ধোনির বিরুদ্ধে ওঠা সবচেয়ে বড় যে পাঁচটা অভিযোগ, যার জন্য অনেকেই তাঁকে পছন্দ করেন না

তিনি দেশের মহাতারকা ক্রিকেটার। দেশকে দুটো ফরম্যাটে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করা অধিনায়ক। উইকেটের পিছনে গ্লাভস হাতে নানা বিশ্বরেকর্ড রয়েছে। ব্যাট হাত তাঁর মত ফিনিশার, ম্যাচ উইনার কমই আছে। বলিউডে তাঁর জীবনী নিয়ে সিনেমা হলে সাড়া পড়ে যায়। কিন্তু এরপরেও কেন ধোনিকে অনেকেই পছন্দ করেন না। কেন ধোনির হেটার্স ক্লাবে মেম্বার অনেক। কেন ধোনিকে নিয়ে মাঝেমাঝেই বিতর্ক হয়েছিল–

৫) ম্যাচ গড়াপেটায় জড়িত থাকার অভিযোগ

চেন্নাই সুপার কিংসের মালিক শ্রীনিবাসনের জামাই আইপিএলে ম্যাচ গড়াপেটায় অভিযুক্ত হয়ে জেল খাটেন। শ্রীনির জামাইয়ের বিরুদ্ধে ওঠা গড়াপেটার অভিযোগ প্রমানিত। শ্রীনি-র গুণধর জামাই গুরুনাথ মায়াপ্পন ম্যাচ গড়াপেটায় জড়িয়ে ধোনিকেও কাঠগড়ায় তুলেছিলেন। ধোনি ছিলেন চেন্নাই সুপার কিংসের অধিনায়ক। ধোনিকে বহুবার গুরুনাথের সঙ্গে ম্যাচ চলাকালীন ডাগ আটে কানে কানে কথা বলতে দেখা গিয়েছে। এত বড় গড়াপেটা কেলেঙ্কারি হল আর ধোনি কিছু জানেন না সেটা হয় না কি। ২০১৪ সালের ইংল্যান্ড সফরে নাকি ঘটেছিল ধোনি ম্যাচ গড়াপেটায় জড়িয়ে ছিলেন। সেই সময় দলের ম্যানেজার স্বয়ং সুনীল দেব এই অভিযোগ এনেছেন। সেই ম্যানেজারের বক্তব্য অনুযায়ী ওই সিরিজে ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টে টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছিল ভারত। কিন্তু ম্যাচ শুরুর আগে আবহাওয়া ও উইকেট দেখে টিম মিটিংয়ে ফিল্ডিং নেয়ার কথা হয়েছিল। কিন্তু ধোনির সিদ্ধান্ত সেই সময় সবাইকে অবাক করেছিল। যার ফলে সেই ম্যাচ ইনিংস ও ৫৪ রানে হেরেছিল ভারত।

প্রথম ইনিংসে ১৫২ রানে অল-আউট হয়ে যায় ভারত। দিল্লির এক দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনই দাবি করেছিলে সেই ম্যানেজার। সেই ম্যানেজার এও দাবি করেছেন, শুধু ওই ম্যাচেই নয় আরো অনেক ম্যাচেই বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ধোনি যেটা বেশ রহস্যজনক। এছাড়াও তৎকালীন বোর্ড সভাপতি এন শ্রীনিবাসনকেও এই তথ্য জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তিনি শোনার পর আর কোনো পদক্ষেপ নেননি। এর ফলেই এই নিয়ে আর পরে মুখ খোলেনি সুনীল। তিনি এমনও জানিয়েছেন, প্রাণের ভয়েই নাকি তিনি আর এই বিষয়ে এতদিন কিছু বলেননি। আইপিএল-এর ম্যাচ গড়া-পেটার তদন্তের দায়িত্বে থাকা বিচারক মুকুল মুদগল সুনীলের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।

৪) শ্রীনিবাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতায় অন্যায় সুবিধা আদায়


ততকালীন বোর্ড সভাপতি শ্রীনিবাসনের কাছে থেকে বহু সুবিধা নেন ধোনি। আবার ধোনির কাছেও থেকে সুবিধা নিতেন শ্রীনি। ধোনির দ্বৈত ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ওঠে৷ ধোনি তো শুধু ২০০৮ থেকে চেন্নাই সুপার কিংসের ক্যাপ্টেন নন, একই সঙ্গে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ইন্ডিয়া সিমেন্টসের ভাইস প্রেসিডেন্টও বটে৷ স্বার্থের সঙ্ঘাতের বিষয়টি যে আদালতে সব ছাপিয়ে এত বড় হয়ে উঠবে, ভাবেননি শ্রীনিবাসন বা বোর্ডের আইনজীবীরা৷ আদালতে বিচারপতিরা জানতে চান, কারা ইন্ডিয়া সিমেন্টসের প্রকৃত মালিক, বোর্ডে কারা আছেন আর ২০০৮ সালে আইপিএল শুরুর আগে কার সিদ্ধান্তে ৪০০ কোটি টাকা দিয়ে কেনা হয় চেন্নাই সুপার কিংস?

ইন্ডিয়া সিমেন্টস ও চেন্নাই সুপার কিংসের শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়েও জানতে চায় আদালত৷ ধোনি বহুদিন ধরেই ইন্ডিয়া সিমেন্টস লিমিটেড-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। তাই সেখানে গিয়ে কর্মচারীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি সিনিয়র ম্যানেজমেন্টের সঙ্গেও দেখা করেন। অফিসের জিমেও গিয়েছিলেন। তবে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ এন শ্রীনিবাসনের সঙ্গে তাঁর বৈঠক। এমনকী এদিন কোম্পানির কর্মচারীদের সঙ্গে সেলফিও তোলেন তিনি। তবে এই নিয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করতে চায়নি বিশেষজ্ঞ মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: