দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের জন্য ঘোষিত ১৭ সদস্যর ভারতীয় দল!

উপমহাদেশ এবং ঘরের মাটিতে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করলেও টিম ইন্ডিয়ার জন্য় আসল পরীক্ষা অপেক্ষা করছে ২০১৮ সালে। তিনটি বিদেশ সফর। দক্ষিণ আফ্রিকায় সফর দিয়ে অ্য়াসিড টেস্ট শুরু। বিরাট কোহলি কতো বড় মাপের নেতা এবং এই ভারতীয় দলটা কতটা চ্য়ালেঞ্জ নিতে তৈরি, সেটা প্রমাণ হয়ে যাবে আগামী বছরে। আর তার ওপরেই নির্ভর করছে ২০১৯ বিশ্বকাপে কতটা সাফল্য় পাবে, তার আগাম আভাস। শ্রীলঙ্কা সিরিজের শেষ টি-২০ ম্য়াচটি ২৪ ডিসেম্বর খেলার পর ২৬ ডিসেম্বর প্রোটিয়াদের দেশে রওনা দেবে ভারত। পাঁচ তারিখ থেকে শুরু হবে টেস্ট সিরিজের পর্ব। তার আগে দু’টি ওয়ার্ম আপ ম্য়াচে অংশ নেবে ভারতীয় দল।

বিরাট কোহলি নেতা হওয়ার পর থেকে ভারত টেস্ট সিরিজ খোয়ায়নি কোনও। দেশ এবং এই উপমহাদেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্য়ান্ড, ইংল্য়ান্ড, বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, আবার শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে ভারত। চেনা পরিবেশে জয়টা যে ফ্লুক নয় এবং ভারত যে সত্য়িকারের টেস্টের আসরে এক নম্বর টিম হওয়ার দাবিদার, সেটা দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রমাণ করতে মরিয়া অধিনায়ক বিরাট নিজেও। আর সেই কারণেই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে চলতি সিরিজে সবুজ উইকেটে খেলছে ভারত। দলের ক্রিকেটারদের ভালো করে পরখ করে নিয়ে একটা কোর টিম নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা উড়ে যেতে চান বিরাট ও হেডকোচ রবি শাস্ত্রী।

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের ভারতীয় টেস্ট দল –

ওপেনার

১. কান্নুর লোকেশ রাহুল

সীমিত ওভারের সফলতা না পেলেও টেস্টে আসরে কর্নাটকের এই ক্রিকেটারটি নিজের জায়গা পাকা করে ফেলেছেন বলাই চলে। অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ছ’টি হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন একটানা। দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে তাঁকে দরকার ভারতীয় দলে।

২. শিখর ধওয়ন

ভারতীয় টেস্ট দল থেকে বাদ পড়ার পর আবার দলে ফিরেছেন দিল্লির এই বাঁহাতি জাট ক্রিকেটারটি। শ্রীলঙ্কায় গিয়ে সিরিজ সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছিলেন। ইদানিং পারিবারিক কারণে বোর্ডের থেকে ছুটি চেয়ে বারবার ক্রিকেট থেকে সাময়িক বিরতি নিলেও, শিখর দক্ষিণ আফ্রিকা যাচ্ছেন এটা নিশ্চিত করে বলা যায়। ধওয়ন ভালো ফর্মে আছেন।

৩. মুরলি বিজয়

ভারতীয় দলে বিজয় খেলছেন অনেকদিন হলো। মাঝে চোটের কারে ছিটকে গিয়েছিলেন। তবে, আবার ফিরে এসেছেন। ভারতীয় দলে স্পেশালিস্ট ওপেনার বলতে বিজয়কে সবার আগে এগিয়ে রাখতে হবে। নাগপুর টেস্টে ১২৮ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার দাবি আরও জোরদার করে নিয়েছেন মুরলি।

মিডল-অর্ডার

৪. চেতেশ্বর পূজারা

বর্তমানে টেস্টের আসরের সেরা ব্য়াটসম্য়ান। দ্রাবিড়ীয় ঘরানার এই ব্য়াটসম্য়ানকে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ভারতীয় দলে অবশ্য়ই দরকার। পূজারার মতো একজনকে দরকার যিনি একটা প্রান্ত আগলে রেখে ব্য়াট করে যেতে পারবেন এবং প্রয়োজনে ব্য়াটিং গিয়ার চেঞ্জ করতে পারবেন দ্রুত রান তুলতে।

৫. বিরাট কোহলি

আবারও বলতে হচ্ছে, বিরাটের ওপর নজর থাকবে। নেতা হিসেবে তিনি চাপে তো থাকবেনই। সেই সঙ্গে টেস্টের আসরে বিরাটকে নিজের ব্য়াটিং নিয়ে ভাবতে হবে। ২০১৭ সালটা ভালো কাটলেও, নতুন বছর শুরু মানে নতুন মরশুম। গত মরশুমে কে কেমন ফর্মে ছিল, সেনিয়ে কিছু আসে যায় না। আবার শূন্য় থেকে শুরু করতে হবে। বিরাটের কাছে চ্য়ালেঞ্জের ব্য়াপার হলো, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তিনি যত বড় ব্য়াটসম্য়ানই হোক না কেন, কিংবদন্তি হিসেবে পরিচিত হতে হলে বিরাটকে টেস্টের আসরে ধারাবাহিকভাবে সফল হতেই হবে।

৬. অজিঙ্কা রাহানে

ভারতীয় টেস্ট দলের সহ-অধিনায়ক ওপেনিং স্লটে খেলতে অভ্য়স্ত। কিন্তু, জায়গা ফাঁকা না থাকায়, তাঁকে মিডল-অর্ডারে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। চলতি শ্রীলঙ্কা সিরিজে তেমন ফর্মে নেই। তবে, দক্ষিণ আফ্রিকায় রাহানেকে দরকার। চটপট উইকেট পড়ে গেলে ক্রিজে কামড়ে পড়ে থাকার মতো মানসিকতার ব্য়াটসম্য়ান চাই। কারণ, মারাকাটারি ক্রিকেট টেস্টের আসলে অচল।

৭. রোহিত শর্মা

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ভারতীয় দলে সহ-অধিনায়ককে ভবিষ্য়ত ভারত অধিনায়ক হিসেবে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে। টেস্টে ক্রিকেটে অনেকদিন পর ফিরে শতরান করেছেন। তাও ছ’নম্বরে নেমে। রোহিত দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে স্কোয়াডে থাকবেন। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ভালো খেলতে পারলে টেস্টের আসরে তাঁর জায়গা পাওয়া কেউ আটকাতে পারবেন না।

৮. ঋদ্ধিমান সাহা

উইকেটকিপার হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার দৌড়ে একমাত্র স্পেশালিস্ট তিনিই থাকবেন। মহেন্দ্র সিং ধোনি অবসর নেওয়ার পর গত তিন বছরে ঋদ্ধি নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছেন টেস্ট টিমে। লোকেশ রাহুল সঙ্গে থাকায় দ্বিতীয় উইকেটকিপার নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই সঙ্গে করে। ২০১৯ বিশ্বকাপে যেতে হলে আগামী তিনটি বিদেশ সফরে বাঙলার এই উইকেটকিপার ব্য়াটসম্য়ানটিকে ভালো খেলতে হবে। ধারাবাহিকভাবে বিদেশ সফরে সফলতা পেলে আচমকা একটা সুযোগ এসে যেতেও পারে ঋদ্ধির সামনে।

লোয়ার মিডল-অর্ডার (অলরাউন্ডার এবং স্পিনার)

৯. হার্দিক পান্ডিয়া

দক্ষিণ আফ্রিকা হার্দিকের পেস বোলিং দক্ষতা কাজে লাগবে। কারণ সবুজ পিচে অতিরিক্ত ফাস্ট বোলার হাতে থাকার সুবিধা পাবে ভারত। গত একবছরে হার্দিক দলের সম্পদ হয়ে উঠছেন। গত শ্রীলঙ্কা সফরে টেস্টের আসরে সফল হওয়ার মতো মানসিকতার সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। আর হার্দিকের মতো একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার দলে থাকায় একজন স্পেশালিস্ট ফাস্ট বোলার যেমন কম খেলাতে হবে, তেমনই প্রথম একাদশে স্পেশালিস্ট ফাস্ট বোলারদের লম্বা স্পেল না করিয়ে ছোটো স্পেলে ভেঙে ভেঙে ব্য়াবহার করা যাবে।

১০. রবিচন্দ্রন অশ্বিন

জোর করে সীমিত ওভারের ক্রিকেট থেকে তাঁকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন নিজেকে প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার না বলতে হলে টেস্টের আসরে যা সুযোগ আসবে, সেটাকেই কাজে লাগাতে হবে এই অফস্পিনারকে। ইংল্য়ান্ড গিয়ে কাউন্টি খেলা কতটা কজে লেগেছে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তার ঝলক দেখা যাবে। নাগপুরে টেস্টের আসরে দ্রুততম ৩০০ উইকেটের মালিক হয়েছেন অশ্বিন।

১১. রবীন্দ্র জাদেজা

BIRMINGHAM, ENGLAND – JUNE 15: Ravindra Jadeja of India celebrates dismissing Shakib Al Hasan of Bangladesh during the ICC Champions Trophy Semi Final between Bangladesh and India at Edgbaston on June 15, 2017 in Birmingham, England. (Photo by Gareth Copley/Getty Images)

অশ্বিনের মতো জাদেজারও একই হাল। নিজেকে ভারতীয় দলে খেলা ক্রিকেটার বলতে হলে টেস্টের আসরে প্রমাণ করে যেতে হবে একনাগাড়ে। নাগপুরে জাদেজা ভালো বল করে প্রমাণ করে দিয়েছেন, তাঁকে অকারণে সীমিত ওভারের ক্রিকেট থেকে ছেঁটে ফেলেছেন নির্বাচকরা।

পেস/ সিম বোলার

১২. মহম্মদ সামি

দক্ষিণ আফ্রিকায় মহম্মদ সামিকে দরকার। গত আড়াই বছরে বলহাতে সামি অপ্রতিরোধ্য়। দক্ষিণ আফ্রিকায় তাঁকে পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টের নেতার ভূমিকা নিতে হবে। সুইং এবং রিভার্স সুইং বলে সামির দক্ষতা বড় ফ্য়াক্টর হয়ে উঠবে সবুজ পিচে।

১৩. উমেশ যাদব

উমেশকেও জোর করে টেস্ট ক্রিকেটে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছেন নির্বাচকরা। দিল্লির এই ক্রিকেটার মূল সম্পদ তাঁর বলের গতি।

১৪.ভুবনেশ্বর কুমার

ইডেন টেস্টে ভুবি প্রমাণ করে দিয়েছেন, পাঁচদিনের আসরেও বল করার জন্য় তিনি তৈরি। নাগপুরে টেস্টে ভুবি অংশ পারেননি, বিয়ের কারণে। দক্ষিণ আফ্রিকার পিচে তাঁর সফল হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

১৫. ইশান্ত শর্মা

দিল্লিৎ এই পেসারটি ভারতায় ক্রিকেটের সম্পদ। কিন্তু, ধারাবাহিকতার অভাব তাঁকে দল থেক ছিটকে না দিলে আজ অন্য়তম বোলার হয়ে উঠতে পারতেন ক্রিকেট বিশ্বের। এখন শুধু টেস্টের আসরে জায়গা পান। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ইশান্তের লম্বা চেহারা এবং বাউন্সার বড় ভূমিকা নেবে।

১৬. জসপ্রীত বুমরাহ

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বুমরাহ ভারতীয় দলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন। এবার টেস্টের আসরে সফল হতে হবে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দলের পঞ্চম স্পেশালিস্ট ফাস্ট বোলার হিসেবে তাঁকে দেখা যেতে পারে। কিন্তু, ওদিকে হার্দিক দলে থাকায় নির্বাচকরা চায়নাম্য়ান স্পিনার কুলদীপ যাদবকে দলে নিলে বুমরাহকে আরও অপেক্ষা করতে হবে।

17. পার্থিব প্যাটেল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: