আইপিএল ২০১৮: চেন্নাই বনাম পাঞ্জাব, জেনে নিন কার কি বক্তব্য

আরও এক রুদ্ধশ্বাস লড়াই, টানটান উত্তেজনা ভরা ম্যাচের সাক্ষী হয়ে রইল আইপিএলের দর্শকরা। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব বনাম চেন্নাই সুপার কিংসের এই ম্যাচ হার মানাবে যে কোনও শিহরণ জাগানো চিত্রনাট্যকেও। মাত্র চার রানে এই ম্যাচ কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব জিতে নিলেও এই ম্যাচের প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়ান আরও একবার ক্যাপ্টেন কুল মহেন্দ্র সিং ধোনি। যারা প্রশ্ন তুলেছিলেন ফিনিশার ধোনি শেষ হয়ে গিয়েছেন সেই সব সমালোচকদের যোগ্য জবাব দিয়ে আরও একবার ধোনি দেখিয়ে দিলেন কেন তাকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ফিনিশারের আখ্যা দেওয়া হয়।

প্রথম থেকে মাথা ঠান্ডা রেখে ইনিংসের শেষ দিকে নিজের ব্যাটে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এই ম্যাচ প্রায় পাঞ্জাবের মুখ থেকে ছিনিয়েই নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এদিন ম্যাচে ধোনিকে পরাজিত হিসেবেই থেকে যেতে হল। মাত্রা ৪ রানের জন্য দলকে জয় এনে দিতে পারলেন না তিনি। ৪৪ বলে ৭৯ রানে অপরাজিত থেকে আইপিএলের এযাবৎ তারা সেরা ইনিংসও খেলে গেলেন এই প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। একবার দেখে নেওয়া যাক ম্যাচ শেষে কে কি বললেন।

ম্যান অফ দ্য ম্যাচ ক্রিস গেইল:

“ফিরে আসাটা দারুণ ছিল। আজ সকালেই আমি একটা টেক্সট পাই যে আমি খেলছি। আমি ভীষণই খুশি যে আমি শুরুটা জয় দিয়েই করলাম এই নতুন ফ্রেঞ্চাইজির জন্য। এটাই ক্রিস গেইল আপনাদের কাছে— যে শুধুমাত্র চার ছয় মারবে এবং এক দু রান নিয়ে যে মাথা ঘামাবে না। রাহুল আমার উপর থেকে চাপটা সরিয়ে দেয়। আমার মনে হচ্ছে আমি ২৫ বছরে ফিরে গেছি, এই ইউনিভার্সের বস ফিরে এসেছে (হাসি)”।

কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের অধিনায়ক অশ্বিন:

“আমার মনে হয়েছিল ওখানে ভীষণই শিশির রয়েছে, কিন্তু সবমিলিয়ে ভালো বোলিংই হয়েছে। রায়ডুকে ম্যাচের ওই সময় তুলে নেওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, এটা ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া মুহুর্ত। আমরা এমন একটা দল হয়ে খেলি নি, যে যারা পেছনে গিয়ে ভাববে যে আমরা ওটা করতে পারি বা এটা, আমরা এমন একটা দল হয়ে খেলেছি, যারা ভাববে যে সম্ভবত আমরা গোড়াতেই আটকে যেতে পারি। আজ আমি ভেবেছিলাম আমরা গেইলকে লেলিয়ে দিতে পারি, এবং এমন একটা অস্ত্র যে ওখানে গিয়ে আক্রমণ করবে এবং নিজেকে জাহির করবে”।

চেন্নাই কিংসের অধিনায়ক ধোনি:

“অনেক কিছুই আমার মাথায় নেই। ওরা দারুণ বল করেছে, মুজিবই পার্থক্য গড়ে দেয়। আমার মনে হয় না মাঠে এমন কিছু শিশির ছিল। ওরা আমাদের থেকে ভালো খেলেছে। আমরা বেশ কিছু জায়গায় উন্নতি করতে পারি। প্রথম দিকে গেইলের ইনিংস এবং পরে মুজিবের বোলিংই পার্থক্য গড়ে দেয়। এটা খুবই ক্লোজ ম্যাচ ছিল। আমরা একটা সুরক্ষিত ফিল্ডিং টিম হতে পারি এবং কিন্তু ব্যতিক্রমী হতে পারি না। বল করার সময় আমাদের আরও বেশি স্মার্ট হতে হবে। আমরা এখানে ওখানে বাউন্ডারি মারতে চাইছিলাম এবং ওটাই পার্থক্য গড়ে দিতে পারত। যে ম্যাচগুলো আমরা খেলেছি সেগুলো খুবই ক্লোজ ছিল, তাই কোনও ব্যক্তি তা থেকে কিছু শিখতে পারবে।

(ব্র্যাভোকে উপরের দিকে না পাঠানোয়) ফ্লেমিং ডাগ আউটে ছিল, ফলে ওর সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। আমাদের জাদেজার উপর বিশ্বাস ছিল, কারণ একজন বাঁহাতি হওয়ায় ও বোলারদের পক্ষে খুব একটা সহজ হত না। এটাই সময় যখন আমাদের উচিৎ ওকে সুযোগ দেওয়া। যদি জাদেজা সেই ফ্লোটারের কাজটা করতে পারে তাহলে তা দলের পক্ষেই মঙ্গল হবে, এছাড়াও টপ অর্ডারে আমাদের কাছে রায়না রয়েছে। আমি ওর পাশে দাঁড়াব, কারণ আমরা ওকে বহু সুযোগ দিই নি। (নিজের চোট নিয়ে) আমি জানিনা আমার পিঠ কেমন আছে, কিন্তু এটা ঠিক হয়ে যাবে। ভগবান আমাকে যথেষ্টই শক্তি দিয়েছেন তাই আমার পিঠ নিয়েো আমার অত চিন্তা করার কিছু নেই। এটা ততটাও খারাপ হবে না। আমি চোট নিয়েও খেলতে অভ্যস্ত। আপনাকে শক্ত হতেই হয়”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: