দেখুন কি ভাবে এক কুকুর, মরণ রোগের হাত থেকে বাঁচালেন ইংল্যান্ডের মহিলা দলের ক্রিকেটার সারা টেলরকে!

ইংল্যান্ডের মহিলা ক্রিকেটার, দলের উইকেট কিপার এবং ব্যাটসম্যান সারা টেলার ২০১৫ সাল থেকেই মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। সমস্ত ডিপ্রেশন কাটিয়ে তাঁর দলে ফিরে আসার কাহিনী সত্যিই অবিশ্বাস্য।

২২ গজের উজ্জ্বল কিন্তু অনিশ্চয়তায় ভরা খেলায় সারা যখন আরো ভালোভাবে এগিয়ে গেলেন খেলার দিকে, তার আগেই তিনি নিজের বাস্তব জীবনে জয়ী হয়েছেন। সারা ভালোভাবে জানতেন কিভাবে নিজের জায়গা তৈরি করে নিতে হয়। একজন ব্যাটসম্যানের আসল ক্ষমতা তাঁকে পরবর্তী সময়ে সফল হতে সাহায্য করে। ২২ গজের খেলায় ইংল্যান্ডকে সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে যেতে দলের সকলের ভালো খেলা প্রয়োজন। ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার সারা যিনি আটটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন, খুবই কম বয়সে তিনি ক্রিকেট খেলতে শুরু করেছেন।

মানসিক ডিপ্রেশনের কারণে তিনি ২০১৬ থেকে প্রায় এক বছর ক্রিকেট থেকে দূরে থাকেন। তিনি ভীত হয়ে জাতীয় দলের জার্সি ত্যাগ করে ভয়ের দিকেই বেশি গুরুত্ব দিতে থাকেন। ওয়ানডে ব্যাটসম্যান হিসেবে সারা ইংল্যান্ডের জাতীয় দলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা পালন করেন। উইকেটের পেছনে ফের তাঁর উপস্থিতি ইংল্যান্ডের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে নেমে আসে। তিনি উইকেটকিপার হিসেবে ভালো ভালো ক্যাচ ধরা, স্টাম্প আউট করার দাবিদার। তাঁর ক্ষিপ্রতা তার উইকেট কিপিং-এ খুব বেশি সাহায্য করেছে।

সব ঠিক থাকলে হয়তো এই ক্রিকেটারকে বিয়ে করতেন রিয়া সেন ।

সময়ের সাথে সাথে সারা টেলার ভয়কেও জয় করতে শিখে গেছেন। যে ভয় তাঁর ক্রিকেটের ক্যারিয়ারকে পুরো শেষ করে দিতে চেয়েছিল, তিনি সেই ভয় কাটিয়ে উঠেছেন। তিনি তাঁর এই লড়াইয়ের কাহিনী নিয়ে মুখ খুলেছেন সাংবাদিকদের সামনে। তাঁর কষ্টকর লড়াই থেকে আজ খ্যাতির শিখরে উঠে আসা তিনি বড় বিষয় বলে মনে করছেন।

এই ২৮ বছর বয়সী ক্রিকেটার ২০১৭ আইসিসি উইমেনস ওয়ার্ল্ড কাপের চ্যাম্পিয়নের খেতাব ইংল্যান্ড জিতে নেওয়ার পর আনন্দে কেঁদে ফেলেন। লর্ডসের মাঠে হেদার নাইটের অধিনায়কত্বে তাঁদের এই জয় তাঁর কাছে স্মরণীয়। ২৩ জুলাই, ২০১৭ -তে মিতালি রাজের নেতৃত্বে খেলা ভারতকে ৯ রানে পরাজিত করার পর আনন্দের ঢেউ ছড়ায় লর্ডসের মাঠে।

ধোনির যোগ্যতা নিয়ে মুখ খুললেন খোদ সৌরভ গাঙ্গুলি!

সারা টেলার জানান যে, একজন ক্রিকেটারের কাছে স্টেডিয়াম ভর্তি দর্শকের সামনে নিজেদের উজ্জ্বল মুহূর্ত পালন উপভোগ করার মত। সারার মত একজন ক্রিকেটারের নিজের কেরিয়ারে ফিরে আসার গল্পটাও বেশ উৎসাহমূলক। সারা তাঁর কুকুর পোষ্য মিলিকে নিয়ে জানিয়েছেন যে, ডিপ্রেশনে ভোগার সময় সাইকোলজিস্টের পরামর্শে তিনি মিলিকে নিয়ে আসেন। তাঁর সাইকোলজিস্ট তাঁকে মিলির দেখাশোনা করার জন্য বেশ কিছু কাজ দেন। মিলির সাথে বন্ধুত্ব করা, তাকে বাইরে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া ইত্যাদি কাজ তিনি উপভোগ করতে থাকেন।

সারা টেলার তাঁর ব্যাটিংয়ের জাদুর জন্য বিখ্যাত। কিন্তু কিছু সময়ের জন্য তাঁর ব্যাটিংয়ের ধার কমে যাওয়ায় তাঁর কেরিয়ারে সেই প্রভাব পড়ে। কেরিয়ারের প্রভাব তাঁর মনের মধ্যে ডিপ্রেশন বাড়িয়ে দেয়। তখন তাঁর শ্বাস নিতেও কষ্ট হতো; মনের মধ্যে থাকতো ভয়। ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তিনি রান করার জন্য প্রচুর লড়াই করতে থাকেন বাকি সময় তিনি হোটেলে নিজের ঘরে নিজেকে বন্দী করে রাখতেন কারোর সঙ্গে দেখা হওয়ার ভয়ে।

ওঁদের দুজনকে দলে নাও, তাহলে কেউ হারাতে পারবে না! কোহলিকে এমনটাই বললেন সহবাগ!

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে প্রাক্তন লিস্টারশায়ার কোচ টিম বুন তাঁকে নিজের শক্তিতে খেলতে সাহায্য করেন। তাঁর ভীতি কাটাতে সাহায্য করেন তিনি। ডানহাতি ব্যাটসম্যান সারা, ১৭ বছর বয়সে খেলা শুরু করে ১১০ টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন যেগুলিতে তিনি মোট ৩৬৫৭ রান করেন এবং গড়ে তাঁর রান ৪০.৬৩। তিনি উইকেট কিপার হিসেবে ওয়ানডেতে ৭৯ টি ক‍্যাচ ও ৪২টি স্টাম্প আউট করার দাবিদার। এছাড়াও ৮১টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তাঁর মোট রান ২০৫৪ এবং গড় রান ৩০.২০।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: