আইপিএল দল গুলি যা করলো, তাতে বিপাকে পড়বে যুবি, গেইলদের মতো খেলোয়াড়ের!

জাতীয় ক্রিকেট দলের পর এবার আইপিএলের আসরেও ঢুকে পড়ল ইয়ো-ইয়ো টেস্ট। ক্রিকেটারদের সহজে আয় করার রাস্তা চিরতরে বন্ধ হতে চলেছে। ‘জাতীয় দল নেয় না তো, কি হয়েছে? আইপিএল খেলে অর্থ রোজগার করব বা নাম কামাব’, আগামী দিনে সেটা আর বলতে পারবেন না কোনও ক্রিকেট খেলোয়াড়। মোদ্দা কথা হলো, সামান্য মেদযুক্ত শরীরে প্রতিভা যতই থাক, তার চেয়ে অনেক বেশি দামি ‘সিক্স প্যাক অ্যাবস’। ওটা না থাকলে, ক্রিকেট খেলতে দেওয়া হবে না এদেশে।

গত বছর জুনে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলে ফেরে ভারতীয় দল দেশে ফেরে। তারপরই জুলাই থেকে কার্যকরী হয়ে যায় ফিটনেস্ট টেস্টের সর্বোচ্চ স্তর। ইয়ো-ইয়ো টেস্ট পাশ করলে তবেই ভারতীয় দলের ক্রিকেট খেলা যায় বর্তমানে। সেই রাস্তাতেই হাঁটল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড পরিচালিত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের চার বড় ফ্যাঞ্চাইজি। ২০১৮ আইপিএলে খেলতে গেলে ক্রিকেটারদের ইয়ো-ইয়ো টেস্টে পাশ করা বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে, ওই চার ফ্র্যাঞ্চাইজি। বিদেশি ক্রিকেটাররাও এই নিয়মের আওতায় পড়বেন এখন থেকে।

প্রথমেই নাম নিতে হবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের। মুম্বইয়ের অদূরে একটি ক্রিকেট মাঠে সম্প্রতি এই ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটারদের ইয়ো-ইয়ো টেস্ট নিয়েছে। আর যে বাকি তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজি ইয়ো-ইয়ো টেস্ট বাধ্যতামূলক করতে চলেছে, তারা হল – রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর, কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ও রাজস্থান রয়্যালস। এখানে উল্লেখ্য, আরসিব টিমের অধিনায়ক বিরাট কোহলি, ভারতীয় ক্রিকেট দলেরও অধিনায়ক। আর জাতীয় দলে ইয়ো-ইয়ো টেস্টে বাধ্যতামূলক হয়েছে, তাঁরই জোরাজুরিতে।

তবে, কলকাতা নাইট রাইডার্স, চেন্নাই সুপার কিংস, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও দিল্লি ডেয়ারডেভিলস এখনও ইয়ো-ইয়ো টেস্ট বাধ্যতামূলক করেনি। তারা এবছর প্রথাগত ফিটনেস ট্রেনিংয়ের ওপরেই ভরসা রাখছে বাধ্যতামূলক প্রস্তুতি শিবিরে।

তবে, ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিসিসিআই’য়ের প্রতি আনুগত্য দেখাতে আইপিএল ক্রিকেটে ইয়ো-ইয়ো টেস্ট বাধ্যতামূলক করছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলি। সবই ঠিকই আছে। কিন্তু, ক্রিকেটারদের কেনা হয়েছে মানে, তাঁদের অর্থ দিতেই হবে, সে খেলাও আর না খেলাও। তাহলে ইয়ো-ইয়ো টেস্টে পাশ করা বা না পাশ করা, কোনও গুরুত্ব খাটে না।

ইয়ো-ইয়ো টেস্ট যখন হচ্ছে, তার মানে প্রথম একাদশ বাছার ক্ষেত্রে বেশি ফিট ক্রিকেটারদেরই প্রাধ্যান্য দেওয়া হবে ফিট ক্রিকেটারদের তুলনায়। সেক্ষেত্রে ইয়ো-ইয়ো টেস্টের রেজাল্টকে ঠিকমতো প্রাধান্য দিত পারবে তো ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির টিম ম্যানেজমেন্ট? দাম দিয়ে ক্রিকেটার কেনার পর, ইয়ো-ইয়ো টেস্টের ফল তেমন ভালো নয় বলে, তাঁকে খেলানো হবে না, এটাই কতটা যুক্তিগ্রাহ্য এই ধরণের ফ্র্যাঞ্চাইজি বেসড ক্রিকেটে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। পাল্টা প্রশ্ন উঠছে, ইয়ো-ইয়ো টেস্টে পাশ করার পর চোটপ্রবণ ক্রিকেটারদের বেশি বেশি ম্যাচ খেলালে, তাঁরা যদি চোট-আঘাতে জর্জরিত হয়ে পড়েন, তখন তো রিজার্ভ বেঞ্চের ক্রিকেটারদেরই মাঠে নামাতে হবে। আর তাতে ইয়ো-ইয়ো টেস্টে ফেইল করা ক্রিকেটাররাও থাকতে পারেন। তাহলে এই ধরণের নিয়ম চালু করা কোন ধরনের বিচার-বুদ্ধির পরিচয় দেয়?

উল্লেখ্য, মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ক্রিকেটারদের ইয়ো-ইয়ো টেস্ট পুরো করার জন্য ১৪.৫ সেকেন্ড সময় দেওয়া হয়েছিল। লেভেন ৫ থেকে শুরু করা হয় টেস্ট। প্রথমে ২০০ মিটার ছুটতে হয় ক্রিকেটারদের। ২০ মিটার দূরত্ব অন্তর অন্তর নিশানা বসানো হয়েছিল, পথের মাঝে বাধা সৃষ্টি করার জন্য। দৌড়ানোর সময়, তা না ছুঁয়ে এগোতে হয় ক্রিকেটারদের। তারপর ধাপে ধাপে বাকি যা পদ্ধতি আছে, সেই মতো টেস্ট দেন ক্রিকেটাররা।

এদিকে, একটি ইংরেজি দৈনিকের দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী বাকি তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজির কয়েকজন ক্রিকেটারও এই টেস্টের সময় উপস্থিত ছিলেন। তাঁরাও টেস্ট দেন। শুধু তাই নয়, সকলের সঙ্গে তাঁরা আবার ফুসফুসের জোর কতটা সেই পরীক্ষাতেও বসেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: