কেপটাউন টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ভারতের প্রথম একাদশ ঘোষিত!

দেশের মাটিতে দুর্বার গতিতে বিজয়রথ দৌড়ানোর পর এবার আসল পরীক্ষার সামনে বিরাট কোহলির অধিনায়কত্ব এবং ভারতীয় দলের টেস্টের আসরে এক নম্বর টিম হওয়া। ২০১৮ সালে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফর ভারতের সামনে। প্রথম ধাপের পরীক্ষা দিতে ভারতীয় ক্রিকেট দল দক্ষিণ আফ্রিকায় এখন। আগামী পাঁচই জানুয়ারি থেকে শুরু হবে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। প্রথম টেস্ট কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে।

দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া – ২০১৮ সালের তিনটি বিদেশ সফরে বিরাটের টিম কেমন ক্রিকেট খেলে, তার ওপর নির্ভর করছে, ভারতীয় ক্রিকেট অদূর ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নিতে চলেছে।

যে কোনও বিদেশ সফরে সফলতার প্রথম পাঠ হলো ধারাবাহিকভাবে ভালো ক্রিকেট খেলা। কিন্তু, তার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সূচনাটা ভালোভাবে করা। নিউল্যান্ডসে ভারতীয় দল জয়ের লক্ষ্য নিয়েই ঝাঁপাবে। ড্র করা নয়, বিরাটের নেতৃত্ব ভারতীয় দলটা খুনে মেজাজে খুন করতে নামে ক্রিকেট মাঠে।

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটি থেকে ভারত এখনও কোনও সিরিজ জিতে দেশে ফিরতে পারেনি। গত ছ’টা সফরের মধ্যে পাঁচটিতে হার এবং একটিতে ড্র। কিন্তু, এবার প্রত্যাশাটা অন্যরকম। সিরিজ জয়ের একটা সম্ভাবনা রয়েছে, যদি ভারতীয় ক্রিকেট দল গত আড়াই বছরের পারফরম্যান্সের পুরোটা সেখানে তুলে ধরতে পারে। প্রথম টেস্টে ভারতীয় ক্রিকেট দল ফর্মে থাকা স্পেশালিস্ট ওপেনার শিখর ধওয়নকে পাবে না। তাঁর গোড়ালিতে চোট। দ্বিতীয় টেস্টের আগে তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার কোনও সম্ভাবনা নেই। এখানে বলে রাখা ভালো, নিউল্যান্ডসে সিরিজ নিজেদের স্টাইলে শুরু করার একটা সম্ভাবনা রয়েছে ভারতের জন্য। কারণ, কেপ প্রভিন্সের পিচ দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যান্য ক্রিকেট মাঠের তুলনায় স্পিন সহায়ক। আর ভারত স্পিনের জন্য বিখ্যাত। দলে দুই বিশ্বমানের স্পিনারও রয়েছেন।

প্রথম টেস্টের সম্ভাব্য ভারতীয় দল –

ওপেনার

১. লোকেশ রাহুল

শিখর ধওয়নের অনুপস্থিতি লোকেশ রাহুলের জন্য সুযোগের দরজা খুলে দিয়েছে। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে ভালো খেলেছেন রাহুল। তারপর টি-২০ সিরিজে ওপেন করতে নেমে জোড়া হাফসেঞ্চুরি। দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার আগে হেডকোচ রবি শাস্ত্রী বলেছিলেন, বিদেশের মাটিতে ওপেনার হিসেবে রাহুলকে অটোমেটিক চয়েস হতে গেলে এখনও অনেক রাস্তা এগোতে হবে। নিউল্যান্ডস যোগ্য জবাব দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন কেএল রাহুল।

২. মুরলি বিজয়

শিখর ধওয়নের অনুপস্থিতি ওপেনিংয়ে বিজয়ের হাতেই মূল দায়িত্ব থাকছে ভালো একটা সূচনা দেওয়ার। মুরলি স্পেশালিস্ট ওপেনার। সাম্প্রতিককালে তাঁর রেকর্ডও ভালো। ফর্মে থাকলেও লোকেশ রাহুলের ওপর ভরসা করা খুব মুশকিল। কারণ, হাফসেঞ্চুরি করার পর আউট হয়ে যাওয়াটা অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছেন কর্নাটকের ক্রিকেটারকে। সেক্ষেত্রে ওপেনার হিসেবে বিজয়ের থেকেই একটা বড় ইনিংসে দরকার ভারতের।

মিডল অর্ডার 

৩. চেতেশ্বর পূজারা

ভারতীয় দলের মিডল অর্ডারই সবচেয়ে ভরসাযোগ্য এই মুহূর্তে। দ্রাবিড়ীয় ঘরানার সৌরাষ্ট্রের ক্রিকেটারটি এখন টেস্টের আসরে সেরা ব্যাটসম্যান। গত বছর পূজারার ব্যাট কথা বলেছে। আর তাছাড়া, পূজারা বিদেশের মাটিতে তুলনায় সফল বেশি। দক্ষিণ আফ্রিকায় চেতেশ্বরের সফল হওয়ার একশো শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে। গত বছর প্রচুর কাউন্টি ক্রিকেটও খেলেছেন তিনি।

৪. বিরাট কোহলি

টেস্ট ক্রিকেটে ভারত অধিনায়ক তুলনায় দুর্বল এখন এটা আর বলা যাবে না। ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে তিনটি করে টানা ডাবল সেঞ্চুরি পাঁচ দিনের ক্রিকেটে। অধিনায়ক হিসেবে ব্রায়ান লারার ৬টা ডাবল সেঞ্চুরি স্বল্প সময়েই ছুঁয়ে ফেলেছেন দিল্লির ক্রিকেটারটি। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের পর বিশ্রাম নিয়ে ক্রিকেট খেলতে নামছেন ভারত অধিনায়ক। ফলে, বিরাটের জড়তা আসার একটা সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, বিরাটের যুক্তি মানলে, তাঁর সেই সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

৫. রোহিত শর্মা 

ভারতীয় দলের ব্যাটিং কোচ গতকালের দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন অফ ফর্মে থাকা রাহানের জায়গায় রোহিত শর্মা প্রথম টেস্টে দোলে জায়গা করে নিতে পারেন।

লোয়ার মিডল অর্ডার

৬. হার্দিক পান্ডিয়া (পেস বোলিং অলরাউন্ডার)

India’s Hardik Pandya dives to take a catch to dismiss Pakistan’s Sharjeel Khan during the World T20 cricket tournament match between India and Pakistan at The Eden Gardens Cricket Stadium in Kolkata on March 19, 2016. / AFP / AND Dibyangshu SARKAR (Photo credit should read DIBYANGSHU SARKAR/AFP/Getty Images)

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে নিজেকে প্রমাণ করার অঢেল সুযোগ পাচ্ছেন তরুণ অলরাউন্ডার হার্দিক। তিনি কি পারবেন, আরেকটা কপিল দেব হয়ে উঠতে ভারতীয় ক্রিকেটে? পেস বোলিং অলরাউন্ডার হওয়ায় তাঁর ওপর অতিরিক্ত ভরসা করছে টিম ম্যানেজমেন্ট। প্রত্যাশার চাপ কতটা সামলে উঠতে পারেন দেখার। ব্যাটিংয়ের হাত নিয়ে কারও কোনও সন্দেহ নেই। তবে, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রমাণ দিতে না পারলে বড় খেলোয়াড় হয়ে ওঠা মুশকিল।

৭. ঋদ্ধিমান সাহা (উইকেটরক্ষক)

India’s wicketkeeper Wriddhiman Saha, center, leaps in the air to catch the ball to dismiss Australia’s Matthew Wade during the fourth day of their second test cricket match in Bangalore, India, Tuesday, March 7, 2017. (AP Photo/Aijaz Rahi)

ঋদ্ধিমান সাহাকে নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। তাঁর দক্ষতার ওপর ভারতীয় নির্বাচকদের আস্থা আছে বলে টেস্ট ক্রিকেটে গত তিন বছর ধরে তিনি খেলে চলেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার গতিময় পিচে উইকেটের পিছনে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে ঋদ্ধিকে। এখন তিনি অনেক অভিজ্ঞ। ফলে বোলারদের পাশাপাশি স্লিপে দাঁড়ানো অধিনায়ক বিরাটকে আরও বেশি করে ইনপুট দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও সামলাতে হতে পারে ভারতীয় দলকে।

টেইল-এন্ডার্স

স্পিনার/অলরাউন্ডার

ভারতীয় দলের ব্যাটিং অর্ডারের লেজ নিউল্যান্ডসে শক্ত হওয়ারই কথা। হার্দিক থাকায় একজন পেস বোলার বেড়েছে, আর নিউল্যান্ডসের পিচে দুই স্পিনার খেলানো যুক্তিগ্রাহ্য।

৮. রবীন্দ্র জাদেজা

BIRMINGHAM, ENGLAND – JUNE 15: Ravindra Jadeja of India celebrates dismissing Shakib Al Hasan of Bangladesh during the ICC Champions Trophy Semi Final between Bangladesh and India at Edgbaston on June 15, 2017 in Birmingham, England. (Photo by Gareth Copley/Getty Images)

জাদেজাকে না খেলানোর কোনও যুক্তি নেই। টেস্টের আসরে সমানে পারফর্ম করে চলেছেন। ব্যাটিংয়েও তিনি অনেক দক্ষ। দক্ষিণ আফ্রিকায় শুরুতে ভারতীয় দল উইকেট হারিয়ে বসলে মিডল অর্ডার যদি সামলে দেয়, তাহলে বল পুরনো হয়ে এলে জাদেজা স্কোর বোর্ডে প্রয়োজনীয় রান যোগ করতে পারবেন। তাছাড়া, বল হাতে বিদেশের মাটিতে সফল হলে নির্বাচকদের উদ্দেশে কড়াবার্তা দিতে পারবেন জাড্ডু।

৯. রবিচন্দ্রন অশ্বিন

জাদেজার মতো একই কথা প্রযোজ্য অশ্বিনের জন্য। দলের লিডিং স্পিনার তিনিই। টেস্টের আসরে তিনশো উইকেটের নজির স্পর্শ করেছেন শ্রীলঙ্কা সিরিজে। ছন্দেই আছেন। আর অশ্বিনের ব্যাটিং অতিরিক্ত অ্যাডভান্টেজ।

পেস বোলার

১০. মহম্মদ সামি

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ভারতীয় দলের পেস বিভাগের লিডার বাঙলার এই পেস বোলারটি। সামির হাতে পেস, সুইং, রিভার্স সুইং আছে। দক্ষিণ আফ্রিকার সিম সহায়ক পিচে সকালের আবহাওয়াতে সামি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন প্রোটিয়া টপ অর্ডারের জন্য। আর ম্যাচ যত গড়াবে সামির রিভার্স সুইং কাজে লাগবে।

১১. ইশান্ত শর্মা

বাউন্স ও বলের গতি জন্য ইশান্তই প্রথম টেস্টে সামির পেস জুটি হওয়ার মতো যোগ্য ব্যক্তি। ইশান্ত ইংল্যান্ডে গিয়ে কাউন্টি ক্রিকেট খেলেছেন। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার পিচে তাঁর বোলিং বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে। ইশান্ত যে কোনও সময়ে বিপজ্জনক হয়ে ওঠার ক্ষমতা রাখেন। আর টেস্টের আসরে তাঁর সুযোগ পাওয়া নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। দক্ষিণ আফ্রিকার পিচে ইশান্তের বাউন্সার প্রোটিয়া টিমকে বেকায়দায় ফেলার জন্য বিরাটের চয়েস হয়ে উঠতে পারে।

* এটি সম্ভাব্য একাদশ। ম্যাচের দিন প্রয়োজনে বদল হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: