ঋতাভরী ‘বিবাহিত’! সোশ্যল মিডিয়ায় নিজেই শেয়ার করলেন ছবি

ভিজে চুলে দালানে বসে আছেন অভিনেত্রী ঋতাভরী চক্রবর্তী। আর তাঁর পরনে লাল বেনারসী। সিঁথিতে সিঁদুর। শুক্রবার সকালে এমনই একটি ছবি শেয়ার করে চমকে দিয়েছেন অভিনেত্রী। ছবিটি ইনস্টাগ্রামের স্ট্যাটাসে দিয়েছেন। আর সেই ছবি মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে ইন্টারনেটে। আর সেই ছবি দেখেই অনেকেই বলছেন, গোপনেই বিয়েটা সেরেছেন ঋতাভরী ?

তবে জানিয়ে রাখি – না, এটা ঋতাভরীর বিয়ের ছবি নয়। এটা ফোটোশুটের ছবি। যেখানে ঋতাভরীকে নতুন বউয়ের সাজে দেখা গিয়েছে। শুধু এই ছবি নয়। ঋতাভরী শেয়ার করেছেন আরও কয়েকটি ছবি। কখনও ট্র্যাডিশনাল তো কখনও বোল্ড ঋতাভরী ধরা পড়েছেন সোশ্যল মিডিয়ায়। তবে একটি ইন্টারভিউতে ঋতাভরী জানিয়েছিলেন, আমি সনাতন নিয়ম মেনে বিয়ে করতে চাই। আমার মায়ের বিয়েটা টেকেনি বলে আমার বিয়েও টিকবে না, এমনটা মনে করি না। বিয়ে, সম্পর্ক এগুলো আমার কাছে খুব সিরিয়াস ব্যাপার। তবে কবে বিয়ে করব, সেটা এখনও ঠিক করিনি। আপাতত কাজ নিয়ে খুব ব্যস্ত, কেরিয়ার নিয়ে আমি খুব সিরিয়াস৷ তিনি আরও বলেছিলেন, আমি মূলত মূক বধির শিশুদের জন্য কাজ করি।

‘আইডিয়াল স্কুল ফর দ্য ডেফ’ আমার বাড়ির খুব কাছেই৷ আমি ওদের যে হাতেকলমে কিছু শেখাই তা নয়, কিন্তু নানা প্রয়োজনের ব্যাপারে খেয়াল রাখি৷ ওদের যেমন যেমন ফান্ডিংয়ের দরকার, সুবিধের দরকার, সেগুলোয় সাহায্য করি৷ এই বাচ্চাদের অনেকের মধ্যেই শিল্পী হওয়ার মালমশলা রয়েছে৷ ওদের প্রোমোট করা, ওদের তৈরি কাজের এগজ়িবিশন করানো, এগুলোও করি। আমার মায়েরও একটা এনজিও আছে, ‘স্কাড সোসাইটি’। এই সংস্থা গ্রামের দিকে কাজ করে৷ এখন আমরা বাঁশতলা গ্রামের জন্য কাজ করছি। এ ছাড়াও ‘ক্লাস আইকিউ’-এর সঙ্গেও যুগ্মভাবে কাজ করি আমরা৷ যে সব মায়ের ছেলেমেয়েরা বড়ো হয়ে গেছে, হাতে এখন অনেক সময়, সেই মায়েরা বিভিন্ন স্কুলের হয়ে আন্ডার-প্রিভিলেজড ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় সাহায্য করেন৷ গতবছর পুজোর সময় আমরা ফান্ডিং তুলে এই বাচ্চাদের জুতো কিনে দিয়েছিলাম৷

তবে এমনিতে আমরা চ্যারিটিতে বিশ্বাসী নই৷ বরং মানুষকে স্বনির্ভর করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য৷ যাতে আমরা কখনও কাজ করতে না পারলেও ওরা জলে না পড়ে যায়। মায়ের এনজিওতে আমার মূল কাজ ফান্ড জোগাড় করা বা অন্য কিছু লাগলে সেটা জোগাড় করে দেওয়া৷ বাঁশতলা গ্রাম থেকে সবচেয়ে কাছের হাসপাতাল ঝাড়গ্রামে, অন্তত দেড়ঘণ্টার পথ৷ প্রসূতি মায়েদের ভীষণ সমস্যা হত৷ আমার এক বন্ধুর সাহায্য নিয়ে আমি একটা অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করেছি৷ তাতে অনেকটা সুবিধে হয়েছে৷ যে কোনও এমারজেন্সিতে এখন অ্যাম্বুল্যান্সটা কাজে লাগছে৷

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ঋতাভরী অভিনীত পরি মুক্তি পেয়েছে। অনুষ্কা শর্মা ও পরমব্রতর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছেন তিনি। অন্যদিকে ঋতাভরীর ওয়াচমেকার ছবিটি দেশ বিদেশের ফিল্ম ফেস্টিভালে ঘুরছে। সেখানেও ঋতাভরী বেশ প্রশংসা পেয়েছেন। এছাড়াও বেশ কিছু প্রজেক্টে কাজ করছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: