেই কোচ এবং অধিনায়কের মধ্যে মতের অমিল দেখা যাচ্ছিল। রাজকোটের টেস্টে প্রথম থেকেই ইংল্যান্ড প্রভাবশালী থাকলেও শেষমেশ তা ড্র হিসাবে শেষ হয়। তাই ভাইজ্যাগ টেস্টে যাওয়ার আগে থেকেই ভারতীয় দলের ওপরই চাপ ছিল, এবং সকলেরই আশঙ্কা ছিল যে ২০১২ সালের পুনরাবৃত্তিই করবে ইংল্যান্ড।

এবার বিসিসিআই-এর এক কর্মকর্তা দাবি করলেন যে একটা সেলেকশনের ব্যাপার নিয়েই ঝামেলা লেগেছিল কোচ এবং অধিনায়কের মধ্যে। কিন্তু অন্যদের মতে, খেলা চলাকালীন অধিনায়ককে নিয়মিত নির্দেশ পাঠাতেন কুম্বলে, এই কারণেই রেগে যান অধিনায়ক বিরাট। এই দুই ক্রিকেটারই তাঁদের নিজেদের কেরিয়ারে অর্জন করেছেন অনেককিছুই। একটা ড্রেসিং রুমে এরকম দুই তারকা ছিল যাদের মধ্যে কেউই কারোর কাছে দমে থাকতে নারাজ ছিল। তাই তাঁরা একসঙ্গে বেশিদিন থাকতেও পারেননি।

যখন বোর্ডের কাছে কুম্বলে তাঁর চুক্তি বাড়ানোর দাবি করেন, তখন অধিনায়ক কোহলির কাছ থেকে রায় চাওয়া হয়। সেখানেই কোহলি বোর্ডকে জানান যে কুম্বলে কোচ হিসাবে থাকায় অনেক অসুবিধার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় দল, তরুণ খেলোয়াড়রা কুম্বলের সামনে মতামত প্রকাশ করতে পারছে না। তারপর থেকে কুম্বলের কোচিং ছাড়ার বিষয়ে জল্পনা শুরু হয়ে যায়। সংবাদমাধ্যমগুলিও তখন ছিল কোহলির পক্ষেই। ফল স্বরূপ ভারতীয় দলের কোচের পদ থেকে সড়ে দাঁড়ান কুম্বলে।

তবে কোহলি বনাম কুম্বলের লড়াইয়ে কোহলিকেই বারবার টার্গেট করা হয়েছে মিডিয়া থেকে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল হারার পর তাঁর ওপর এই অপবাদগুলো আরও বেশি করে আসতে শুরু করে। বেশিরভাগই মনে করছিলেন যে কোহলিই দুর্ব্যবহার করেছেন কুম্বলের সঙ্গে। তবে সত্যিটা কি, তা কারোরই জানা নয়। এটাও তো হতে পারে যে এই লড়াইয়ে দু’জনের কারোরই কোনও দোশ ছিল না! দু’জনের মতাদর্শ আলাদা হতেই পারে, হয়তো সেই কারণেই তাঁরা একসঙ্গে একই দলে থাকতে পারেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: