এবারের আইপিএলে অকশনে যে বড়বড় বিদেশি তারকারা কোনও দল পেলেন না, নামগুলি দেখলে চমকে যাবেন…

একদশক পার করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড পরিচালিত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ দ্বিতীয় দশকের সূচনা করে দিল বেঙ্গালুরুতে। গত শনি ও রবিবার (২৭ ও ২৮ জানুয়ারি) আইপিএল ক্রিকেটের মেগা অকশন বসেছিল। একাদশ আইপিএলের অকশন বেশ চমকে দিয়েছে ক্রিকেট মহলকে। বর্তমান প্রজন্মের ও আগামী দিনের তারকারা যেমন অনেক বেশি দামে বিক্রি হয়েছেন, তেমনই গত দশবছরে আইপিএল ক্রিকেটের দামি ক্রিকেটাররা খুব কম দামে বিক্রি হয়েছেন। আবার এমন কিছু তারকা ক্রিকেটার আছেন, যাঁরা অবিক্রিতই থেকে গিয়েছেন। টিম গঠনের জন্য এবার ৬৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে আশি কোটি ভারতীয় মুদ্রা খরচের অনুমতি দিয়েছিল বিসিসিআই। কিন্তু, তা সত্ত্বেও অবিক্রিতই থেকে গেলেন নামজাদা এগারো জন বিদেশি ক্রিকেটার। তাঁদের নাম শুনলে চোখ কপালে তুলবেন।

৫৮০ জন ক্রিকেটারকে এবার নিলামে চড়ানো হয়েছিল। এরমধ্যে ভারতীয় ক্রিকেটার ছিলেন ৩৬১ জন। আটটি ফ্র্যাঞ্চাইজি তার মধ্যে থেকে শক্তিশালী টিম গড়ারই চেষ্টা করেছে। লক্ষ্য একটাই একাদশ আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়া। গত দু’দিনে ১৬৯ জন ক্রিকেটার বিক্রি হয়েছেন। এর মধ্যে বিদেশি ক্রিকেটারের সংখ্যা ৫৬। অকশনে আটটি ফ্র্যাঞ্চাইজির সম্মিলিত খরচের পরিমান ৪৩১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা। নিয়ম অনুযায়ী টিমে অন্তত ১৮ জন ক্রিকেটারকে কিনতেই হবে। সর্বোচ্চ সংখ্যা ২৫।

তারকা হয়েও যে বিদেশি ক্রিকেটাররা এবার দল পেলেন না –

১১. কুশল পেরেরা (শ্রীলঙ্কা) – বেস প্রাইস পঞ্চাশ লক্ষ

শ্রীলঙ্কার উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান। লঙ্কান টিমের সাম্প্রতিক খারাপ পারফরম্যান্স তাঁকে কিনতে না চাওয়ার কারণ বলছেন অনেকে। বেস প্রাইস ছিল পঞ্চাশ লক্ষ। জাতীয় দলের হয়ে ৩০টি টি-২০ ম্যাচে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

১০. তিসারা পেরেরা (শ্রীলঙ্কা)  – বেস প্রাইস ৫০ লক্ষ

লঙ্কান টিমের অলরাউন্ডার। আইপিএল ক্রিকেট সহ সব ধরনের টি-২০ ফরম্যাটে বল ও ব্যাট হাতে, তাঁর সুনাম রয়েছে। দু’শোর বেশি উইকেটর মালিক গত বছর গুজরাত লায়ন্সে খেলেন। বেস প্রাইস পঞ্চাশ লক্ষ হলেও কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজি আগ্রহ দেখাতে চায়নি।

৯. মার্টিন গাপ্টিল (নিউজিল্যান্ড) – বেস প্রাইস ৭৫ লক্ষ

বেস প্রাইস ৭৫ লাখ টাকা রাখলেও কেউ কিনতে চায়নি কিউয়ি টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানকে। ২০১৬ সালে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে এবং ২০১৭ আইপিএলে কিংস ইলভেন পাঞ্জাবের হয়ে খেলেন। গত আইপিএলে ১৮৯ রান করেছিলেন সাতটি ম্যাচ খেলে।

৮. অ্যালেক্স হল (ইংল্যান্ড) – বেস প্রাইস এক কোটি

ইংল্যান্ডের এই বিস্ফোরক ওপেনিং ব্যাটসম্যানকে দু’বার নিলামে তোলা হলেও, কেউই নিতে চায়নি। তাঁর বেস প্রাইস ছিল এক কোটি টাকা। দেশের হয়েছে ৪৮টি টি-২০ ম্যাচ খেলা অ্যালেক্স হল আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান হিসেবেই পরিচিত।

৭. অ্যাডামা জাম্পা (অস্ট্রেলিয়া) – বেস প্রাইস এ কোটি

অজি লেগস্পিনার তাঁর বেস প্রাইস এক কোটি টাকা রাখলেও, কোনও দল পাননি। সম্প্রতি মোটেই ফর্মে নেই তিনি। ফলে, জাম্পাকে কিনে কেউ অর্থ অপচয় করতে চায়নি। গত বছর রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টসের হয়ে ১২টি উইকেট নিয়েছিলেন।

৬. মিচেল ম্যাকক্লেনাঘান (নিউজিল্যান্ড) – বেস প্রাইস এক কোটি

২০১৫ সালে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে আইপিএলে ডেবিউ করেন কিউয়ি বোলারটি। ৪০টি ম্যাচে ৫৪ উইকেটের নজির থাকলেও, এবার তিনি অবিক্রিত। যদিও বেস প্রাইস এক কোটি টাকা ছিল।

৫. লাসিথ মালিঙ্গা (শ্রীলঙ্কা) – বেস প্রাইস এক কোটি

গত দশকে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ভালো পারফরম্যান্সের অন্যতম কারণ ছিল মালিঙ্গার অদ্ভূত রকমের বোলিং অ্যাকশন। এবার সেই স্লিঙ্গা কোনও দল পেলেন না। হাঁটুর চোটে কেরিয়ার শেষ হয়ে যাওয়া মালিঙ্গা দেশের ৬৮টি টি-২০ ম্যাচে ৯০টি উইকেট নিলেও, আইপিএল ক্রিকেটে তাঁর উইকেট সংখ্যা ১০০টি ম্যাচে ১৫৪।

৪. টিমিল মিলস (ইংল্যান্ড) – বেস প্রাইস এক কোটি

গতবছর ইংল্যান্ড ক্রিকেট টিম যখন ভারতে এসেছিল, তখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছিলেন মিলস ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের সমস্যায় ফেলে। ইংলিশ ফাস্ট বোলারটিকে গত বছর রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর ১২ কোটি টাকা দিয়ে কিনেছিল। এবার তাঁর বেস প্রাইস ১ কোটি হলেও কেউ আগ্রহ দেখালো না।

৩. জো রুট (ইংল্যান্ড) – বেস প্রাইস দেড় কোটি

গত দশকের বেশ কয়েকটি আইপিএল মরশুমে রুট দামি ক্রিকেটারদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। এবার তাঁর বেস প্রাইস দেড় কোটি হলেও ইংলিশ টেস্ট অধিনাককে কেউ দলে নিতে চায়নি। দেশের হয়ে ২৫টি টি-২০ ম্যাচ খেলা রুটের ব্যাটিং গড় ৩৯.১০।

২. হাশিম আমলা (দক্ষিণ আফ্রিকা) – বেস প্রাইস দেড় কোটি

প্রোটিয়া টিমের ক্রিকেটারটি বর্তমানে সীমিত ওভারের ক্রিকেটসহ তিন ধরনের ফরম্যাটেই একের পর এক রেকর্ড ভেঙেছেন সম্প্রতি। গত বছর আইপিএলে ৪২০ রান করেছিলেন। আইপিএল কেরিয়ারের ১৬টি ম্যাচে হাশিমের গড় ও স্ট্রাইকরেট, ৪৪.৩৮ ও ১৪১.৭৬। তা সত্ত্বেও তাঁকে নিয়ে কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজি আগ্রহ দেখালো না। আমলার বেস প্রাইস ছিল দেড় কোটি টাকা।

১. শন মার্শ (অস্ট্রেলিয়া) – বেস প্রাইস দেড় কোটি

২০০৮ সাল থেকে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবেই খেলে এসেছেন গত দশ বছর। ৭১টি ম্যাচে তাঁর রান ২,৪৭৭। গড় ৩৯.৯৫। দশম আইপিএল ফর্ম সঙ্গ না দেওয়ায় একাদশে আইপিএলে অবিক্রিতই থেকে গেলেন। মার্শের বেস প্রাইস ছিল দেড় কোটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: