তৃতীয় টেস্টে ভারতীয় দলে দরকার যে চারটি বড় পরিবর্তন!

ইংল্যান্ডের মাটিতে ভারতীয় ক্রিকেট দলের খারাপ ফর্ম অব্যাহত। ওডিআই সিরিজ খোয়ানোর পর ব্যাটিং ব্যর্থতায় টানা দু’টি টেস্ট ম্যাচ খুইয়েছে ভারত। ব্রিটিশ যুক্তরাষ্ট্র সফর যত লম্বা হচ্ছে বিরাট কোহলিদের ক্রিকেট খেলার মান ততই নিম্নমুখী। নানান অগৌরবের রেকর্ডের সঙ্গে নাম জড়িয়ে পড়ছে টিম ইন্ডিয়ার।

পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ভারত এখন রীতিমতো কোণঠাসা। ২-০ ফলে পিছিয়ে পড়া বিরাট কোহলিদের সামনে সিরিজ হারের খাঁড়া ঝুলছে। সিরিজের প্রথম টেস্টে বার্মিহামের এজবাস্টনে ৩১ রানে হেরেছে ভারত। দ্বিতীয় টেস্ট আরও করুণ অবস্থা, ইনিংস ও ১৫৯ রানে হারের লজ্জাবরণ। খুব বাড়ি-চাড়িয়ে বললে আড়াই দিনে শেষ হয়ে যায় লর্ডস টেস্ট ম্যাচ। কোনও রকমে একশো রানের সীমা পার করা দুই ইনিংসেই। সিরিজের তৃতীয় টেস্ট ম্যাচ ১৮ অগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে। সিরিজ বাঁচাতে হলে এই টেস্টে ভারতের জেতা জরুরি। কারণ, ট্রেন্ট ব্রিজে ইংল্যান্ড জিতে গেলে দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই ৩-০ ফলে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে নেবে। বিরাট কোহলিদের এখন দরকার বর্তমান ক্রিকেট গ্রহের এক নম্বর টিম সুলভ মানসিকতা দেখানো। হারের ধাক্কা সামলাতে সামলাতে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে ভারতের। একমাত্র পাল্টা লড়াই পারে হারানো সম্মান পুনরুদ্ধার করতে।

কাজটা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে কামব্যাক করতে হলে ভারতকে ভুলত্রুটিগুলি শুধরে নিতে হবে। টিম ম্যানেজমেন্টকে বিভিন্ন কম্বিনেশন নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের উচিত নটিংহামে চারটি বদল আনা।

ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্ট চারটি বদল জরুরি –

৪. বিজয়ের পরিবর্তে ওপেনিংয়ে ধওয়ন

ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট সিরিজি মুরলি বিজয়ের থেকে অনেক প্রত্যাশা ছিল টিম ম্যানেজমেন্টের। প্রথম দু’টি টেস্টে বাকি ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে তামিলনাড়ুর স্পেশালিস্ট ওপেনিং ব্যাটসম্যান সুপার ফ্লপ। গত চারটি ইনিংস মিলিয়ে মুরলির অবদান মাত্র ২৬ রান। তার মধ্যে লর্ডসে জোড়া ‘ডাক’-এর অগৌরবের নজির। বিদেশের মাটিতে ইদানিং সমস্যা হচ্ছে মুরলির। কেরিয়ারের ব্যাটিং গড়ও চল্লিশের নিচে নেমে এসেছে। তৃতীয় টেস্টে শিখর ধওয়নকে ফিরিয়ে আনা হতে পারে। কেএল রাহুল ব্যর্থ হলেও তাঁকে ওপেনিংয়ে আরও একটা সুযোগ দেওয়া জরুরি। কেন না তৃতীয় ওপেনিং জুটি যেমন পরখ করা হয়ে যাবে, তেমনই ধওয়ন আর রাহুল খেললে ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশন থাকবে ওপেনিংয়ে।

৩. হার্দিকের পরিবর্তে নায়ার

যোগ্য ব্যক্তি হয়েও করুণ নায়ারের জন্য সুযোগ আসছে না। প্রথম দু’টি টেস্টে ভারতীয় দলের সফর সঙ্গী দেশের দ্বিতীয় ট্রিপল সেঞ্চুরিয়ন। ইংল্যান্ডের পরিবেশে খেলা হওয়ায় সেখানে স্পিনিং অলরাউন্ডারের পরিবর্তে পেস বোলিং অলরাউন্ডার জরুরি। আর সেজন্যই রবীন্দ্র জাদেজার পরিবর্তে হার্দিককে প্রথম একাদশে জায়গা দেওয়া হয়। কিন্তু, ব্যাটিংয়ে রান করতে পারেননি। বোলিংয়ে দ্বিতীয় টেস্টে তিন উইকেট নেওয়া ছাড়া, আর কোনও উল্লেখযোগ্য পারফর্ম্যান্স নেই। বোলিংয়ে ভারত ঠিকই আছে তুলনায়। বরং ব্যাটিংয়ে জোর বাড়াতে নায়ারকে প্রথম একাদশে আনা জরুরি। ভারতীয় এ দলের হয়ে সম্প্রতি ইংল্যান্ড এ দলের বিরুদ্ধে তিনি রানও পেয়েছেন।

২. কুলদীপের পরিবর্তে বুমরাহ বা উমেশ

টি-২০ সিরিজে কুলদীপের ম্যাজিক দেখার পর টেস্ট সিরিজে নিয়ে তাঁকে নিয়ে প্রত্যাশা ছিল টিম ম্যানেজমেন্টের। লর্ডসে টেস্টে তাঁকে খেলানো বিরাট কোহলির সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত। মেঘলা পরিবেশে কুলদীপের স্পিন বোলিং কাজে লাগেনি। বরং একজন পেস বোলারের অভাব ভুগিয়েছে। ওদিকে, ব্যাটে একটাও রান এনে দিতে পারেননি তরুণ চায়নাম্যান বোলার। লর্ডসে তাঁর সংগ্রহ জোড়া ‘ডাক’। আঙুলে চোট থাকা পেস বোলার জসপ্রীত বুমরাহকে খেলানো যেতেই পারে। তবে, প্রথম টেস্টে মোটামুটি উইকেট তুলে নেওয়া উমেশ যাদব’কে তৃতীয় টেস্টে প্রথম একাদশে ফিরিয়ে আনলে কোনও ক্ষতি নেই। উমেশ খাঁটি পেস বোলার।

১. কার্তিকের পরিবর্তে পন্ত

উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান দিনেশ কার্তিকের ওপর অনেক অবিচার হয়েছে সীমিত ওভারের সিরিজের সময়, সেটা মেনে নিয়েও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতেই হবে টিম ম্যানেজমেন্টকে। টেস্ট সিরিজে নিজেকে প্রমাণ করার যথেষ্ট সুযোগ থাকলেও গত চারটি ইনিংসে কার্তিকের সংগ্রহ ২১ রান। শেষ ইনিংসে আবার প্রথম বলেই প্যাভিলিয়নে ফেরত আসেন। কিপিংয়ে তেমন জোশ দেখাতে ব্যর্থ অভিজ্ঞ ডিকে। এটাই সেরা সময় টেস্টের আসরে তরুণ উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান ঋষভ পন্তকে পরখ করে নেওয়ার। ভারতীয় এ দলের হয়ে সম্প্রতি ওডিআই এবং চারদিনের টেস্ট সিরিজে ভালো ফর্ম দেখিয়েছেন দিল্লির স্টার। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যেওয়া অবস্থা থেকে কামব্যাক করতে ঋষভের মতো একজন তরুণ ক্রিকেটারের সাহসী মানসিকতার সঞ্চার দরকার টিমে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: