দেশের সবচেয়ে বড় মধুচক্র হানা মোদীর রাজ্যে, গ্রেফতার ২৯ বিদেশিনী, রয়েছেন এয়ার হোস্টেসরাও

বডি মেসেজের নামে চলছিল মধুচক্র। রীতিমত ইন্টারনেট, সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে চলত শরীর শরীর খেলার হাতছানি। আজ নরেন্দ্র মোদীর রাজ্য গুজরাটে এমনই বেশ কিছু বড়সড় মধুচক্রের হদিশ মিলল। সাম্প্রতিককালে দেশে যতগুলি মধুচক্রে হানা দিয়েছে পুলিস, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় হল এই মধুচক্র। তবে কেঁচো খুড়তে কেউটের মত, মধুচক্রের হদিশ পেয়ে জাল ভিসা-ইস্যু করা চক্রের খোঁজ পেল পুলিস। শহরের মোট ১১টি স্পা-তে তল্লাসি চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এই বিষয়ে বিশদে তদন্ত চলছে বলে পুলিস সূত্রে জানানো হয়েছে। এয়ার হোস্টেস, মডেল সহ নানা বিদেশিনীদের এই মধুচক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিস যখন সেই স্পা সেন্টারে যায় তখন দেখে বহু বিদেশী মেয়ে সেই সেন্টারে আপত্তিজনক অবস্থায় রয়েছে। জাল ভিসা নিয়ে আহমেদাবাদের একাধিক স্পা সেন্টারে কাজ করার অভিযোগে ২৯ তরুণীকে গ্রেফতার করল পুলিস। ধৃতদের মধ্যে ২৮ জন থাইল্যান্ডের বাসিন্দা এবং ১ জন ইউক্রেন থেকে এসেছে।

আমেদাবাদ পুলিসের ডেপুটি কমিশনার আর জে ত্যাগী জানিয়েছেন, অনেকদিন ধরেই খবর ছিল আহমেদাবাদের প্রহ্লাদনগর ও নবরংপুরের বেশ কয়েকটি স্পা-তে বিদেশি তরুণীদের দিয়ে বেআইনি ভাবে কাজ করানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সেখানে কয়েকটি জায়গায় মধুচক্রের আসরও বসছিল, এমনটাই খবর ছিল। এরপরই ওই স্পাগুলিতে হানা দেয় পুলিস। প্রথমে ওই ২৯ বিদেশিনীকে আটক করে চলে পাসপোর্ট ও ভিসা পরীক্ষা। তারপর শনিবার তাদের গ্রেফতার করা হয়।

পুলিস জানিয়েছে, শহরের অভিজাত এলাকায় ওই স্পাগুলি গড়ে উঠেছে। আর সেখানে মোটা টাকা দিয়ে ম্যাসাজ করাতে যাচ্ছেন এলাকার কিছু যুবক যুবতী। তারাই এই মধুচক্রের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে স্পাগুলির মালিকদেরও।

নারায়ণপুরের একটি হোটেল থেকে মধুচক্রের অভিযোগে ১০ জন মহিলা সমেত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করল পুরাতন মালদা থানার পুলিশ। এদিকে, স্পা ও মেসেজ সেন্টারগুলিতে মধুচক্রের ঘটনা দেশজুড়ে বাড়ছে। ক দিন আগে দিল্লি, বেঙ্গালুরুতেও একইরকমের ঘটনা ঘটে।

জলপাইগুড়িতে বাড়িতে মধুচক্র চালানোর অভিযোগ উঠেছিল এক মহিলার বিরুদ্ধে। আজ ওই বাড়ি থেকে আপত্তিকর অবস্থায় মালিক সহ ছ’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ধৃতদের মধ্যে পাঁচজন মহিলা। জলপাইগুড়ির ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোহন্তপাড়ার ঘটনা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই বাড়ির মালিক তনিমা ঘোষ অনেকদিন ধরেই বাড়িতে মধুচক্র চালাচ্ছেন। খবর পেয়ে আজ ওই বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। জলপাইগুড়ি থানার IC বিশ্বাশ্রয় সরকার জানান, সেখান থেকে পাঁচ যুবতি ও এক যুবককে আপত্তিকর অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগামীকাল তাঁদের আদালতে তোলা হবে।

এর আগেও এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেছিলেন, তনিমাদেবী বিউটি পার্লারের আড়ালে প্রতিদিন দেহব্যবসা চালান। নভেম্বর মাসে মধুচক্রের খবর পেয়ে সেখানে বিক্ষোভও দেখিয়েছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। সেই সময়, কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছিল জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ।

এ রাজ্যে মধুচক্র এই মুহূর্তে একেবারেই কমন এক বিষয়। শুধু শহর কলকাতা নয়, মফস্‌সল শহরেও রমরমিয়ে চলছে মধুচক্র। সক্রিয় রয়েছে পুলিশও। সম্প্রতি মালদার নারায়ণপুরে ধরা পড়ল একটি মধুচক্র।

মালদার নারায়ণপুরের একটি হোটেল থেকে মধুচক্রের অভিযোগে ১০ জন মহিলা সমেত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করল পুরাতন মালদা থানার পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মালদার ডেপুটি পুলিশ সুপার উত্তম ঘোষের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল হানা দেয় ওই হোটেলে। অভিযোগ, সেখানে বেশ কিছুদিন ধরেই বসছিল মধুচক্রের আসর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: