দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে খাওয়াজা ফেরালেন কোহলিকে, ভারতকে লজ্জার হাত থেকে বাঁচালেন পূজারা

চেতেশ্বর পূজারা কোনওদিনই ফ্যান ফেভারিট নন। একে তো শুধু টেস্ট খেলেন। তার ওপর কে এল রাহুল, মুরলী বিজয়দের মতো স্টাইল মারেন না। কিন্তু এই সাদামাঠা পূজারা না থাকলে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে ভারত কত রানে অলআউট হয়ে যেতে পারত তা ভেবে ভয় লাগছে। প্রথম দিনের শেষে, ভারত যে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৫০ রানে পৌঁছতে পেরেছে তাঁর এক ও অদ্বিতীয় কারণ পূজারার লড়াকু সেঞ্চুরি (১২৩)। একটা সময় ৮৬ রানে ৫ উইকেট চলে গেছিল কোহলির দলের।

টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বিরাট কোহলি। প্রথম এক ঘণ্টা নতুন বল দেখে খেললে অ্যাডিলেডের পিচ বরাবরই ব্যাটসম্যানদের স্বর্গরাজ্য। কিন্তু সেই প্রথম একঘণ্টাতেই জঘন্য জঘন্য শট খেলে উইকেট ছুড়ে দিয়ে এলেন রাহুল (২), বিজয় (১১), কোহলি (৩), রাহানেরা (১৩)। পঞ্চম শট, ষষ্ঠ স্টাম্প লাইনের বল তাড়া করতে গিয়ে আউট হওয়ার পুরোনো রোগ এখনও গেল না। রোহিত শর্মা কেন টেস্টে ধারাবাহিক হতে পারেন না তা ফের বোঝা গেল। নাথান লায়নকে ছয় মারার পরের বলেই ফের স্টেপ আউট করতে গিয়ে উইকেট ছুড়ে দিয়ে এলেন। ওই সময় অশ্বিন (২৫) এসে পূজারাকে সঙ্গ না দিলে ভারত ১৫০ পেরোত কিনা সন্দেহ।

প্রশংসা করতে হবে অজি বোলারদেরও। হ্যাজেলউড, স্টার্ক, কামিন্স এবং লায়ন, চারজনেই আঁটসাঁটো লাইন লেন্থে বল করে গেলেন। বোলারদের যোগ্য সহায়তা করলেন ফিল্ডাররা। বিশেষ করে কোহলির ক্যাচটা যেভাবে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে এক হাতে ধরলেন উসমান খোয়াজা তা অনেক দিন মনে থাকবে। প্রথম দিনের খেলা শেষে, অজি অধিনায়ক টিম পেইন বলে গেলেন, ‘জশ হ্যাজেলউড এবং প্যাট কামিন্সকে ফিরে পাওয়া দলের জন্য খুবই ভালো ব্যাপার।’ সেটা যে কতটা সত্যি তা হাড়ে হাড়ে টের পেলেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। নতুন বলে দুর্দান্ত সুইং করছিলেন হ্যাজেলউড। কামিন্স বিরাট কোহলি এবং সেট হয়ে যাওয়া অশ্বিনের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে দলকে সাহায্য করলেন। আগামিকাল ভারতের লক্ষ্য থাকবে অন্তত তিনশো’র মধ্যে অস্ট্রেলিয়াকে আউট করা। নাহলে এই ম্যাচ জেতার আশা ছাড়তে হবে কোহলিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: