ফাইনালে হেরে গিয়ে ভারতের উদ্দেশ্যে যা বললেন মাশরফি মুর্তজা..

এশিয়া কাপ ২০১৮য় শুক্রবার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত এবং বাংলাদেশের ক্রিকেট দল। এই ম্যাচের আগে পর্যন্ত ভারতীয় দল এই টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকে ফাইনালে উঠেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ এর আগে ভারতের কাছে হেরে শেষ ম্যাচ পাকিস্থানকে হারিয়ে যথেষ্ট সংঘর্ষ করে ফাইনালে উঠেছে। ফাইনালে টসে জিতে ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন। আফগানিস্থানের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচ বিশ্রাম দেওয়া ভারতীয় দলের প্রধান পাঁচ খেলোয়াড়কে এই ম্যাচে দলে ফিরিয়ে আনা হয়। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দারুণ হয় বাংলাদেশের।

তাদের দুই ওপেনার লিটন দাস আর মেহেন্দি হাসান দুজনে মিলে ২০.৫ ওভারে ১২০ রান যোগ করেন। কিন্তু মেহেন্দির একবার প্যাভিলিয়নে ফেরা পর বাংলাদেশের ইনিংস নড়বড়ে হয়ে যায়। একদিকে যেখানে লিটন দাস নিজের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন অন্যদিকে ব্যাটসম্যানদের প্যাভিলিয়নের ফেরত যাওয়া জারি থাকে। দলের প্রধান ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েস আর দুর্দান্ত ফর্মে থাকা উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম দায়িত্বজ্ঞানহীন শট খেলে আউট হয়ে যান।

মিঠুনের আউট হওয়ার পর মাহমাদুল্লাহও লম্বা শট খেলার চক্করে প্যাভিলিয়নে ফেরত যান। শেষ দিকে সৌম্য সরকার খানিকটা চেষ্টা করলেও তিনিও অহেতুক দু রান নিতে গিয়ে উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসেন। শেষ পর্যন্ত ৪৮.২ ওভারে ২২২ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। ভারতের হয়ে সফলতম বোলার হন কেদার যাদব তিনি তার ১০ ওভারে ৪৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। অন্যদিকে কুলদীপ দুটি এবং চহেল ও বুমরাহ একটি করে উইকেট নিয়েছে। বাংলাদেশের দেওয়া ২২৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের শুরুটা ভালো হয় নি। ভারতের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা এবং শিখর ধবন এই ম্যাচে মাত্র ৩৫ রান যোগ করেন প্রথম উইকেট জুটিতে। তা সত্বেও ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা টপ গিয়ারেই ব্যাটিং করতে শুরু করেন। অন্যদিকে নিয়মিত অন্তরালে ভারতের উইকেট পড়ায় বাংলাদেশও এই ম্যাচে ফিরে আসে।

ভারতের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দুই ব্যাটসম্যান এমএস ধোনি এবং দীনেশ কার্তিক পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৫৪ রান যোগ করেন। অন্যদিকে রবীন্দ্র জাদেজা এবং ভুবনেশ্বর কুমারের মধ্যে হওয়া পার্টনারশিপও ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে কেদার যাদবের হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট ভারতকে দ্রুত সিঙ্গল নেওয়া থেকেও বঞ্চিত করে এবং তিনি রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। কিন্তু জাদেজা এবং ভুবনেশ্বর আউট হওয়ার পর ফের মাঠে ফিরে আসেন কেদার এবং কুলদীপকে সঙ্গে তিনি তিনি এই ম্যাচে ভারতকে জয় এনে দেন শেষ বলে।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরফি মুর্তজা বলেন, “ আমি আশা করছি আমরা অনেকের হৃদয় জিতে নিয়েছি। আমরা শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করেছি, কিন্তু আজ আমরা মাঠে অনেক বেশি ভুল করেছি। আমরা সত্যিই দারুণ বল করেছি, বিশেষ করে আমরা যদি ২৪০+ স্কোর করতাম। আমরা ব্যাটসম্যানদের বলেছিলাম অন্তত ২৬০ রান তুলতে, কিন্তু দিনের শেষে বোলাররা সত্যিই ভালো বল করেছে। আমি খুব দ্রুত বল করতে চাইছিলাম, কারণ আমি রান আটকাতে চাইছিলাম, কারণ ওরা (ভারত) আমাদের আগে চলছিলআমরা চাইনি স্পিনারদের ওরা চার্জ করুক তাই আমি জোরে বোলারদের দিয়ে বল করিয়েছি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: