‘আমি ওদের ড্রেসিং রুমে যাইনি’ – পাক কোচের দাবি মিথ্যা প্রমান করলেন দ্রাবিড়

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতে ভারতীয় যুবদল দেশে ফেরার পরই সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) মুম্বইতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন অধিনায়ক পৃথ্বী শ এবং কোচ রাহুল দ্রাবিড়। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য কিভাবে টিম প্রস্তুতি নিয়েছিল, নিউজিল্যান্ডে গিয়ে কিভাবে মানিয়ে নিল, তারপর বিশ্বকাপ জেতা টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকে, ইত্যাদি নানান বিষয় প্রশ্নে উড়ে আসছিল দু’জনের দিকে। হঠাৎই পাকিস্তান ক্রিকেট টিমের ড্রেসিং রুমে যাওয়ার ব্যাপারে প্রশ্ন উড়ে আসে দ্রাবিড়ের দিকে। কারণ, তার আগে আগেই একটা সংবাদসংস্থার খবরে চাওর হয়েছিল, পাক ড্রেসিং রুমে দ্রাবিড় গিয়েছিলেন। তাদের কোচ নদীম খান নিজে দ্রাবিড়ের প্রশংসা করেছেন, ওভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের ক্রিকেটারদের উৎসাহ দিতে দেখে, ভেঙে না পড়ার পরামর্শ দিতে দেখে। বাণিজ্য নগরীতে এক সাংবাদিকদের মুখে কথাটা শোনামাত্রই দ্রাবিড় সংশোধন করে দেওয়ার চেষ্টা করেন তাঁকে। বেশ শান্তভাবেই বলেন, ”আমি পাক ড্রেসিং রুমে যাইনি।”

তাহলে সেমিফাইনাল ম্যাচের পর কি হয়েছিল সেদিন?

”আমি ওদের ড্রেসিং রুমে যাইনি। ওদের টিমে একজন প্রতিভাবান বাঁহাতি ফাস্ট বোলার রয়েছে। সে টুর্নামেন্ট ভালো বল করে। আর সেই জন্যই আমি ওকে অভিনন্দন জানাতে গিয়েছিলাম। ড্রেসিং রুমের বাইরে দাঁড়িয়ে ওকে বলি যে ও ভালো খেলেছে টুর্নামেন্টে। একজন কোচ হিসেবে আমি ভালো প্রতিভা দেখতে পেলে সবসময় আনন্দিত হই।”

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ভারতীয় দল…

বছর পঁয়তাল্লিশের প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক দ্রাবিড় সাংবাদিক সম্মেলনে এই কথাও জানান যে পাক টিম ম্যানেজমেন্ট ভারতীয় দলের প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের দেখে বেশ মুগ্ধ হয়েছে।

”আমাদের টিমের বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান ক্রিকেটার রয়েছে। আর ওরাও সেটা নিয়ে তারিফ করেছে। ওদের কোচ নিজেও আমাকে বেশ কয়েকবার বলেছেন, আমার দলের ছেলেরা যেভাবে খেলেছে, সেটা ওদের কাছেও উদাহরণ স্বরূপ, যে খেলার মানটা কিরকম হওয়া উচিত। ওরা আমাদের ছেলেদের নিয়ে প্রশংসা করছিল, আমি তাই তখন ওদের দলের ছেলেদের প্রতিভার প্রশংসা করি। কারণ, ওদের দলেও ভালো প্রতিভা রয়েছে।”

বিশ্বকাপ জিততে পেরে…

”সত্যিকারের সন্তুষ্টি হলো, আমার মতে, যে প্রক্রিয়ায় আমরা চলেছিলাম। এই যে আমরা গত চোদ্দো-ষোলো মাসের ওপর যেভাবে খাটছিলাম, পরিকল্পনা করেছিলাম, প্রস্তুতি নিয়েছিলাম ভালোভাবে। তবে ওই প্রস্তুতিটা শুধুমাত্র বিশ্বকাপ জেতার জন্য ছিল না। আমরা চেয়েছিলাম, ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলটাকে গড়ে তুলতে।”

”বিশ্বকাপ জয়টা দলগত সংহতির ফসল। এমন অনেকে আছেন, যাঁরা পর্দার আড়ালে রয়ে গিয়েছেন। পিছনে থেকে কাজ করেছেন। যেমন নির্বাচকরা রয়েছেন। জাতীয় অ্যাকাডেমির কথাও বলতে হয়। আবার বিসিসিআই যেভাবে সিরিজ করিয়েছিল বিশ্বকাপের আগে। সেটাই আর কি। এই ধরনের টুর্নামেন্টে জিততে টিম ওয়ার্ক সবার আগে প্রয়োজনীয়।”

উল্লেখ্য, ভারতীয় যুবদল বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতায় অপরাজিত থেকে ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে আট উইকেটে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: