চ্যাপেল বলেছিলেন ক্রিকেটার হয়ে উঠতে পারবেন না, ধোনির সানিধ্যে আজ তিনিই বিরাটের দলে..

আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজ শেষ হতেই জোর ধাক্কা লাগে ভারতীয় শিবিরে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-২০ ও ওডিআই সিরিজ থেকে ছিটকে যান ভারতীয় দলের সীমিত ওভারের ক্রিকেট স্পেশালিস্ট বোলার জসপ্রীত বুমরাহ। তাঁর পরিবর্তে যে সেই রমকই কোনও ভালো মানের বোলারকে দলে আনা হবে, সেই ইঙ্গিত এক বিসিসিআই কর্তা শুরুতেই দিয়েছিলেন।আয়ারল্যান্ড সিরিজ শেষ হতেই ভারতীয় দলের দু’টি পরিবর্তন হয়েছে।

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজের দলে জসপ্রীত বুমরাহ’র জায়গা নিয়েছেন পেস বোলার দীপক চহর। আর তরুণ স্পিন বোলার ওয়াশিংটন সুন্দরের স্থলাভিক্ত হয়েছেন ক্রুণাল পান্ডিয়া। ইংল্যান্ড সফররত ভারতীয় এ দলের হয়ে এই দুই ক্রিকেটারই দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন ৫০ ওভারের ফরম্যাটে।

আকাশবাণী ও গুরুগ্রেগ…

ফেসবুকে আকাশবাণী শীর্ষক একটি সোশ্যাল সেগমেন্ট চহরকে নিয়ে নানান কথা শোনাচ্ছিলেন আকাশ চোপড়া। তখনই চাঞ্চল্যকর একটি ঘটনার কথা বলে ফেলেন ভারতীয় দলের প্রাক্তন টেস্ট ওপেনার। আর সেই গল্পের খলচরিত্র ভারতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলির এক সময়কার অতিপছন্দের গুরুগ্রেগ। অস্ট্রেলিয়া প্রাক্তন ব্যাটিং লেজেন্ড গ্রেগ চ্যাপেল একবার চহরকে জোর দিয়ে একটা কথা বলেছিলেন। আর সেটা যে কোনও তরুণ প্রতিভাকে শুরুতেই শেষ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এতোটাই নিরুৎসাহজনক ছিল সেই ভবিষ্যদ্বাণী।

আকাশ চোপড়া বলছেন –

”চহলের গল্পটা কিন্তু বেশ চিত্তাকর্ষক। ও যখন ছোটো ছিল, সে সময় রাজস্থানের হনুমানঘরে ক্রিকেট অনুশীলন করত। সেখানেই ওর সঙ্গে গ্রেগ চ্যাপলের দেখা। গ্রেগ তখন রাজস্থান ক্রিকেট অ্যাকাডেমির ডিরেক্টর। চহরকে ক্রিকেট খেলা ছেড়ে দিতে বলেছিল। জাতীয় দলে কোনও দিন সুযোগ আসবে না – এই কারণে নয়! চ্যাপেল ওকে বলেছিল যে ও কোনওদিনই ক্রিকেটার হয়ে উঠতেই পারবে না।”

আইপিএল ২০১৮..

একাদশ আইপিএলে মহেন্দ্র সিং ধোনির চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন চহর। শুধু ভালোভাবে পারফর্ম্যান্স তুলে ধরাই নয়, পাওয়ার প্লে’তে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে দেখান তিনি। ইকনমি রেট ছিল ৭.২৮। ১২ ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাটহাতেও একবার নিজের প্রতিভার জোশ দেখান। ধোনির সিএসকে টিম এবার রেকর্ড পরিমাণ তৃতীয়বার ট্রফি জিতেছে। আর তার পিছনে অন্যতম অবদান রয়েছে চহরেরও। সেই কারণেই ভারতীয় এ দলে নিজের জায়গা আদায় করেন রাজস্থানের ডানহাতি ফাস্ট বোলার।

ক্রিকেটার হয়ে ওঠা…

সুরতগড়ে ১২ বছর বয়সে ক্রিকেট খেলা শুরু দীপকের। চাকরিসূত্রে সেখানে দীপকের বাবার পোস্টিং হয়েছিল সেই সময়। ছেলেকে ক্রিকেটার করে তোলার জন্য চাকরি ছেড়ে দেন তাঁর বাবা। অর্থ ঋণ নিয়ে ছেলেকে উপযুক্ত ক্রিকেট প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য সব চেষ্টাই করেছেন চহর সিনিয়র। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজে ভারতীয় দলের প্রথম একাদশে দীপক খেলার সুযোগ পেলে, তাঁর বাবার সেই ত্যাগের একটা বৃত্ত পূর্ণ হবে।

ভারতীয় ক্রিকেটে গ্রেগ অধ্যায়…

কারওর পরামর্শ না শুনেই গ্রেগ চ্যাপেলকে ব্যক্তিগত পছন্দে ভারতীয় দলের হেড কোচ করেছিলেন তৎকালীণ ভারত অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি। কিন্তু, ছ’মাস যেতে না যেতেই সেই গ্রেগই দাদাকে অধিনায়কত্ব থেকে সরানোর পর তাঁকে দল থেকে বের করে দেন। গ্রেগের দাদা ইয়ান চ্যাপেলও, তাঁর ভাইকে নিয়ে কখনও ইতিবাচকম মন্তব্য করেননি। বরং সে সময় সৌরভের ওই সিদ্ধান্তে অবাক হয়ে, সতর্ক কররও চেষ্টা করেছিলেন।ভারতীয় ক্রিকেটের অন্ধকারময় সেই পর্ব ২০০৭ ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে টিম ইন্ডিয়ার জঘন্য পারফর্ম্যান্সের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়। বিসিসিআই নিজে থেকেই গ্রেগকে হেডকোচের দায়িত্ব থেকে মুক্তি দেয়। আর তারপরই ভারতীয় ক্রিকেটে এমএস ধোনি অধ্যায়ের সূচনা ও সফলতার সিঁড়ি চড়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: