আইপিএল ২০১৮ : একাদশ মরশুমের ব্যর্থ পাঁচ মহাতারকা, ফ্র্যাঞ্চাইজির খরচ বিপুল

একাদশ আইপিএল ক্রিকেট মরশুমে ৫৬ ম্যাচের লিগ পর্ব শেষে তিনটি দল – সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, চেন্নাই সুপার কিংস  ও কলকাতা নাইট রাইডার্স প্লে-অফ গর্বে জায়গা করে নেয় তাদের সুনাম অনুযায়ী। আর চতুর্থ দল হিসেবে রাজস্থান রয়্যালসের প্লে-অফে যাওয়াটা একেবারেই আশ্চর্য ছিল। আর তা সম্ভব হয়েছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের ব্যর্থতার কারণে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর ও দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের হতাশ করাটা প্রত্যেক বছরের মতো এবারও ছিল। তবে, আইপিএল ক্রিকেটের ইতিহাসে আরসিবি টিমের রেকর্ড ডেয়ারডেভিলসের তুলনা অনেকটাই ভালো।

তিনবার ফাইনালে যাওয়া টিম আরসিবি। কিন্তু, ২০১৮ মরশুম দুই টিমেরই পারফর্ম্যান্স অত্যন্ত খারাপ। শেষ পর্যন্ত প্লে-অফে চারদলের লড়াই মেটার পর ফাইনালে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে সেকন্ড বেস্ট প্রমাণ করে বেস্ট ভারসেস বেস্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেন্নাই সুপার কিংস জয়ী হয়ে ট্রফি দখল করেছে।

এবারের আইপিএল ক্রিকেট অনেককেই ভুল প্রমাণিত করেছে। আবার অনেককে অবাক করেছে। গতবছর যারা দামি ক্রিকেটার ছিলেন, এবছর তাঁরা সুপার ফ্লপ। আবার অনেকে কম দাম পেয়েও ভালো খেলেছেন। আবার অনেককে খরচের খাতায় ফেলে দেওয়া হলেও, তাঁরা ভালো খেলে নিজের জাত চিনিয়ে দিয়েছেন। আট দলের এই লড়াইয়ের আগে প্রতিবছরের মতো এবারও অকশন বসেছিল ক্রিকেটার কেনা-বেচার জন্য। এবারই সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ দেখিয়েছে আইপিএলের অকশন। অনেকে এতোটাই দাম পেয়েছেন, যা কল্পনাতীত। সেই তারাই ব্যর্থ হয়েছেন পরীক্ষার মঞ্চে। এমনই পাঁচ ক্রিকেটারকে নিয়ে এই প্রতিবেদন।

টাকার অঙ্কে ব্যর্থতার শিখরে পাঁচ মহারথী –

৫. অ্যারন ফিঞ্চ (কিস ইলেভেন পাঞ্জাব) – ৪.৬২ লক্ষ

ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভ স্মিথদের অনুপস্থিতিতে অ্যারন ফিঞ্চকে নিয়ে এবার আইপিএল ক্রিকেটে বেশ আশা ছিল। কিন্তু, প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হন অজি তারকা। বিয়ের কারণে প্রথম ম্যাচে অংশ নিতে পারেননি। তারপর লিগ পর্বে একটানা খেলানো হলেও দলকে খরচের অর্থ পুষিয়ে দিতে পারেননি একেবারেই।

Canberra : Australian batsman Aaron Finch puts his arms in the air as he celebrates hitting a century during a One Day International cricket match against India in Canberra, Australia, Wednesday, Jan. 20, 2016. AP/PTI(AP1_20_2016_000170A)

একাদশ আইপিএলের জন্য ফিঞ্চকে ৬ কোটি ২০ লক্ষ ভারতীয় মুদ্রা দিয়ে টিমে আনে কিংস ইলেভেন ফ্র্যাঞ্চাইজি। ১০টি ম্যাচে পাঞ্জাব দলের মিডল অর্ডারে খেলে মাত্র ১৩৪ রান দেন। তার মধ্যে ৪৬ রান সর্বাধিক। ওই ইনিংসটি আবার এমন সময় খেলেন যখন লিগের একেবারে শেষের দিকে টিম ধুঁকছে। টিম ওই ম্যাচেও হারে। একাদশ আইপিএলে এক রান পিছু ফিঞ্চের জন্য ৪ লক্ষ ৬২ হাজার ৬৮৬ টাকা খরচ করেছে প্রীতি জিন্টার টিম।

 

৪. মণীশ পান্ডে (সানরাইজার্স হায়দরাবাদ) – ৩.৮৭ লক্ষ

সানরাইজার্স হায়দরাবাদ টিমের এবার লিগ পর্বে প্রথম স্থানে থাকা, আর ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার সব কৃতিত্বই দলের বোলার এবং অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের নেতৃত্ব ও ব্যাটিংয়ের কারণে। দলের ব্যাটসম্যানরা এবার হতাশ করেন। সেই ভিড়ে আরেক নাম টিম ইন্ডিয়ার বর্তমান সদস্য মণীশ পান্ডে। এবার তাঁকে ১১ কোটি ভারতীয় মুদ্রার বিনিময়ে কেনে সানরাইজার্স। ১৫ ম্যাচে দামি তারকার অবদান ২৮৪ রান। মণীশের পিছনে রান প্রতি ৩ লক্ষ ৮৭ হাজার ৩২৩ টাকা খরচ হয়েছে।

 

৩. বেন স্টোক্স (রাজস্থান রয়্যালস) – ৮১.৩১ লক্ষ

গত বছরও অকশনের সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার ছিলেন। এবছর তিনি সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার। বিক্রয় মূল্য যেমন ভারতীয় মুদ্রায় গতবারের তুলনায় ২ কোটি কম ছিল এবার, তেমনই পারফর্ম্যান্সও নিম্নমুখী ছিল ইংলিশ তারকার। গত বছর রাইজিং পুনে সুপার জায়ান্টসের হয়ে ব্যাট ও বলহাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে বেনকে এবার সাড়ে বারো কোটি দিয়ে অনেক আশা করে টিমে আনে রাজস্থান রয়্যালস। কিন্তু, এবার দু’বিভাগেই ব্যর্থ ইংলিশ তারকা। ১৩টি ম্যাচে ব্যাটহাতে মাত্র ১৯৬ রান আর বলহাতে মাত্র ৮টি উইকেট। যেহেতু বেন স্টোক্স অলরাউন্ডার, সেই কারণে তাঁর বিক্রয় মূল্যকে অর্ধেক করা হলো ব্যাটিং ও বোলিংয়ের বিচারে। সাডে বারো কোটির অর্ধেক হলো ৬ কোটি ২৫ লক্ষ ভারতীয় মু্দ্রা। অর্থাৎ রান পিছু রাজস্থান স্টোক্সের জন্য ৩ লক্ষ ১৮ হাজার ৮৭৭ টাকা খরচ করেছে। আর উইকেট পিছু খরচ দাঁড়াচ্ছে ৭৮ লক্ষ ১২ হাজার ৫০০ টাকা। এবার দু’টি মেলালে স্টোক্সের পিছনে এবার রান ও উইকেট মিলিয়ে খরচের বহর দাঁড়াচ্ছে ৮১ লক্ষ ৩১ হাজার ৩৭৭ টাকা।

 

২. গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (দিল্লি ডেয়ারডেভিলস) – ৯২.৬৬ লক্ষ

সীমিত ওভারের ফর্ম্যাটে অন্যতম বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এই অজি তারকা। আইপিএল ক্রিকেটে ডেভিড মিলারের সঙ্গে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের হয়ে সেরা বছর ছিল ২০১৪। এবার দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের ঘরে আসেন ম্যাক্সওয়েল। ন’কোটি ভারতীয় মুদ্রায় বিক্রয় হন। ২০১৮ আইপিএলে খুব খারাপ পারফরম্যান্স করে দিল্লি। প্রথম দিকে একটানা ম্যাচ হারার ফলেই আরও চাপে পড়ে যায়। কঠিন মুহূর্তে টিমের সিনিময় ক্রিকেটারের নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়া, ভালো বোলারের অভাব, সব মিলিয়ে এবার ঘেঁটেছিল টিম। ব্যর্থ তারকাদের মধ্যে অন্যতম নাম গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। অজি তারকা অলরাউন্ডার। টাকার অঙ্ক এই কারণে ভাগ করতে হচ্ছে। ৯ কোটির অর্ধেক হলো ৪ কোটি ৫০ লক্ষ্য। ব্যাটহাতে ১২ ম্যাচে ১৬৯ রান করেন অজি তারকা। অর্থাৎ দিল্লি তার জন্য রান প্রতি ২ লক্ষ ৬৬ হাজার ২৭২ টাকা খরচ করেছে। আর উইকেট প্রতি ম্যাক্সওয়েলের জন্য টিমের খরচ হয়েছে ৯০ লক্ষ টাকা করে। একাদশ আইপিএল ৫ উইকেট নেন অজি তারকা। তাহলো ম্যাক্সওয়েলের জন্য এবার রাজস্থানে খরচ দাঁড়াচ্ছে ৯২ লক্ষ ৬৬ হাজার টাকা।

 

১. জয়দেব উনাদকাট (রাজস্থান রয়্যালস) – ১.০৪ কোটি

২০১৭ মরশুম সফল, অথচ ২০১৮ মরশুমে সুপার ফ্লপ – এই তালিকায় রাজস্থান রয়্যালসের আরও এক ক্রিকেটার। গত বছর রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টসের হয়ে ২৪টি উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন দশম আইপিএল মরশুমের। এবার রাজস্থান রয়্যালস অনেক প্রত্যাশা নিয়ে উনাদকাটের জন্য সাড়ে এগারো কোটি ভারতীয় মুদ্রা খরচ করে। মেগা অকশনে বিক্রি হওয়া ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে উনাদকাট সবচেয়ে দামি ছিলেন একাদশ মরশুমে। আর টুর্নামেন্ট শেষে তিনিই সবচেয়ে হতাশ করা তারকা। এবার ১৫টি ম্যাচে মাত্র ১১টি উইকেট এনে দেন টিমকে উনাদকাট। রাজস্থান উইকেট প্রতি ১ কোটি চার লক্ষ ৫৪ হাজার ৫৪৫ টাকা খরচ করেছে জয়দেবের জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: