অশ্বিন-জাদেজা না কুলদীপ-চাহাল কোন জুটি খেলবে বিশ্বকাপ? জানালেন নির্বাচক মন্ডলীর প্রধান!

দলের দুই অভিজ্ঞ ফিঙ্গার স্পিনারকে বাদ দিয়ে ২০১৯ বিশ্বকাপের লক্ষ্যে দুই তরুণ রিস্ট স্পিনারকে নিয়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে জাতীয় নির্বাচক মণ্ডলী যে পরীক্ষা-নীরিক্ষার কাজটা শুরু করেছিলেন, সেটা বেশ ভালোভাবেই ফল দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে সীমিত ওভারের দুই ধরণের ফরম্যাটে কুলদীপ যাদব এবং যুজবেন্দ্র চহল এখন অন্যতম সেরা উঠতি প্রতিভা। ইতিমধ্যে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন দুই স্পিনারই। বরং, বলতে গেলে দু’জনের জুটির কথা বিশেষভাব উল্লেখ করতে হয়। আবার যেখানে এক স্পিনার খেলানোর কথা সেখানেও সেয়ানে সেয়ানে কোলাকুলি হচ্ছে। কখনও চহল বাজিমাৎ করে প্রথম একাদশে জায়গা করে নিচ্ছেন, তো কখনও কুলদীপ সেরা টপ স্পিনার হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছেন প্লেয়িং ইলেভেনে। এরমধ্যে, তৃতীয় স্পিনার হিসেবে অক্ষর প্যাটেলের স্কোয়াডে উপস্থিতি দু’জনকে আরও বেশি মাত্রায় প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেট উপহার দিতে বাধ্য করছে।

চলতি দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ মিলিয়ে একটানা পাঁচটি সীমিত ওভারের সিরিজে দুই নির্ভরযোগ্য স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজা ব্রাত্য। তাঁদেরকে শুধুমাত্র টেস্ট ক্রিকেটে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে জাতীয় নির্বাচক মণ্ডলী। উল্টোদিকে, কুলদীপ ও চহলের প্রতি যে আস্থা দেখানো হয়েছে, তাঁরা তা সুদে-আসলে পুষিয়ে দিচ্ছেন পারফর্ম করে। ফলে, এই মুহূর্তে ভারতীয় দলে সীমিত ওভারের ফরম্যাটে অশ্বিন বা জাদেজা কাউকেই দরকার নেই বিরাটের টিমে। খবরে প্রায়শই প্রকাশ পাচ্ছে, দুই অভিজ্ঞ স্পিনারের ২০১৯ বিশ্বকাপে খেলার কোনও সম্ভাবনাই নেই।

ইংল্যান্ডে আগামী বছর বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হতে আর পনেরো মাস বাকি। আর সেই কারণেই প্রশ্নটা বারবার এসে যাচ্ছে, ওখানে স্পেশালিস্ট স্পিনার হিসেবে ভারতীয় দলের বর্তমান সেট আপ’কে ব্যবহার করা হবে, নাকি পুরনো প্রথামতো অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টের কথা মাথায় রেখে? কিন্তু, নির্বাচক মণ্ডলীর প্রধান এতো তাড়াতাড়ি প্রশ্নের উত্তর দিতে চান না। বরং, দলের তিন তরুণ স্পিনারকে চাপে রাখতেই চাইছেন তিনি। বিশেষজ্ঞ মহলের বক্তব্য, আসলে বিশ্বকাপের দলে জায়গা পাকা জেনে পারফরম্যান্সে যাতে কোনও রকম ঘাটতি না আসে দলের তরুণ স্পিনারদের, সেজন্য এখন থেকে কোনও রকম মন্তব্য করতে নারাজ জাতীয় নির্বাচক মণ্ডলীর চেয়ারম্যান।

একটি বেসরকারি সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমএসকে প্রসাদ যা বলেছেন, তা হলো, ”রিস্ট স্পিনারদেরকে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, স্পিন বিভাগকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য। ওরা এখনও পর্যন্ত বেশ ভালো পারফর্ম করেছে। কিন্তু, বিশ্বকাপে কোন কোন স্পিনার খেলবে, সেটা টিম ম্যানেজমেন্ট সময় এলেই ঠিক করবে।”

এটা মাথায় রাখতেই হচ্ছে, ইংল্যান্ডের পরিবেশ যেহেতু সিম বোলারদের বেশি সাহায্য করেছে, সেক্ষেত্রে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে ভারত ক’জন স্পিনারকে রাখে, সেটাও দেখার। যদি কোনও কারণে এক স্পিনার পাঠানো হয়, সেক্ষেত্রে বর্তমানে ফর্মের বিচারে চহল এগিয়ে। কারণ, ইদানিং যা পারফর্ম করছেন তিনি, তাতে হরিয়ানার স্পিনারটি কুলদীপের চেয়ে অনেক বেশি অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছেন। টেস্টের আসরে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য ভারতের সঙ্গে আফগানিস্তান যে টেস্ট ম্যাচটি খেলবে, তাতে এক স্পিনারকে রাখতে চাইছেন জাতীয় নির্বাচকরা। আর সেখানে জাদেজা বা অশ্বিন নয়, চহলকে দেখা যেতে পারে একমাত্র স্পিনার হিসেবে ওই টেস্টে।

তবে, কোনও কারণে তরুণ স্পিনারদের পারফরম্যান্সে ঘাটতি হলে, সেক্ষেত্রে ২০১৩ ও ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলার অভিজ্ঞতা, শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপের দলে জায়গা করে দিতে পারে অশ্বিন ও জাদেজাকে।

উল্লেখ্য, অধিনাক বিরাট কোহলি এবং দলের সহঅঅধিনায়ক রোহিত শর্মার সঙ্গে ওপেনার শিখর ধওয়নের বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া পাকা। পেস বোলার হিসেবে জাতীয় নির্বাচকদের পছন্দ ভুবনেশ্বর কুমার, জসপ্রীত বুমরাহ’র সঙ্গে মহম্মদ সামিকে। তাঁদের সঙ্গে আরও এক পেস বোলারকে পাঠানো হবে। সেই জায়গাটিতে কার শিঁকে ছেঁড়ে, সেটাই এখন দেখার। ক্রিকেট বোদ্ধাদের মতে, আগামী পনেরো মাসে বেশ কিছু বড় পরিবর্তন আসতে পারে ভারতীয় দলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: