ইংল্যান্ডকে শেষ করার হাতিয়ার পেয়ে গিয়েছেন বিরাট, বিশ্বকাপের আগে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ভারত

২০১৯ সালের পঞ্চাশ ওভারের বিশ্বকাপ নিয়ে শুরু থেকেই সিরিয়াস মনোভাব নিয়েছে ভারত। বিসিসিআই ও ভারতীয় দলের ক্রিকেটাররা সেই লক্ষ্যেই গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে প্রস্তুতি শুরু করে দেয়। কারণ, এই পর্বে ভারতীয় ক্রিকেটে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। নতুন টিম তৈরি হয়েছে। আর বিশ্বকাপের মতো হাইভোল্টোজ টুর্নামেন্ট নামতে গেলে টিমকেও তেমনভাবে তৈরি করতে হয়। এরপর, লক্ষ্য যদি ট্রফি দখল হয়, তখন প্রস্তুতিটা আরও দৃঢ়চেতা ও চমকপ্রদ হয়ে ওঠা স্বাভাবিক। কারণ, নিজেদের শক্তি সম্পর্কে গোটা টিমের অবগত হওয়া চাই। অধিনায়ক কোন কোন ক্রিকেটারের থেকে কি কি আশা করছেন, সেই মতো করে নিজেদের গড়ে নেওয়ার মতো মানসিকতাও চাই। আর এই প্রক্রিয়াটা অনেকটাই লম্বা। এক-দু’মাসের কাজ নয়। এই কারণেই ভারতীয় ক্রিকেট দল প্রায় মাস কুড়ি আগে শুরু করেছে প্রস্তুতিটা।

বিশ্বকাপের আগে ভারতীয় দল…

এই ২০১৮ বছরটা ভারতের পরীক্ষা-নীরিক্ষার মধ্যে দিয়েই শুরু করেছে। তিনটি বড় টুর্নামেন্টের মধ্যে ভারতীয় দল প্রথম ধাপে সফল। শুধু টেস্ট সিরিজের প্রথম দু’টি ম্যাচের অপরাগতা বাদ দিতে হবে। ওয়ান-ডে এব টি-২০ সিরিজে বিরাট কোহলির দল দাপট বজায় রাখে। দেশে ফিরে নিদহস ট্রফি ও আইপিএল মরশুম শেযে দ্বিতীয় পরীক্ষা দিতে ব্রিটিশ যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিত ভারতীয় দল।

২০১৯ বিশ্বকাপের আগে আগে ভারত অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তাদের তৃতীয় পরীক্ষা শেষ করবে। শুরুটা হবে এ বছরের শেষ দিকে। বিশ্বকাপের আগে তারকাদের দ্বাদশ আইপিএল মরশুমে পুরো খেলা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

ভারতীয় দল আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজ শেষ করেই ইল্যান্ডের দিকে নজর দেবে। বিরাটদের বিলেত সফরের সূচনা ৩ জুলাই হচ্ছে টি-২০ সিরিজ দিয়ে। ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইল্যান্ডেই থাকবেন কোহলিরা। আগামী বিশ্বকাপ যেহেতু ইল্যান্ড ও ওয়েলসে অনুষ্ঠিত হবে, তাই এবারের লম্বা এই ইংলিশ সফরটাকে ভালোভালে কাজে লাগাতে চাইছে ভারত, নানান পরীক্ষা-নীরিক্ষার মাধ্যমে।

ইংল্যান্ড বধের ছক…

আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টি-২০ ম্যাচে ভারত ৭৬ রানে জিতেছে। ভারতীয় ওপেনাররা দুর্দান্ত ব্যাটিং উপহার দেন। শেষ বেলায় হাতে ওভার কম থাকলেও ইঙ্গিত স্পষ্ট। ব্যাটিং অর্ডারে ভারি ওলটফের করেন বিরাট। তিন নম্বর থেকে ছ’নম্বরে নেমে আসতেও দ্বিধাবোধ করেননি। এমএস ধোনিকে চার নম্বরে ঠেলে তোলা হয়েছে। হার্দিক পান্ডিয়াকে পাঁচ তুলে এনে মণীশ পান্ডেকে সাতে নামিয়ে দেওয়া হয়। মিডল-অর্ডার নিয়ে ভারত জোরকদমে লেগে পড়ছে।

২৯ বছরের ভারত অধিনায়ক ম্যাচের পরই জানিয়ে দেন, আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচেও পরীক্ষা-নীরিক্ষা চলবে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেও তা দেখতে পাবে গোটা ক্রিকেট দুনিয়া। কেএল রাহুল ও দিনেশ কার্তিকের মতো ফর্মে থাকা দুই ক্রিকেটারও যথেষ্ট সুযোগ পাবেন ভারতকে ম্যাচ জেতাতে। এমনিও ভারতীয় দল ব্রিটিশ যুক্তরাষ্ট্রে রওনা দেওয়ার আগেই বলেছিল, আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সিরিজে চার নম্বর ও পাঁচ নম্বর পজিশনের সমস্যাটা মিটিয়ে ফেলা হবে। সেই লক্ষ্যে জোরকদমে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

বিরাটের বক্তব্য –

”দেখুন, আমরা আগেই জানিয়ে দিয়েছি, মিডল-অর্ডার নিয়ে বিস্তর পরীক্ষা-নীরিক্ষা চালানো হবে। আগামী দিনে হাতে যে টি-২০ ম্যাচগুলি আছে, তাতেও। ইংল্যান্ড সিরিজে, আমরা একের পর এক বদল এনে বিপক্ষ দলকে চমকে দেব।”

”যারা ব্যাটিং অর্ডারে নিচে ব্যাট করে, তাদের সামনেও সুযোগ আসবে ওপরের দিকে ব্যাট করার।”

”বুধবার যারা খেলার সুযোগ পায়নি, তাদের শুক্রবার খেলানো হবে।”

”এই সিরিজে সবাইকে সুযোগ দেওয়া হবে। টিম ম্যানেজমেন্ট আর আমি অধিনায়ক হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কোনও রহস্যের ব্যাপার নেই। আমরা সবাইকে ম্যাচ খেলার সময় দিতে চাই”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: