জানেন, কি করে দুই সন্তানের জননী আয়েশাকে নিজের মনের কথা বলেছিলেন শিখর? প্রথম দেখাতেই প্রেম…

প্রেম বলে কয়ে আসে না। আর যখন আসে, তখন বয়স দেখে না। দেখে না গায়ের রঙ, জাত বা ধর্মীয় বাধা, নিষেধ। প্রেম স্থান-কালে আবদ্ধ নয়। মন শুধু মনের মানুষকেই চায় ইংরেজিতে একটা কথা আছে – এভ্রিথিং ইজ ফেয়ার ইন লাভ অ্যান্ড ওয়ার। ভাষা, বর্ণ আর সস্কৃতি যাই হোক না কেন, প্রেমে সত্য থাকলে, তা পরিণতি পেতে বাধ্য। ভারতীয় ক্রিকেট দলের তারকা ওপেনার শিখর ধওয়ন এবং কিক বক্সার আয়েশা মুখার্জির প্রেম কাহিনী যেন কোনও উপনাস্যের গল্পের মতো। একেবারে সাত সমুদ্রের পারে, স্বপ্নে দেখা রাজকন্যের গল্পের মতো। বলতে গেলে শিখর সত্যিকারের একেবারে সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়েই আয়েশাকে বিয়ে করেছেন। আজ চলুন সেই গল্পই শুনি। দিল্লি নিবাসী জাট পরিবারের ছেলেকে দুই সন্তানের মা আয়েশাকে নিজের জীবনসঙ্গিনী করতে কম কাঠ-খড় পোড়াতে হয়নি। অনেক বাধা পেরিয়ে তবেই নিজের মনের মানুষকে নিজের করে পেয়েছেন ভারতের এই চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটার।

পরিচয়…

শিখর ধওয়ন এবং আয়েশা মুখার্জির পরিচয় ফেসবুকে। বলতে গেলে সোশ্যাল মিডিয়া প্রেম বলতে পারেন শুরুটা। ভারতীয় দলে একসময় চুটিয়ে ক্রিকেট খেলা এবং পরিসংখ্যানের বিচারে সর্বকালের সেরা অফস্পিনার হরভজন সিং দু’জনের মাঝের যোগসূত্র। আসলে ভাজ্জি দু’জনেরই মিউচুয়াল ফ্রেন্ড। আর সেই থেকেই শিখরের সঙ্গে ফেসবুকে আলাপ জমে ওঠে আয়েশার। দু’জনে যে প্রেম শুরু করে বসবেন, কেউই ভাবতে পারেননি এটা।

প্রেমে অবাধ্য…

আয়েশা আবার শিখরের থেকে বয়সে দশ বছরের বড়। তাছাড়া, আগে একবার বিয়ে হয়েছিল। তারপর ডিভোর্স। ভারতীয় সংস্কৃতিতে ডিভোর্সি মেয়েকে বিয়ে করতে চাইলে অনেকেই নাক কোঁচকান। আয়েশার আবার আগের পক্ষের দু’টি মেয়েও রয়েছে। দু’জনের মধ্যে বয়সের বিস্তর ফারাক থাকলেও, মনে প্রেমের মুকুল ফুটতে সমস্যা হয়নি। আস্তে আস্তে দু’জনের মন আরও বেশি করে ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করে।

প্রথম দেখাতেই প্রেম…

অনেকে বলে, এমন প্রেম নাকি ভাগ্যবানদের কপালেই থাকে। শিখরের প্রথম সাক্ষাৎে আয়েশার প্রেমে পড়া কিন্তু ছবি দেখে। আয়েশার ছবি দেখার পর শিখর ঠিক করেছিলেন, আগে এগোতে হবে এবং মনের কথাটা জানাতে হবে। কিন্তু, আয়েশা কিভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন, সেটা নিয়ে খানিকটা ধন্দে ছিলেন শিখর। মনে একটা দোনামোনা ছিল, যদি না করে দেন বা অন্যরকমভাবে প্রতিক্রিয়া জানান। কারণ, ফেসবুকে বন্ধুত্ব হওয়ার আগে শিখর ভাবতেও পারেননি যে আয়েশার সঙ্গে তাঁর কোনওদিন বন্ধুত্ব হতে পারে।

কিক বক্সার আয়েশা…

আয়েশা মুখার্জি আসলে ভারতীয় বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক। কিক বক্সিং ছাড়াও আরও অনেক কিছু খেলাতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি। আয়েশা বক্সার জানার পর, শিখরের মনে এই প্রশ্নও এসেছিল, কোনও অজি বক্সার কেনই বা কোনও ভারতীয় ক্রিকেটারের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চাইবেন। কিন্তু, ভবিতব্য যদি এক হওয়ারই থাকে, তাকে কে আর আটকায়! আয়েশা ও শিখর বেশ ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে যান। আর সেই বন্ধুত্ব প্রেমে পরিণত হতে বেশি সময় লাগেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: