আইসিসি থেকে চরম সতর্কবার্তা দেওয়া হলো বিসিসিআই কে!

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচ আয়োজনের খুশির রেশ মেটার আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের কাছে কড়া ধমক খেল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। গত বৃহস্পতিবার (১৪ জুন) বেঙ্গালুরুরর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ভারত ও আফিগানিস্তানের মধ্যে সিরিজের একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি শুরু হয়। মাত্র দু’দিনেই শেষ হয়ে যাওয়া এই টেস্ট ম্যাচের মধ্যে দিয়েই পাঁচ দিনের আসরে প্রবেশ করল আফগানিস্তান ক্রিকেট। এতোদিন তাদের ক্রিকেট দল শুধু সীমিত ওভারের ক্রিকেটেই অংশ নিত। আফগানিস্তান আইসিসি’র স্বীকৃত পাওয়া বারোতম টেস্ট খেলিয়ে দেশ।

বেঙ্গালুরুতে হওয়া টেস্ট ম্যাচে দুই দল দুর্দান্ত স্পিরিট দেখালেও, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্তার আচরণে ক্ষুব্ধ হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা। আফগানিস্তানের অভিষেক টেস্ট ম্যাচ নিয়ে গোটা ক্রিকেট দুনিয়ার নজর ছিল ভারতের দিকে। সেই গুরুত্বের কথা বিচার করলে, সংশ্লিষ্ট ওই বিসিসিআই কর্তার আচরণে ভুল বার্তা গেল ক্রিকেট দুনিয়ার কাছে।

ভারত ও আফগানিস্তান টেস্ট চলাকালীন, ম্যাচ সম্প্রচারের দায়িত্বে থাকা স্টার স্পোর্টসের টিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে যে ভারতীয় ক্রিকেট দলের টিম ম্যানেজার সুনীল সুব্রমণিয়ম টিম ইন্ডিয়ার ড্রেসিং রুমে মোবাইল নিয়ে বসে আছেন। এমনকী, ওই টেস্ট ম্যাচে ভারতীয় দলের প্রথম একাদশে থাকা শীর্ষ সারির এক ব্যাটসম্যানকে মোবাইলে কিছু দেখানোরও চেষ্টা করছিলেন টিম ম্যানেজার।

আইসিসি’র নিয়ম অনুযায়ী এরকম করা যায় না। কোনও ম্যাচ চলাকালীন কোনও টিমের ড্রেসিং রুমের ভিতর মোবাইলের মতো যোগাযোগে ব্যবহারকারী ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ করা নিষিদ্ধ। সব জানা সত্ত্বেও ভারতীয় ক্রিকেট দলের টিম ম্যানেজারের এই আচরণে তাদের নিয়ম উলঙ্ঘিত হয়েছে বলে মনে করছে আইসিসি।

আইসিসি’র বিধিনিষেধে বলা আছে-

”বিশেষ দরকার ছাড়া, পিএমওএ (প্লেয়ার্স আর ম্যাচ অফিসিয়ালরা যেখানে থাকবেন) এলাকায় কোনওরকম কমিউনিকেশন ডিভাইস ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। বিশেষ দরকারের বিষয়টি বাদ দিয়েই বলা হচ্ছে, কোনও খেলোয়াড়ই বাইরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা যায় এমন কোনও যন্ত্র (মোবাইল বা ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়া কোনও যন্ত্র) নিজের কাছে রাখতে পারবেন না।”

২০১১ সালে আইসিসি ক্রিকেটারদের ড্রেসিং রুমে মোবাইলের ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে দেয়। ক্রিকেটে যেভাবে নিত্যদিন ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিংয়ের কুপ্রভাব পড়ছে, তা আটকাতেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার এই কড়া পদক্ষেপ।

আইসিসি’র দুর্নীতিদমন শাখার নিয়ম মেনে বোর্ড তাদের ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফদের ওপর এই নিয়ম লাগু করে। যদি কেউ এই নিয়ম উলঙ্ঘন করে ড্রেসিং রুম এলাকায় যোগাযোগ সংযোকারী যন্ত্র ব্যবহার করে, তাহলে তাকে সাজার কবলে পড়তেই হবে।

বিধিনিষেধ আরোপের সময় আইসিসি তাদের বিবৃতিতে বলেছিল –

”ফেডারেশন অফ ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটার্স’ অ্যাসোসিয়েশন (ফিকা) সমর্থিত এই বিধিনিষেধ উলঙ্ঘন হলে সাজার কবলে পড়তে হবে, আর্থিক জরিমানাসহ।”

খবরে প্রকাশ, বিসিসিআই বলেছে, ড্রেসিং রুমের ভিতর টিম ম্যানেজার ওপর মোবাইল ব্যবহার করার কোনও রকম বিধিনিষেধ নেই। যাইহোক, আইসিসি’র দুর্নীতি দমন শাখা সুনীল সুব্রমণিয়মের সঙ্গে তৎক্ষণাত যোগাযোগ করে এবং তাঁকে বলা হয়েছে, ড্রেসিং রুমের ভিতর এই ধরণের আচরণ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

উল্লেখ্য, গত মাসেই আইসিসি কয়েকজন পাকিস্তানি ক্রিকেটারকে একই ধরণের আচরণের জন্য সতর্ক করে দেয়। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ চলাকালীণ কয়েকজন পাক ক্রিকেটার স্মার্ট ওয়াচ পরে ড্রেসিং রুমে বসেছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: