কেমন হয় যদি নিলামের পর এবারের আইপিএলে KKR দলটা এমন হয়

আর ক টা দিন পরই ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি হবে আইপিএলের নিলাম। নিলামের ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে কোনও দল আগামী দিনে আইপিএলে ভাল খেলবে। চলছে নান রকম জল্পনা। কাকে আরটিএম ব্যবহার করে ধরে রাখা হবে, কাকে ছাড়া হবে। তা নিয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা। গতকাল ঘোষণা করা হয় ৫৭৮ জন ক্রিকেটারদের নিয়ে হবে নিলাম। স্কোয়াডে ১৮-১৫ জন ক্রিকেটারকে দলে রাখা যাবে। ক্রিকেটারদের কেনার বাজেট ৮০ কোটি টাকার মধ্যে থাকতে হবে। স্কোয়াডে সর্বোচ্চ ৮ জন বিদেশী ক্রিকেটারকে রাখা যাবে। আমরা বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করলাম এবারে নিলামে কোন কোন ক্রিকেটারকে কিনলে কলকাতা নাইট রাইডার্স দলটা দারুণ হবে।

দলটা তৈরি করার সময় বাজেটের বিষয়টা মাথায় রাখা হয়েছে। নিলামে কলকাতার হাতে আছে ৫৮ কোটি টাকা।

ওপেনার- ক্রিস গেইল/ কলিন মুনরো/ব্রেন্ডন ম্যাকালাম (৬ কোটি), লোকেশ রাহুল/মুরলী বিজয় (৪ কোটি), পৃথ্বী শাহ (১ কোটি)

ওপেনার হিসেবে ও.ইন্ডিজের গেইল বা মুনরো-র মধ্যে একজনকে পেতেই হবে। আগের কটা মরসুমে কেকেআর-এর শুরুটা ভাল হত কিন্তু ধামাকাদার হত না। সেটাই এবার গেইলকে ফিরিয়ে বা গত বছর দুটো টি টোয়েন্টি সেঞ্চুরি করা মুনরোকে ফিরিয়ে এনে করা যেতে পারে। গম্ভীরকে আরটিএম ব্যবহার করে ধরে না রেখে লোকেশ রাহুলের দিকে ঝাঁপানো উচিত। রাহুল এই মুহূর্তে টি টোয়েন্টিতে সেরা ওপেনার তা নিয়ে সন্দেহ নেই। তবে রাহুলকে আরসিবি আরটিএম ব্যবহার করে ঝাঁপাতে পারে সেক্ষেত্রে মুরলী বিজয় খুব ভাল বিকল্প। একদিকে গেইল ঝড়, অন্যদিকে বিজয়ের গোছানো ব্যাটিং। জমে যাবে। আর বিকল্প ওপেনার হিসেবে ভারতীয় যুব দলের তারকা ওপেনার পৃথ্বী শাহকে নিলামে কিনলে আরও জমে যাবে।

মিডল অর্ডার-ক্রিস লিন (আরটিএম কার্ড, ৮ কোটি), সঞ্জু স্যামসন (৩ কোটি), মনীশ পান্ডে (৩ কোটি), মনোজ তিওয়ারি (৭৫ লক্ষ), মায়াঙ্ক আগরওয়াল (৭৫ লক্ষ), সূর্যকুমার যাদব (৭৫ লক্ষ)

অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার ক্রিস লিনকে আরটিএম ব্যবহার করে ধরে রাখতে হবে। বিগ ব্যাশে লিন যা ব্যাটিংটা করছেন তাতে তাঁকে ধরে না রাখলে সবচেয়ে বড় বোকামো হবে। সঞ্জু স্যামসনকে চেষ্টা করে যেতে পারে। মনীশ পান্ডেকে আবার কেনা হোক। মনোজ তিওয়ারি কিনলে সুবিধা লহল, মিডল অর্ডারে নির্ভরতা সঙ্গে স্পিন বোলিংটা উপরি পাওনা। সূর্যকুমার যাদব শেষের দিকে উপযোগী ইনিংস খেলে দিতে পারেন। তবে সূর্যের জায়গায় নতুন ছেলেদের নেওয়া যেতেই পারে।

অলরাউন্ডার- বেন স্টোকস (১৫ কোটি)/ ভেরনন ফিলান্ডার / ডয়েন ব্রাভো (৩ কোটি), অঙ্কুল রায়/ওয়াশিংটন সুন্দর (১.৫০ কোটি), আন্দ্রে রাসেল (ধরে রাখা হয়েছে), ডেক্রাসি শর্ট (১ কোটি)

খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিভাগ। খুব সাবধানে পা ফেলতে হবে। বেন স্টোকসে নিতে ঝাঁপাতেই হবে। স্টোকস সবচেয়ে বড় ম্যাচ উইনার। তবে স্টোকসে একান্তই না পাওয়া গেলে ফিলান্ডার, ব্রাভোকে কিনতে ঝাঁপানো উচিত। ফিলান্ডারের বোলিংয়ের কথা সবার জানা, ব্যাটিংটাও কিন্তু খুব ভাল তার। তা না হলে জেমস ফকনারও ভাল বিকল্প। তবে অস্ট্রেলিয়ার তরুণ অলরাউন্ডার শর্টকে দলে নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত।

উইকেটকিপার- দীনেশ কার্তিক (৪ কোটি)/ রবীন উথাপ্পা (৩ কোটি), শ্রীবত্॥স গোস্বামী (৫০ লক্ষ)
উইকেটকিপার হিসেবে রবীন উথাপ্পাকেই ভাবা উচিত। তবে হাতে টাকা থাকলে দীনেশ কার্তিকে দলে নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। বাংলার শ্রীবত্স গোস্বামীকে রাখা উচিত। শ্রীবতস ব্যাট হাতে ভাল ফর্মে আছেন। তবে দীনেশ কার্তিকের পাশাপাশি ঋদ্ধিমান সাহাকে চেষ্টা করা উচিত।তবে দলে একজনের বেশি তারকা স্পেশালিস্ট না রাখাই ভাল।

পেসার- মিচেল স্টার্ক (১০ কোটি), মহম্মদ শামী (৩ কোটি), জয়দেব উনাদকট (২ কোটি), কমলেশ নাগারকোটি (১ কোটি), রজনীশ গুরবানি (১ কোটি)
পেসার হিসবে প্রথম পছন্দ থাকা উচিত অজি পেসার মিচেল স্টার্ক। তবে এটাও ঠিক স্টার্ক মার্কি ক্রিকেটার হওয়ায় তার দর অনেক বেশি হয়ে যাবে। শামী, উনাদকট অটোমেটিক চয়েজ হওয়া উচিত। অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে নজর কাড়া নাগারকোটি বা বাসিল থাম্পিকেও নেওয়া যেতে পারে। রঞ্জি সেমিফাইনাল, ফাইনালে নায়ক বনে যাওয়া বিদর্ভের পেসার রজনীশ গুরবানিকে দলে নেওয়া উচিত।

স্পিনার- সুনীল নারিন (ধরে রাখা হয়েছে), কুলদীপ যাদব (৩ কোটি), অমিত মিশ্র (১ কোটি)
নারিনের সঙ্গী হিসেবে কুলদীপ যাদব-অমিত মিশ্র দারুণ হবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: