ম্যাচ হেরে, কোহলি হারার দায় চাপালেন কার ওপর দেখে নিন

ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ালো এবং তাদের আশা জিইয়ে রাখল ৩ ম্যাচের টি২০ সিরিজে। সেঞ্চুরিয়ানের দ্বিতীয় ম্যাচ ৬ উইকেটে জিতে নিয়ে এই সিরিজে তাদের পক্ষে ১-১ ফলাফলে সমান করে নিল। বোলারদের খারাপ পারফর্মেন্সের পর হেইনরিখ ক্লাসেন এবং জেপি ডুমিনির দুর্দান্ত পারফর্মেন্সে তারা জয় ছিনিয়ে নেয়। এটা ছিল একটা দুর্দান্ত পারফর্মেন্স এবং জেপি ডুমিনির আবেগই সবটা বুঝিয়ে দেয়। দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের ঘরের মাঠে হারতে অভ্যস্ত নয় এবং এই জয় নিশ্চিতভাবেই তাদের সিরিজ নির্নায়ক ম্যাচে আত্মবিশ্বাস জোগাবে।

দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক জেপি ডুমিনি এই ম্যাচে টসে জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন। ওপেনার শিখর ধবন এবং রোহিত শর্মা মাঝপথেই আউট হয়ে যান। গত ম্যাচে অভিষেককারী জুনিয়র ডালা গোল্ডেন ডাকে রোহিত শর্মাকে তুলে নেন দ্বিতীয় ওভারের প্রথম ডেলিভারিতেই। অধিনায়ক বিরাট কোহলি সুরেশ রায়নাকে আরও একবার ব্যাটিং অর্ডারে উপরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন এবং অধিনায়ককে নিরাশ করেন নি। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানই বেশ কিছু ব্যতিক্রমী শটস খেলেন। বিশেষ করে ধবন, খুব সহজেই গোটা দুয়েক ডেলিভারিকে স্ট্যান্ডের বাইরে পাঠান। অন্যদিকে রায়নাও তার সঙ্গে বেশ ভালই চালাতে থাকেন। এটা ছিলেন অধিনায়ক জেপি ডুমিনি, যিনি হোস্ট দক্ষিণ আফ্রিকাকে ধবনের আকারে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক থ্রু দেন। অধিনায়ক কোহলিও সেভাবে কিছু করতে পারেন নি এবং জুনিয়র ডালার দুরন্ত ডেলিভারিতে আউট হয়ে ফিরে যান। থ্রি কোয়াটার এরিয়ার পরার পর বলটি ঘুরে যায়, এবং বিরাট কোহলির ইনিংস শেষ হয় উইকেটের পেছনে হেইনরিখ ক্লাসেনের হাতে সোজা ক্যাচ দিয়ে। অন্যদিকে মনীশ পান্ডে ভাল খেলেন এবং বেশ কিছু সুন্দর শট দিয়ে শুরু করেন। পান্ডে এবং রায়নার মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত পার্টনারশিপ হওয়ার পর, অ্যান্ডিলে ফেহেলুকয়াওয়ের একটি ছদ্ম স্লোয়ার ডেলিভারিতে আউট হয়ে যান অভিজ্ঞ রায়না। এরপরই  প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি এসে মধ্যক্রমে যোগ দেন মনীশ পান্ডের সঙ্গে। শুরু থেকেই ধোনিকে দেখা যায় ইনিংসের গতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কামান নিজের হাতে তুলে নিতে। প্রথম ৬টি বল দেখে খেলার পর তিনি নিজের গিয়ার বদল করে জেজে স্মাটকে স্ট্যান্ডের বাইরে পাঠান। এটা কেবল শুরুয়াত ছিল যে আগে কি হতে চলেছে। তিনি বেশ কিছু ব্যতিক্রমী শটস খেলেন এবং নিজের দ্বিতীয় টি২০ হাফ সেঞ্চুরির দিকে দৌড়নো শুরু করেন। অন্যদিকে পান্ডেও বোলারদের উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ রাখা শুরু করেন এবং তার  ৪৮ বলে ৭৯ রানের ইনিংসে ৬টি চার এবং ৩টে বিশাল ছক্কা হাঁকান। শেষ দু ওভারে ধোনি বোলারদের নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করেন। এবং তার মাত্র ২৮ বলে অপরাজিত ৫২ রানের ইনিংস খেলার পথে ৪টি চার এবং ৩টি ছক্কা হাঁকান। এবং স্বাভাবিকভাবেই ভারত তাদের নির্ধারিত ২০ ওভারে চার উইকেটের বিনিময়ে ১৮৮ রান যোগ করে।

অন্যদিকে প্রথম দু’ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটাও একটু শান্তভাবেই হয়। যদিও ফের রেজা হেনড্রিকস ভারতীয় বোলারদের মহড়া নিতে শুরু করেন এবং বেশ কিছু দুর্দান্ত শটস খেলেন। জয়দেব উনাকট জেজে স্মাটকে তুলে নিয়ে ভারতকে শুরুয়াতি ব্রেক থ্রু পাইয়ে দেন। দারুণ শুরু করার পরও রেজা হেনডিকস তার উইকেট শার্দুল ঠাকুরকে উপহার দিয়ে আসেন। যদিও এখান থেকেই হেনরিখ ক্লাসেনের দুর্দান্ত ব্যাটিং দেখতে পাওয়া যায়, যাকে ব্যাটিং অর্ডারে উপরে পাঠানো হয়েছিল। এবং তিনি আক্ষরিক অর্থেই ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করেন এবং এবং পাওয়ার হিটিংকে অবিশ্বাস্যভাবে সহজ মনে হয় তার ব্যাটিংয়ে। যযুবেন্দ্র চহেলকে তিনি মাঠের প্রায় চতুর্দিকেই উড়ীয়ে দেন। তিনি নিজেকে অতিমানবীয় পর্যায়ে নিয়ে যান এবং দু ওভারের মধে তিনি চার চারটি ছয় হাঁকান। যদিও ৩০ বলে ৬৯ রান করার পর জয়দেব উনাকটের একটি স্লোয়ার ডেলিভারিতে ঠকে গিয়ে তিনি আউট হন। অন্যদিকে অধিনায়ক জেপি দুমিনি দুরন্তভাবেই নিজের কাজটি সঠিকভাবে করেন। এবং সবশেষে এটা ছিলেন অধিনায়ক জেপি দুমিনি, জিনি নিজের নার্ভকে ধরে রাখেন এবং প্রোটিয়াদের জন্য জয় ছিনিয়ে নেন। তিনি গোটা দুয়েক ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ৮ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেটে ম্যাচটি জিতে নেয়।

পোষ্ট ম্যাচ প্রেজেন্টেশনে অধিনায়ক বিরাট কোহলি যা বললেন

“বোলারদের জন্য বেশ কঠিন একটা ম্যাচ ছিল। মনীশ এবং রায়না শুরুর দিকে ভালই ব্যাট করেছিল। মনীশ এবং এমএস দুর্দান্তভাবে ব্যাটিং করে স্কোরকে ১৯০ এর কাছাকাছি নিয়ে গেছিল। এটা গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মধ্যে বেশ কঠিনই ছিল। সমস্ত কৃতিত্বই দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের। ওরা বেশ পজিটিভ ছিলেন। দর্শকদের দৃষ্টিকোণ থেকে বেশ ভালই ছিল। আপনি চাইবেন না খেলা বন্ধ হয়ে যাক। এই সমস্ত ব্যাপারে কিছু মনেই করবেন না। এটা নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যাই ছিল না। ওখানে ক্রমাগত গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছিল, কোনো পর্যায়েই এটা খুব একটা কঠিন নয়। ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে উইকেট সেটল ডাউন হয়ে পড়েছিল। বল গ্রীপ করতেও ভীষণ মুশকিল হচ্ছিল। ওরা ক্যালকুলেটেড রিক্স নিয়েছিল। ওরা শর্ট বাউন্ডারিকে টার্গেট করেছিল, এবং এটা ওরা পেয়েও গিয়েছিল। ওরা প্যাশন দেখিয়েছে যেটা ক্রিকেট খেলায় জেতার জন্য প্রয়োজন”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: