আঙুলের চোট নিয়ে ভীষণভাবে ভয় পাচ্ছেন শাকিব, আর কি খেলতে পারবেন না ক্রিকেট?

আটচল্লিশ ঘণ্টাও পের হয়নি এখনও। শুক্রবার অস্ট্রেলিয়া উড়ে যাওয়ার আগে বেশ চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার শাকিব-আল-হাসান। অজিদের দেশে উড়ে যাওয়ার কারণ আঙুলে অস্ত্রোপচার করাতে হবে খুব তাড়াতাড়ি। এছাড়া, আর কোনও রাস্তা নেই, তাঁর কড়ে আঙুলে যা চোট লেগেছে, সেটাকে সারিয়ে তুলতে হবে। তবে, আধুনিক প্রজন্মে এই উপমহাদেশের অন্যতম ও বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার উদ্বিগ্নতা আসলে ভয় মেশানো। ভয়ের কারণ হলো,  বাঁহাতে কড়ে আঙুলটা বোধহয় আর কোনওদিন একশো শতাংশ ফিট দেখতে পাবেন না। আগের অবস্থায় না ফিরলে ক্রিকেটটা যেভাবে খেলতেন, সেভাবে খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

নিজের চোট নিয়ে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের যখন মুখোমুখি হন শাকিব, তখন তাঁর কণ্ঠ আবেগে চেপে আসছিল। একেবারে মুষড়ে পড়েছেন বাঁহাতি স্টার অলরাউন্ডার।

”এই আঙুলটা (বাঁহাতের কড়ে আঙুল) আর কোনওদিন একশো শতাংশ আগের মতো অবস্থায় আসবে না। কারণ এখানে হাড় নরম হয়। তাই কোনও সম্ভবনাই নেই আগের মতো অবস্থায় আঙুলটাকে ফিরিয়ে আনার। অস্ত্রোপচার করে ডাক্তাররা আঙুলটাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে আসবেন, যাতে আমি হাতে করে ব্যাটটা ঠিকমতো ধরতে পারি আর আমার কেরিয়ারটা চালিয়ে যেতে পারি একজন ক্রিকেটার হিসেবে।”

এখন প্রশ্ন হলো, আঙুলটা ব্যাট ধরার মতো সেরে উঠলেও, আদৌ কোনওদিন বল করতে পারবেন কি না, আর করলেও ঠিকমতো করতে পারবেন কি না, সেনিয়ে ধন্দে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে বাংলাদেশ বোলিং লাইনআপে শাকিবের স্পিন বোলিং একটা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। বাংলাদেশি অলরাউন্ডারের কড়ে আঙুলের চোটটা প্রথম লাগে চলতি বছরের গোড়ার দিকে সেদেশে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীর প্রতিযোগিতার সময়। মীরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ফাইনাল ম্যাচে ফিল্ডিং করার সময় ডাইভ মেরে বল আটকাতে যান বাউন্ডারে বাঁচাতে। তখনই চোটটা লাগে। সঙ্গে সঙ্গে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল শাকিবকে। বেশ কিছুদিন ক্রিকেট থেকে বিরতি নিয়ে মাঠে ফিরলেও আঙুলের চোটটা সারেনি। যন্ত্রণা সহ্য করেই শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত নিদহস ট্রফিতে খেলেন। টিমের সঙ্গে ক্যারিবিয়ান দেশ সফরেও যান। চোট না সারিয়ে খেলতে থাকায় আরও বেড়ে যায় চোটটা। শাকিব পরিষ্কারভাবে বোর্ডকে জানিয়ে দেন যে তাঁর পক্ষে আর খেলা সম্ভব নয়। আঙুলে অস্ত্রোপচার করানো জরুরি। এশিয়া কাপ থেকে সরে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন স্টার অরাউন্ডার। কিন্তু, বোর্ড তাঁকে যেনতেন প্রকারে খেলাতে চাইছিল। সেই কারণেই দুবাইতে যেতে রাজি হওয়া। অস্ত্রোপচারের দিনক্ষণ পিছিয়ে দিতে বাধ্য হন শাকিব।

এশিয়া কাপে এসে সুপার ফোরের ম্যাচে ২৬ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শাকিবের খেলার সম্ভাবনা ৫০-৫০ ছিল। যাইহোক, তার পরের দিনই শাকিব দুবাই থেক ঢাকা উড়ে আসেন। দিন দু’য়েকের মধ্যে আবার দুবাই ফেরার কথা থাকলেও আর যাওয়া হয়নি। একত্রিশ বছরের অলরাউন্ডারকে কড়ে আঙুলে প্রচণ্ড যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট সূত্রে খবর, আঙুলে পুঁজ ভর্তি হয়ে গিয়েছিল শাকিবের। ঢাকার হাসপাতালে ডাক্তারেরা ৫০-৬০ শতাংশ পুঁজ বের করতে সক্ষম হন। তারপর চারদিন শাকিবকে হাসপাতালে ভর্তি রাখার কারণ পর্যবেক্ষণে রাখতে, যাতে চোটের জায়গাটায় নতুন করে সংক্রমণ না ছড়ায়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মুখ্য ডাক্তার দেবাশিস চৌধুরী বলছেন, অস্ত্রোপচার করিয়ে সুস্থ হয়ে উঠে ক্রিকেটে ফিরতে শাকিবের মাস তিনেক সময় লাগবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী জানুয়ারিতে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ষষ্ঠ সংস্করণেও যোগ দিতে পারবেন। মাঝের এই সময়টাতে বাংলাদেশের জন্য জিম্বাবোয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে হোম সিরিজ রয়েছে।

রিপোর্টে প্রকাশ, শাকিবের কড়ে আঙুলের চোটটা পুরোপুরি বেড়ে যাওয়ার কারণ টিমের ফিজিও তিহাল চন্দ্রমোহনের গাফিলতিতে। ঠিকমতো চিকিৎসা করতে পারেননি তিনি। সেই কারণেই আঙুলে পুঁজ জমে ওঠে। টিমের সঙ্গে আরব আমির শাহি সফর করার সময় শাকিব প্রচণ্ড যন্ত্রণা অনুভব করলেও, খবরটা চেপে যাওয়া হয় মিডিয়ার থেকে। ঢাকায় এসে শাকিবকে হাসপাতালেও দেখতে গিয়েছিলেন চন্দ্রমোহন। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়ে পুরো ব্যাপারটি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। শাকিবের মতো একজন অলরাউন্ডার সেদেশের সম্পদ। দেশের হয়ে তিনি অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাঁর চিকিৎসায় কিভাবে এরকম গাফিলতি হলো। আর বোর্ড কি করে, এখনও চুপ রয়েছে? তাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মুখ্য কার্যনির্বাহী কর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরীর বক্তব্য,

”গাফিলতির কোনও প্রশ্ন নেই এখানে। আমাদের প্রচেষ্টাই হলো, শাকিবকে সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া যতোটা সম্ভব। ও আমাদের মহামূল্যবান ক্রিকেটার। আমরা চাই, ও পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠুক এবং তাড়াতাড়ি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসুক।”

”শাকিবের নিরাপত্তা আমাদের কাছে প্রধান বিষয়। আমরা এই ব্যাপারটাও দেখছি যে ফিজিও’র তরফ থেকে কোনওরকম ভুল পর্যবেক্ষণ হয়েছিল কি না শাকিবের চোট নিয়ে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: