ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের ভেলা অবস্থার মজা ওড়ালেন হরভজন!

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভারতের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিল রাজকোটে। সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই টেস্ট। কিন্তু বিরাট কোহলির নেতৃত্বাধীন ভারতের কাছে ফলো-অন বাঁচাতে না পেরে হার সহ্য করতে হল এই উইন্ডিজ দলকে।

ক্রেগ ব্রেথওয়েটের নেতৃত্বাধীন উইন্ডিজ দলকে এই টেস্টের প্রথম দিন থেকেই দুর্বল মনে হয়েছে। ভারত টসে জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকে কিছুই ভালো হয়নি উইন্ডিজদের জন্য। সিরিজ শুরুর আগেই কেমার রোচ এবং জেসন হোল্ডারের মতো খেলোয়াড়দের বিভিন্ন কারণে দলে পায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। স্বাভাবিকভাবেই এই দুই বোলারের অনুপস্থিতি ভুগিয়েছে তাদের বোলিং ডিপার্টমেন্টকে। আর যেখানে ভারতের ব্যাটিং লাইন আপে রয়েছেন বিরাট কোহলি, চেতেশ্বর পুজারা, রাহানেদের মতো টেস্টের তাঁবর তাঁবর ব্যাটসম্যান, সেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের খারাপ দশাই হওয়াটাই স্বাভাবিক। সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন কোহলি, জাদেজা, এমনকি জীবনের প্রথম টেস্ট খেলতে নামা পৃথ্বীও। রীসভ পান্ত সেঞ্চুরির খুব কাছাকাছি গিয়েও আউট হয়ে যান ৯২ রানে।

প্রথম ইনিংসেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে ৬৪৯ রানের এক পাহাড় দাঁড় করিয়ে দেয় ভারত। জাদেজা তাঁর টেস্ট কেরিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটা করার পরই ডিক্লিয়ার দেয় ভারত। জবাবে ব্যাটিং করতে নেমে উইন্ডিজদের কেউই ক্রিজে বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেনি। তারা খেলেছে মাত্র ৪৮ ওভার, দলের স্কোর ১৮১ রানে অল আউট। উইন্ডিজদের ব্যাটিংয়ের শেষের পর্যায়ে রোস্তন চেজ এবং কীমো পাল  ৪৭ বলে ৫৩ রানের পার্টনারশিপটা যদি না করত, তবে আরও আগেই শেষ হয়ে জেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস। উইন্ডিজদের ফলো অন দিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ফের ব্যাটিং করতে পাঠায় ভারত, এই ফলো অন কাটিয়ে তুলতে তখনও তাঁদের দরকার ছিল আরও ৪৬৮ রান। জবাবে তাদের ইনিংস মাত্র ১৯৮ রানেই গুটিয়ে যায়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের ক্রিকেটের পরিস্থিতির মান যে এখন নিম্নমুখী, তা ম্যাচের ফলাফলেই স্পষ্ট। উইন্ডিজদের এরকম অবস্থা দেখে শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের বিখ্যাত ধারাভাষ্যকার হারশা ভোগলে এবং ভারতের প্রাক্তন অফ-স্পিনার ‘টারবুনেটার’ হরভজন সিং।

নিজের টুইটার হ্যান্ডেল থেকে হারশা ভোগলে বর্তমান উইন্ডিজ দলের পরিস্থিতি নিয়ে একটা টুইট করেন। ভাজ্জি সেই টুইটেই রিপ্লাই করে লিখেছেন,

‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের এরকম পরিস্থিতি দেখে সত্যিই খারাপ লাগছে। এমনও একটা সময় ছিল যখন যে কোনও দল তাদের বিরুদ্ধে খেলেতে ভয় পেত। আশা করব তারা যাতে কিছু ভালো খেলোয়াড়ের খোজ পায় এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আগের মতোই লড়াই দেখাতে পারে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: