“অধিনায়ক হিসেবে সমস্ত পৃথিবী আমার পায়ের তলায় ছিল, তারপরই আমি আর দলে নেই” জানালেন অভিমানী সৌরভ

রাক্তণ ভারতীয় অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী জানিয়েছেন, দল থেকে বাদ পড়া তাকে মানুষ হিসেবে আরও ভালো হতে সাহায্য করেছে। যে সময় সৌরভ দল থেকে বাদ পড়েন তখন তিনি ভারতের অধিনায়ক ছিলেন, তার বাদ পড়ার পর সেই অধিনায়ক্ত তুলে দেওয়া হয় রাহুল দ্রাবিড়ের হাতে।

২০০৫ এর সেপ্টেম্বরে তিনি দল থেকে বাদ পড়েন, এবং ২০০৬ এর সমস্ত মরশুমে তাকে আর দলে ফেরানো হয় নি। এই সময়ে তিনি ভারতের হয়ে ১১ টি হোম এবং অ্যাওয়ে সিরিজ খেলা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এরপর সৌরভ ২০০৭ এর জানুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে দলে ফেরেন, এবং ২০০৮ এ তার অবসর নেওয়ার আগে পর্যন্ত দলে তার জায়গা ধরে রাখেন। শুক্রবার কলকাতায় ইন্ডিয়া টুডে কনক্লেভ ইস্ট ২০১৭ অনুষ্ঠানে এ ব্যাপারে সৌরভ বলেন, “হাই প্রোফাইল চাকরিতে সবসময়ই প্রেসার এবং কম্পিটিশন থাকে। যদি আপনি মনে করেন এই দুটো আপনি সামলাতে পারবেন না তাহলে আপনি এই চাকরিতে সার্ভাইভ করতে পারবেন না। এই সময়ের মধ্যে দিয়ে যাওয়াটা রান করার থেকেও অনেক বেশি।আমাকে বলা হয়েছিল আমি ফিট নই। এটা মেনে নেওয়া ছাড়া আপনার হাতে আর কোনো অপশন নেই। জীবনের সবক্ষেত্রেই আপনাকে উঠে দাঁড়াতে হবে এবং আপনার সুযোগগুলিকে কাজে লাগাতে হবে। অধিনায়ক হিসেবে সমস্ত পৃথিবী আমার পায়ের তলায় ছিল, তারপরই আমি আবিস্কার করলাম যে আমি আর দলে নেই। ভারতের আর কোনো অধিনায়কই বোধহয় এই জায়গায় নিজেকে দেখেন নি। এমএস ধোনিও অধিনায়কত্ব থেকে সরে গিয়েছেন, কিন্তু বিরাট কোহলিকে দেখুন কিভাবে তাকে আগলে রেখেছে। কিন্তু এটা আমাকে একজন ভাল মানুষ হিসেবে তৈরি হতে সাহায্য করেছে

গাঙ্গুলী বলেছেন পাকিস্থানের বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের কথা তাকে তার জীবনের এই ফেজে উদ্দীপ্ত করেছে। এই বিষয়ে তিনি জানিয়েছেন, “ইমরান খান আর আমার একটা খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে। ও আমাকে বলেছিল যখন তুমি উড়ছ এবং উড়তে গিয়ে কালো মেঘ দেখতে পাচ্ছ, তখন আরও উঁচুতে ওড়ার রাস্তা তোমাকেই খুঁজে নিতে হবে। সেই সময়ে আমি এই কথাগুলোকেই মনে রেখেছিলাম। আমি কঠিন ট্রেনিং নিয়েছিলাম। একদিন আমিখুবই রেগে গিয়েছেলাম কারণ আমাকে নির্বাচিত করা হয় নি এবং তার কারণটাও আমার কাছে অজানা ছিল। আমি বিশ্বজুড়ে প্রায় সব জায়গাতেই রান করেছিলাম, ওই ১০ বছরে আমি একদিনের ক্রিকেটে আমি শচীনের থেকেও বেশি রান করেছিলাম। ২০০৬ এ আমি একদিন এত রেগে গেছিলাম যে ইডেনে ২১ পাক দৌড়ে ছিলাম। যাইহোক সময় ভালোর দিকেও পরিবর্তিত হয় এবং গাঙ্গুলী ২০০৮ এ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে যখন ঘরের মাঠে সিরিজে অবসর নেন তখন তিনি যথেষ্ট উঁচু জায়গায় ছিলেন। সেই সময় এমনকী তার সতীর্থরাও অবাক হয়েছিলেন যে যখন দাদা এত ভালো ব্যাট করছেন তখন কেন তিনি খেলা ছেড়ে দিচ্ছেন। তার অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে বলতে গিয়ে সৌরভ বলেন, “ যখন আমি আমার অবসরের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলাম, তখন শচীন আমাকে প্রশ্ন করেছিল, তুমি কেন এরকম সিদ্ধান্ত নিচ্ছ?’ আমি বলেছিলাম যথেষ্ট হয়েছে আমি আর খেলতে চাই না। ও আমাকে বলেছিল, ‘গত তিনি বছরের তুলনায় আমার চোখে তুমি এই মুহুর্তে সেরা খেলাটা খেলছো। জীবনে যখন আপনি পরিক্ষীত হচ্ছেন, যখন আপনি সবার দ্বারা রিজেক্টেড হচ্ছেন, এবং যখন আপনাকে সাইডে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে তখন আপনি তার থেকে নিজের সেরাটা বের করে আনতে পারেন। এবং আমার কাছে সেটাই একটা বড় শিক্ষা ছিল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: