জেলে নাকি বাপুকে দেখতে পেয়েছিলেন সঞ্জয়!

অভিনেতার কাজটা খুব কঠিন। একটা চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে, কখন যেন সেই চরিত্রের মধ্যেই তিনি ঢুকে যান। তা তুমি যতই বড় অভিনেতাই হও না কেন, আসলে তুমি আসলে গল্পের চরিত্র। সঞ্জয় দত্ত কথাগুলো বলেছিলেন, ২০১২ সালে মুম্বইয়ের এক সিনেমার প্রমোশনে।

মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিনে বলিউডে এই ক বছরে যার নামটা সবার আগে আসে তিনি হলেন সঞ্জয় দত্ত। ২০০৬ সালে রাজু হিরানির সেই বিখ্যাত ‘লাগো রাহো মুন্না ভাই’-এ বাপুর সঙ্গে কথা বলে গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন সঞ্জয়। ২০১৩ সালে যেদিন মুম্বই বিস্ফোরণে জড়িত থাকার অভিযোগে জেল খাটতে গেছিলেন, তখন দেশের অনেকে কেঁদেছিলেন। তখন এক সাংবাদিক বলেছিলেন, দেশের মানুষের এই কান্নাটা যতটা সঞ্জয় দত্তের জন্য, তার চেয়েও বেশি মুন্নাভাইয়ের জন্য।

সঞ্জয়কে যারা কাছ থেকে দেখেছেন তারাও বলেন, লাগো রাহো মুন্নাভাইয়ের পর সঞ্জয় দত্তের ইমেজ তো বদলেছেই, উনি নিজেও বদলেছেন। সেই সঞ্জয় দত্তকে নিয়ে বলিউডে একটা কথা খুব শোনা যায়। যার সত্যতা কেউ যাছাই করে না, করতে চায়ও না। ঘটনাটা এরকম-

জেল থেকে পাকাপাকিভাবে ছাড়া পাওয়ার পর এক সন্ধ্যায় সহ অভিনেতা আরশাদ ওয়ারসি, ও পরিচালক রাজকুমার হিরানির সঙ্গে আড্ডা মারতে নিজের বাড়ির ছাদে ওঠেন সঞ্জয়। ঝিরঢিরে বৃষ্টির মাঝে চলছে তিন বন্ধুর গল্প। মুন্নাভাইয়ের সিনেমার রিক্রিয়েশনও বলা যেতে পারে। সেই সন্ধ্যার আড্ডায় সিনেমা, ব্যক্তিগত জীবন, রাজনীতি, দেশ নিয়ে কথা হওয়ার পর ‘সার্কিট’ আর্শাদ তার ‘মুন্নাভাই’ সঞ্জয় দত্তকে জানতে চান জেলজীবনের কথা। সঞ্জয় এটা নিয়ে অনেক কথা বলেন। আর তাঁর মাঝেই বলে বসেন, ”প্রথম প্রথম জেলের কুঠুরিতে খুব খারাপ লাগত। মনে হত এভাবে থাকতে পারব না। তারপর একদিন রাতে ঘুমটা ভেঙে গেল, দেখলাম চশমা পরা এক বৃদ্ধ। অবিকল আমাদের সেই সিনেমার বাপু-কে দেখতে পাই, তারপর দিন থেকে আর খারাপ লাগত না। অন্যরকম একটা মনের জোর পাই।” রিল-রিয়েল এক হয়ে যায়। লাগো রাহো মুন্নাভাইয়ের সেই, মুন্না বলে ডাক, গা কাঁটা দেওয়া বাপু-র উপস্থিতি, বাস্তবেও টের পেয়েছেন সঞ্জয়!

কে জানে! মুন্নার চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে সঞ্জয় আবার জেলের সেই আঁধার জীবনে মুন্না হযে গেছিলেন কি না। ওই যে গোড়াতেই বলেছিলাম, চরিত্র আর অভিনেতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: