জানেন মোদী সরকার শুধু বিজ্ঞাপনে জিএসটি-র পিছনে কত টাকা খরচ করেছে

জিএসটি-ভাল না খারাপ সেটার অনেক রকম ব্যাখা রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের অনেকেই বলেন, মোদী সরকার জিসটি করে আসলে দেশের ভালই করেছে। অবশ্য এর উল্টো কথাটাও শোনা যায়। তবে একটা কথা পরিষ্কার, ছোট ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পড়েছে। ২০১৭–র এক জুলাই দেশ জুড়ে কার্যকর হয়েছিল জিএসটি বা পণ্য পরিষেবা কর। তারপর থেকে মোদি সরকারের গুণগান গেয়ে এই জিএসটির প্রচারে যে বিপুল পরিমাণ টাকা বিজেপি সরকার খরচ করেছে তা শুনে চমকে যাবেন সকলে। নয় নয় করে ১৩২.‌৩৮ কোটি টাকা খরচ করেছে মোদি সরকার। একটি আরটিআই মামলার প্রেক্ষিতে এই তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।

বলিউড অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাস্যাডর করা হয়েছিল। বেসরকারি বিজ্ঞাপনে খরচ হয়েছে পাঁচ কোটি টাকারও বেশি। তথ্যের অধিকার আইনে করা মামলার প্রেক্ষিতে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের মাধ্যমে শুধুমাত্র সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে ১,২৬,৯৩,৯৭,১২১ টাকা। মন্ত্রকের দাবি বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমে কোনও বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়নি।অথচ জিএসটি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের সব প্রথম সারির দৈনিক পাতাজোড়া বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত জিএসটি থেকে ১২০০০কোটি টাকা আয় হয়েছে সরকারের। ১৮ অগস্ট পর্যন্ত কেন্দ্র জিএসটি সংগ্রহ করেছে ৩৬,৯৬৩ কোটি টাকা। আর রাজ্যগুলি সংগ্রহ করেছে ৪১,১৩৬ কোটি টাকা। কংগ্রেস দাবি তুলেছে জিএসটির আওতায় একটি মাত্র করের হার চালুর। নতুন কর জমানার বর্ষপূর্তি পালনের দিনেই তার জবাব দিতে মাঠে নামল কেন্দ্র।

এ দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন একটি হার চালুর সওয়াল। জিএসটি নিয়ে কেন্দ্রকে বিঁধতে গিয়ে বারবারই যে সওয়াল করছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধী বা প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম। মোদী স্পষ্ট জানান, এমন কোনও পরিকল্পনা নেই তাঁদের। বিরোধীদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যাট ধরে যুক্তি দেন, দুধ আর মার্সিডি়জের উপর কর কখনওই এক হতে পারে না। এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘তা হলে খাদ্যপণ্যের উপরে কর শূন্য রাখা যাবে না। কংগ্রেসের বন্ধুরা যখন জিএসটির আওতায় একটি মাত্র হার চালু করার যুক্তি দেন, কার্যত তাঁরা খাদ্যপণ্যেও ১৮% কর চাপাতেই বলেন।’’

মোদী একা নন। যে রাহুল এই করকে ‘গব্বর সিংহ ট্যাক্স’ তকমা দিয়েছেন, অসুস্থতার কারণে অর্থ মন্ত্রক থেকে দূরে থাকা অরুণ জেটলিকেও তাঁর সঙ্গে রবিবার ছায়াযুদ্ধ চালাতে হয়েছে দিল্লির অম্বেডকর ভবনে। সেখানেই এ দিন পালন হয় জিএসটির বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠান। জেটলি বলেন, ‘‘সিঙ্গাপুরে খাবার ও ভোগ্যপণ্য, দু’টিতেই ৭% হারে কর চাপে। কিন্তু ভারত, সিঙ্গাপুর এক নয়। যে দেশে এখনও দারিদ্র সীমার নীচে বাস করেন বহু মানুষ, সেখানে খাবার ও আমজনতার ব্যবহার্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যে সুরাহা দিতেই হয়।’’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: