বয়স্ক ভারতীয় নাগরিকদের জন্য বিশেষ আনল আইআরসিটিসি!

বয়স্ক নাগরিকদের ট্রেনে টিকিট কাটার নানা সুযোগ সুবিধে দিয়েছে ভারতীয় রেলকর্তৃপক্ষ। তার জন্য রয়েছে সিনিয়র সিটিজেন কোটা। কিন্তু তাতে কেবল ছাড় পাওয়া যায় টিকিটের ভাড়ার ক্ষেত্রে। কিন্তু কামরায় সিটের অবস্থানের কোনো সুযোগ সুবিধাই আলাদা করে পাওয়া যায় না এইসব বয়স্ক দুরপাল্লার ট্রেনযাত্রীদের জন্য। ফলে প্রায়শই দেখা দেয় নানাবিধ অসুবিধা। বয়েসের কারণে অসুস্থতার কারনে অনেকেই রেলের আপার বা মিডল বার্থে উঠতে পারেন না। তাদের অনেক সময়ই নির্ভর করতে হয় সহযাত্রীর দাক্ষিণ্যের উপরে। কেউ যদি দয়া করে তার লোয়ার বার্থটা ছেড়ে দেন।

কিন্তু অনেক সময় সহযাত্রীর সঙ্গেও থাকে কোনো বয়স্ক ব্যক্তি ফলত একপ্রকার বাধ্য হয়েই তাদের কোনোমতে চড়তে হয় মিডল বা আপার বার্থে। সমস্যা দেখাদেয় রাত বিরেতে বাথরুম যাওয়ার ক্ষেত্রে। মিডল বা আপার বার্থের ওই বয়স্ক প্যাসেঞ্জারদের বারবার নামা ওঠায় দেখা দেয় সমস্যা। তবে সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য নতুন বছরে সুখবর এনেছে রেলকতৃপক্ষ। এবার থেকে ট্রেনের সফর্ত একাকী বয়স্ক নাগরিকরা যাতে নীচের বার্থেই টিকিট কাটার সুযোগ পান তার জন্য নতুন কোটা সিস্টেম চালু করেছে ভারতীয় রেলওয়েজের ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন বা সংক্ষেপে আইআরসিটিসি। আইআরসিটিসির মুল ওয়েবসাইটটির হোম পেজেই এখন দেখা যাচ্ছে লোয়ার বার্থ/ সিনিয়র সিটিজেনের ওই কোটাটির অপশন।

ওই অপশন যাত্রীরা ক্লিক করলেই দেখতে পাবেন যে ওই ট্রেনে মোট কতগুল লোয়ার বার্থ খালি রয়েছে। ওই অপশনটি শুধু ফাঁকা থাকা লোয়ার বার্থগুলির সংখ্যাই দেখাবে টিকিট কাটতে চাওয়া ব্যক্তিকে। তবে ওই সিটের ক্ষেত্রে কোটা সিস্টেমের সুবিধা একমাত্র ভোগ করতে পারবেন ৬০ বা উর্ধ্বের বয়স্ক পুরুষ এবং ৪৫ বা তার উর্ধ্বের একাকী ভ্রমণরত মহিলারাই। এই কথা সরাসরি ওই পেজে লিখিত আকারে রয়েছে। তবে যদি কোনো কারণে ওই সমস্ত কোটার সমস্ত আসনই পুর্ণ হয়ে যায় তাহলে শুধু আপনাকে সাধারণ কোটার সিটগুলিও দেখানো হবে আইআরসিটিসির ওই অপশনে। ভারতের বিভিন্ন মহল থেকে রেলের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ এবং স্বাগত জানানো হয়েছে। স্বভাবতই রেলের এই সিদ্ধান্তে খুশি বয়স্ক নাগরিকরা। এবার থেকে তাদের আর অন্যের দয়ার উপর নির্ভরশীল হতে হবে না লোয়ার বার্থের জন্য।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: