ম্যাচ জিতে জয়ের সমস্ত কৃতিত্ব একে দিলেন অধিনায়ক রোহিত!

ভারত আর ওয়েস্টইন্ডিজের মধ্যে আজ থেকে টি-২০ সিরিজ শুরু হয়ে গিয়েছে। এই সিরিজের প্রথম ম্যাচে রোহিত শর্মা টসে জেতেন আর প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন। আজকের ম্যাচে দুই দেশের তরফে মোট ৫জন প্লেয়ার ডেবিউ করেন। ভারতের হয়ে ক্রুণাল পান্ডিয়া আর খলিল আহমেদ নিজেদের টি-২০ কেরিয়ারের শুরুয়াত করেন।

ওয়েস্টইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা হলেন ব্যর্থ

ওয়েস্টইন্ডিজের শুরুয়াত ভীষণই খারাপ হয়েছে। দলের ওপেনিং ব্যাটসম্যান দীনেশ রামদীন মাত্র দু রান করে আউট হয়ে যান। তার আউট হওয়ার পর শাই হোপও ১৪ রান করে আউট হয়ে যান। তার আউট হওয়ার পর ওয়ানডে সিরিজের হিরো হেটমেয়ারও বিশেষ কিছুই করতে পারেন নি আর মাত্র ১০ রান করে আউট হয়ে যান। তার আউট হওয়ার পর পোলার্ডও কিছু করতে পারেন নি আর ১৪ রান করেই আউট হয়ে যান। ড্যারেন ব্র্যাভো ৪ আর পাওয়েল ৪ রান করে আউট হন।তাদের আউট হওয়ার পর আর কোনও ব্যাটসম্যানই কিছু করতে পারেনি আর পুরো দল মাত্র ১০৯ রানে অলআউট হয়ে যায়। ভারতের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার হন কুলদীপ যাদব। তিনি নির্ধারিত ৪ ওভারে ১৩ রান্দিয়ে ৩ উইকেট নেন। তিনি ছাড়াও এই ম্যাচে অভিষেক করা খলিল আহমেদ, ক্রুণাল পান্ডিয়া, বুমরাহ এবং উমেশ যাদব একটি করে উইকেট নেন।


ওয়েস্টইন্ডিজের ১১০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এই লক্ষ্য ভারতের হেভিওয়েট ব্যাটিং লাইনআপের কাছে খুব সহজ দেখায়। যদিও ওয়েস্টইন্ডিজ প্রথম ওভারেই ভারতকে ধাক্কা দেয়। ওশান থমাস রোহিত শর্মাকে রামদীনের হাতে ক্যাচ আউট করান।থমাস তার দুর্দান্ত বোলিং জারি রাখেন আর শিখর ধবনের উইকেট নিয়ে তিন ওভারের মধ্যে ১৬ রানে ভারতের ২উইকেট ফেলে দেন ৩ ওভারের মধ্যে। ক্যারিবিয়ানরা ভারতকে চমকেদিয়ে মাত্র ৪৫রানের মধ্যেই ভারতের চার উইকেট ফেলে দেয়। তারপর থেকে দীনেশ কার্তিক এবং মনীষ পান্ডে নিজেদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়ে ভারতকে লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছে দেন। যদিও পান্ডে(১৯) আউট হয়ে যান দ্রুত। কার্তিক এরপর ক্রুণাল পান্ডিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ভারতকে লক্ষ্যে পৌঁছে দেন। ভারত এই ম্যাচ জিতে টি-২০ সিরিজে ১-০ এগিয়ে গিয়েছে।

ম্যাচ শেষে ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা বলেন, “ বল হাতে ব্যতিক্রমী পারফর্মেন্স। সিমারদের জন্য প্রচুর সুযোগ ছিল, এমনকী স্পিনারদের জন্য, কিন্তু এটা খুব সহজ ছিলনা। সবমিলিয়ে প্রত্যেক বিভাগেই সামান্য চিন্তা চিল। শুরু থেকেই আমরা ভালো বল করেছি- ভালো জায়গায় বল রেখেছি। পরিস্থিতির দুর্দান্ত ব্যবহার করেছি। জানতাম রান তাড়া করা সহজ হবে না। আশা করছি আমাদের ভুল থেকে আমরা শিক্ষা নেব। ওশানে থমাস সত্যিই দুর্দান্ত প্রতিভা। যদি ও ভালো জায়গায় বল রাখে, তাহলে ব্যাটসম্যানদের জন্য তাকে আক্রমণ করা খুব সহজ হয়না। উচ্চতার অ্যাডভান্টেজ তাকে আলাদাভাবে ধারালো করেছে। ওকে ভবিষ্যতের জন্য শুভেচ্ছা জানাচ্ছি কিন্তু আমাদের বিপক্ষে নয়। ক্রুণাল এবং খলিল আহমদেও দুর্দান্ত প্রতিভা।”

“ক্রুণাল — আমি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে ওকে গত ২ -৩ বছরে খুব কাছ থেকে দেখেছি। ও যখন বল করতে আসে পোলার্ড ব্যাট করছিল।ওই একমাত্র বোলার যে পোলার্ডের বিরুদ্ধে বল করতে চাইছিল। এই ছেলেরা যে কোনও চ্যালেঞ্জ নিতে তৈরি। অধিনায়কের জন্য যথেষ্ট উৎসাহব্যঞ্জক যখন এরকম দেখা যায়। যদি ওরা ওদের স্কিল নিয়ে কাজ করা চালুরাখে, ভারত নিশ্চিতভাবেই তার বেনিফিট পাবে।

অন্যদিকে ওয়েস্টইন্ডিজের অধিনায়ক কার্লোস ব্রেথওয়েট জানান, “ আমরা নিজেদের প্রয়োজ করতে পারিনি। আমরা দ্বিতীয় তৃতীয় গিয়ারে পৌঁছতে পারিনি। হয় খুব ডিভেন্সিভ ছিলাম নয়ত খুবই অ্যাটাকিং। যেভাবে কিমো এবং অ্যালেন শেষ করেছে সেটা দেখতে পারেন, যদি আমাদের হাতে উইকেট থাকত, তাহলে আমরা ১৩০-১৪০ রান তুলতে পারতাম যা সম্ভবত জেতার মত স্কোর হত। আমাদের দলে প্রচুর তরুণ যারা ভয়ডরহীন হতে চায়। (ওশেন থমাসের ব্যাপারে) জানিনা সিলেকটার্সদের দীর্ঘতম প্ল্যান কি হবে। কিন্তু ওর সঙ্গে সামান্য কথাবার্তা হয়েছে, সুযোগের ব্যবহার করা নিয়ে। ও সেরা জায়গায় রয়েছে যেখানে ও থাকতে পারত। আশা করছি ও আরও ফিট এবং আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। ধারাবাহিকভাবে বল করতে পারবে। এবং মানুষ ও ক্রিকেটার হিসেবে আরও ভালো হয়ে উঠবে। ওর জন্য বিশ্ব ওর পায়ে রয়েছে। আমরা যতদূর সম্ভব ওকে গাইড করার চেষ্টা করছি। শেষ পর্যন্ত এটা আমাদের উপর,ওয়েস্টইন্ডিজের ক্রিকেট সিস্টেমের উপরে, তাকে তুলে আনা এবং ওকে আরও একজন জোয়েল গার্নার বা মাইকেল হোল্ডিং হিসেবে তৈরি করা”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: