বিশ্বজয়ের পর দ্রাবিড় আবেগ ধরে রাখতে না পেরে যা বললেন, শুনলে চোখে জল আসবে

দলের ছেলেদের জন্য আমি গর্বিত। সাপোর্ট স্টাফরা খুব ভাল কাজ করেছেন। (দ্রাবিড় যখন কথাগুলো বলছেন, তখন পিছনে তাঁর দলের ছেলেরা উচ্ছ্বাসে মাতছেন)। ১৪ মাস ধরে আমরা এই দিনটা দেখার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছি। কাজটা সহজ ছিল না। তাই আরও ভাল লাগছে। ওরা সত্যি বিশ্বজেতার দাবিদার। ওদের জন্য আমার গর্ব আর খুশিতে ভরে যাচ্ছি। জানি ওরা কতটা কষ্ট করেছে। এই মুহূর্তটা ওরা আজবীন মনে রাখবে, আমরাও থাকবে। তবে এটাও বল, এটাই যেন ওদের শেষ বড় পরিচয় না হয়। এতে দায়িত্বটা বাড়ল ওদের ওপর। এবার ওদের আরও বড় চ্যালেঞ্জ। এই বিশ্বকাপ জেতার মতই ওদের আরও একটা বড় অভিজ্ঞতা হল, কী করে মাথা ঠান্ডা রেখে ম্যাচ জেতাতে হয়। এই দলটার সবাই প্রতিশ্রুতিবান। এত ভাল একটা দলের কোচিং করানোটা দারুণ অভিজ্ঞতা। সাপোর্ট স্টাফরা দারুণ কাজ করেছে। দলটার ৭-৮ জন একসঙ্গে গত ১৪ মাস ধরে বিশ্বজয়ের শপথ নিয়েছে। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করেছে দেশের পতাকা ওড়ানোর। সেই চেষ্টাটা রঙ লাগলো বললে ভাল লাগল।

বিশ্বজয়ের জন্য পৃথ্বী সাউয়ের দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সচিন তেন্ডুলকর। সচিন অভিনন্দন বার্তায় জানালেন, তোমাদের জন্য গর্বিত। তোমরা দেশের পতাকা উঁচুতে নিয়ে গেলে। অনিল কুম্বলে থেকে মহম্মদ কাইফরাও পৃথ্বী শাউদের অভিনন্দন দিলেন।

এদিকে, অভিনন্দন বার্তার পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডে আজ ফাইনাল ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেটে হারিয়ে চতুর্থবারের জন্য অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার খুশি ছোট ভারতীয় দলের ক্রিকেটার-কোচ-সাপোর্ট স্টাফদের মোটা টাকার পুরস্কার দিল বোর্ড৷ বিশ্বজয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত বোর্ডের ‘কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস’এর তরফে তড়িঘড়ি ক্রিকেটার, কোচ ও সাপোর্ট স্টাফদের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়৷ কোচ রাহুল দ্রাবিড়কে ৫০ লক্ষ ও দলের সব ক্রিকেটারদের ২৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।

তৃতীয়বারের চেষ্টা বিফল হল না। বিশ্বকাপ জিতলেন রাহুল দ্রাবিড়। অনুর্ধ্ব ১৯ দলের কোচ হিসেবে ভারতীয় জুনিয়র দলকে বিশ্বসেরা করলেন দ্রাবিড়। শনিবার বে ওভালের মাঠে অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হল পৃথ্বী শাউয়ের দল। এবার নিয়ে মোট চারবার অনুর্ধ্ব ১৯ ছোটদের বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হল ভারত।

প্রথমে ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়ার ছোটরা করে ২১৬ রান। জবাবে ২ উইকেটে ৩৯ ওভারে সেই রান তুলে নেয়। অপরাজিত সেঞ্চুরি করে ফাইনালের নায়ক বনে গেলেন দিল্লির ১৯ বছরের ব্যাটসম্যান মনোজত কালরা। বল হাতে নায়ক বাংলার চন্দননগরের পেসার ইশান পোড়েল। ইশান ৩০ রানে নেন ২ উইকেট। শিবা সিং, কমলেশ নাগারকোটি-রা দুটি করে উইকেট নেন। ৪ উইকেটে ১৮৩ থেকে অস্ট্রেলিয়ার শেষ ৬টি উইকেট চলে যায় ৩৩ রানের মধ্যে।

জবাবে অধিনায়ক পৃথ্বী সাউ-(২৯)এর উইকেট হারালেও প্রথমে শুভমন গিল (৩১), তারপর হার্ভিক দেশাই (৪৭ অপ)-কে নিয়ে সঙ্গে নিয়ে অনায়াসে ৬৭ বল বাকি থাকতে দলকে জেতানে মনজোত কালরা (১০২ বলে ১০১ অপরাজিত)। পুরো টুর্নামেন্টে সব কটা ম্যাচ জিতে বিশ্ব জিতল ভারতের ছোটরা। পৃথ্বী সাউ, কালরা, শুভমিন গিল, শিবম মাভি, অঙ্কুশ রায়, ইশান পোড়েল, কমলেশ নাগারকোটি,শিবা সিং। দ্রাবিড়ের দল থেকে আগামী দিনের তারকা হওয়ার মশলা মিলল। ২০১৬ সালে এই অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে হেরেছিল ভারত। সেবারও দ্রাবিড় কোচ ছিলেন। আর খেলোয়াড় হিসেবে ২০০৩ আইসিসি বিশ্বকাপে সৌরভ গাঙ্গুলির নেতৃত্বে খেলে বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরেছিলেন। সেই অস্ট্রেলিয়ার ছোটদের হারিয়ে কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জিতে দুধের স্বাদ ঘোলে হলেও মেটালেন দ্রাবিড়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: