এবার পুজোর সেরা বাংলা ছবিটি হয়তো আপনি নিশ্চিত ভাবে দেখেননি ! কি সেই ছবি? দেখে নিন রিভিউ সহ!

এবার পুজোয় বাংলা ছবির বাজার প্রশ্নাতীত ভাবেই বেশ গরম। এক ঝাঁক নামীদামি ছবির মাঝে সিনেমাপ্রেমীরা বেশ ধন্দে পড়েছেন কোনটি দেখবেন এই প্রশ্নে।

একদিকে যেমন সৃজিত-প্রসেনজিত জুটির বড়ো বাজেটের রোমহর্ষক ছবি ‘ইয়েতি অভিযান’ রয়েছে তেমনই অন্যদিকে রয়েছে ‘ওপেন টি বায়োস্কোপের’ পর শিবপ্রসাদ-নন্দিতার প্রোডাকশানে অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়-এর পরের ছবি ‘প্রজাপতি বিস্কুট’। সুনীল গাঙ্গুলির ‘পাহাড়চূড়ায় আতঙ্ক’- অবলম্বনে তৈরি ‘ইয়েতি অভিযান’ ছবিটিতে এভারেস্টের চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য যদি দর্শককে দৃষ্টিসুখ দিয়ে থাকে তবে হতাশ করবে অবশ্যই গল্পের অতিনাটকীয়তা এবং অবাস্তব যুক্তি। অন্যদিকে ‘প্রজাপতি বিস্কুট’- আধুনিক বাঙালি সিলভার স্ক্রিনে ঠিক যেমন দেখতে চায় তেমন একটি ছবি। কিন্তু ছবিটি যদি ‘বেলাশেষে’,’ওপেন টি বায়োস্কোপ’ কিংবা ‘পোস্ত’-র মতো ছবির সাথে তুলনায় আনেন তবে নিতান্তই মামুলি। প্রথমার্ধ জমজমাট হলেও ছবির দ্বিতীয়ার্ধে গল্পের রাশ যেন দায়িত্ব নিয়েই ছেড়ে দিয়েছেন পরিচালক।

এই দুই হেভিওয়েটকে টেক্কা দিতে আসরে নেমেছে অঞ্জন দত্তের ‘ব্যোমকেশ ও অগ্নিবান’ এবং কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়-এর ছবি ‘ককপিট’।

ব্যোমকেশ হিসেবে যীশু সেনগুপ্ত-কে বাঙালি দর্শকের ‘ কহেন কবি কালিদাস’ থেকেই মনে ধরেছে। আবীর চট্টোপাধ্যায়-এর ব্যোমকেশ ছায়া থেকে বেরিয়ে যীশু বেশ ভালো অভিনয় করলেন। চিত্রনাট্য ও সংলাপের ত্রুটি অঞ্জন দত্ত ‘ব্যোমকেশ ও চিড়িয়াখানা’-র পর অনেকটাই শুধরে নিয়েছেন।

‘ককপিট’- ছবিটি অনেকটা কুড়িয়ে পাওয়া চোদ্দ আনার মতোই দেবের স্টারডম, কমলেশ্বর-বাবুর ডিরেকশান ট্রিক ও ককপিটের উড়ানে চেপে খারাপ ব্যবসা করে নি। এনটারটেইনিং মুভি যারা ভালোবাসেন ছবিটি তাদের মন্দ লাগবে না। এছাড়া রাজ চক্রবর্তীর ‘বলো দুগ্গা মাইকি’ ছবিটিকে কোনোমতে পাশমার্ক্স দিয়ে দেওয়াই যায়।

এবার আসা যাক আসল কথায়। এতগুলি ছবির ভিড়ে একেবারে চাপা পড়ে যাওয়া একটি ছবিই হয়তো বাঙালি দর্শককে এক অদ্ভুত মুগ্ধতায় নিয়ে যায়। হ্যাঁ ! নিশ্চিত ভাবে এই ছবিটি আপনি ভুলে গেছেন দেখতে। ছবির নাম- ‘সহজ পাঠের গপ্পো’। পরিচালক মানস মুকুল পালের এই ছবিটি খণ্ড খণ্ড ‘পথের পাঁচালি’-র দৃশ্যপট মনে করায়। ইতিমধ্যেই কিন্তু ছবিটি একটি জাতীয় পুরস্কারে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে বেশ সমাদৃত।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ‘তালনবমী’ গল্প অবলম্বনে তৈরি ছবিটি। উত্তর ২৪ পরগনার প্রত্যন্ত গ্রামের স্থানীয় ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে সংলাপে। জন্মাষ্টমী, তালনবমী, আর আজানের সুর এক করে এক অন্য অভিঘাত তৈরি করে এই ছবি। বৃষ্টিতে ভিজে যে আম কুড়োতে হবেই এটা যে কোন কাব্যরসিক ও জানেন। কিন্তু অভুক্ত আর সহজ পাঠ ছোটু কে দিয়ে কুড়িয়ে আনে ডিম সেদ্ধ , কারণ বাড়িতে যে কলমি শাক ছাড়া আর কিছু জুটছে না।

গল্পে একের পর এক গ্রামের সিন ছবির মতো বদলে যেতে থাকে, দূর থেকে কাশবনের নস্টালজিয়া, ডিঙায় বসে পদ্ম কুড়িয়ে আনার মতো সিনগুলি অপু-দুর্গা-কে মনে করায়।

না ! আর বলব না। কলকাতার মাত্র তিনটি প্রেক্ষাগৃহে চলা এই ছবিটি না দেখলে সত্যিই যেন হাজার পাওয়ার মধ্যেও অনেকটা না-পাওয়া থেকে যাবে সিনেমাপ্রেমীদের কাছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: