হনুমা বিহারি ও মায়াঙ্ক আগারওয়াল ভেঙে দিলেন ৮২ বছরের পুরানো রেকর্ড!

এবারের বর্ডার-গাভাসকর ট্রফি, অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়া বনাম ভারতের টেস্ট সিরিজে রেকর্ডের ছড়াছড়ি হচ্ছে। অ্যাডিলেডে প্রথম টেস্ট জিতে রেকর্ড করেছিল ভারত কারণ এই প্রথম কোনও ভারতীয় দল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতে নেয়। ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে বিরাট কোহলি তো একের পর এক রেকর্ড ভেঙেই চলেছেন ক্যাঙ্গারুদের দেশে। দ্বিতীয় টেস্টে ভারত ১৪৬ রানে হেরে গেলেও প্রথম ইনিংসে দুরন্ত শতরান করেছিলেন বিরাট। তৃতীয় টেস্টে ফের একবার রেকর্ড বইয়ে নাম তুলল ভারত। তবে এই রেকর্ডটা নিয়ে যে প্রশংসার বন্যা বইবে না তা বলাই বাহুল্য। দুর্বলতা ঢাকতে গিয়ে ৮২ বছরের রেকর্ড ভেঙে গেল।

গত দুই টেস্টে ভারতের মাথাব্যথার বিশেষ কারণ হয়ে উঠেছিল ভারতীয় ওপেনারদের জঘন্য ফর্ম। কে এল রাহুল চারটে ইনিংসে করেছেন যথাক্রমে ২, ৪৪, ২ এবং শূন্য। মুরলী বিজয়ের রানের খতিয়ান যথাক্রমে ১১, ১৮, শূন্য এবং ২০। এখনও অবধি সেরা ওপেনিং পার্টনারশিপ ৬৮ রানের যেখানে অজি ওপেনারদ্বয় মার্কাস হ্যারিস এবং অ্যারন ফিঞ্চ ১১২ রানের পার্টনারশিপ খেলে দিয়েছেন। ওপেনাররা এতটাই ব্যর্থ যে চারটে ইনিংসের মধ্যে তিনটেতেই প্রথম চার ওভারের মধ্যে ওয়ান ডাউন চেতেশ্বর পূজারাকে ব্যাট করতে নামতে হয়েছে। বাধ্য হয়ে ময়াঙ্ক আগরওয়ালকে দেশ থেকে মেলবোর্ন টেস্টের আগে উড়িয়ে আনা হয়েছে। আজ টসে জিতে ভারত ব্যাট নিলে দেখা যায় ময়াঙ্কের সঙ্গে ওপেন করতে নামছেন হনুমা বিহারী।

এখানেই হয় রেকর্ডের সৃষ্টি। শেষবার ১৯৩৬ সালে বিজয় মার্চেন্ট এবং দত্তারাম হিন্দলেকর, দুজনেই একসঙ্গে প্রথমবার টেস্টে ওপেন করেন। ময়াঙ্ক তো আজ অভিষেক করলেন, হনুমাও প্রথমবার টেস্টে ওপেন করতে নামলেন। এবং মার্চেন্ট আর হিন্দলেকরের রেকর্ডে ভাগ বসালেন। যদিও ভারতের নিয়মিত দুই ওপেনার ফর্মে থাকলে এসব হত না। আর তাছাড়া ওপেনিং এমন একটা পোজিশন যেখানে বেশি নাড়াঘাঁটা চলে না। অভিষেকেই ৭৬ রানের দারুণ ইনিংস খেলেছেন ময়াঙ্ক। হনুমা বিহারী মাত্র ৮ রান করলেও ৬৬টা ডেলিভারি সামলে গেছেন। দিনের শেষে দুই উইকেট হারিয়ে ভারত ২১৫ রান জমা করেছে। পূজারা ৬৮ এবং কোহলি হাফ সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৩ রান দূরে অপরাজিত আছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: