এবার মহানগরে, গঙ্গার বুকে ছুটবে ওয়াটার ট্যাক্সি!

শহর কলকাতার বেশকিছু ঐতিহ্য রয়েছে যা অন্যান্য শহরগুলিতে বিরল। যেমন কলকাতা শহরের পরিবহন ব্যবস্থা। একমাত্র কলকাতা শহরেই ট্রেন, বাস, ট্রাম, ট্যাক্সি ছাড়াও রেড রোডে দেখা মেলে ঘোড়ার গাড়ির। এছাড়াও গঙ্গাবক্ষে ফেরির ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এবার এই তালিকায় নয়া সংযোজন গঙ্গাবক্ষে ওয়াটার ট্যাক্সি। মুখ্যমন্ত্রীর সাধের লন্ডন হওয়ার পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল কলকাতা। রাজ্যের পরিবহন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শীঘ্রই গঙ্গাবক্ষে ওয়াটার ট্যাক্সি নামানো হবে।


ইতিমধ্যে টেন্ডার ডাকার কাজও শুরু হয়েছে। গঙ্গাবক্ষে ওয়াটার ট্যাক্সি কলকাতাবাসীর কাছে নতুন ব্যাপার। ভাসমান অবস্থায় গঙ্গার সৌন্দর্য অনুভবের সুযোগ মিলবে। এই দুর্দান্ত সুবিধা নিয়ে এল পশ্চিমবঙ্গের পরিবহন দপ্তর। ভেনিস, দুবাই, ব্যাঙ্ককের আদল এবার পাওয়া যাবে কলকাতায় বসেই। মূলত বিদেশি পর্যটকদের কথা মাথায় রেখেই এই পরিষেবা চালু করতে চলেছে রাজ্য পরিবহন দপ্তর। পাশাপাশি, সাধারণ নাগরিকরাও এই প্রমোদ ভ্রমণের মজা উপভোগ করতে পারবেন। কেমন দেখতে হবে জানতে চাইলে পরিবহন দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, ৮ টি আসন থাকবে একটি ওয়াটার ট্যাক্সিতে। প্রত্যেকটি আসন আরামদায়ক। তবে এসির ব্যবস্থা থাকবে না। কারণ এই যানগুলির মাথায় কোনও ছাউনি নেই।


পরিবহন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মূলত ২টি রুটে চলবে এই ওয়াটার ট্যাক্সি। একটি মিলেনিয়াম পার্ক থেকে বেলুড় হয়ে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত। অন্য রুটে মিলেনিয়াম পার্ক থেকে দক্ষিণেশ্বর হয়ে বেলুড় পর্যন্ত যাবে। দুই ক্ষেত্রেই আবার ফিরতি পথে মিলেনিয়াম পার্কে ফিরে আসবে ওয়াটার ট্যাক্সি। পরবর্তীকালে রুট বাড়ানো হবে। এই পরিবহন রুটকে কাজে লাগিয়ে ওয়াটার ট্যাক্সি রাজ্যের পর্যটনকে আরও উন্নত করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।জানা গেছে একটি ওয়াটার ট্যাক্সি তৈরি করতে ২০ লক্ষ টাকা খরচ পরবে। যদিও টিকিটের মূল্য এখনও ঠিক হয়নি। পরে রাজ্যের অন্যান্য স্থানেও এই ওয়াটার ট্যাক্সি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য পরিবহন দপ্তরের।


তবে প্রথম দফায় ওয়াটার ট্যাক্সি কিনে আনা হবে। পরিবহন দপ্তর সূত্রে খবর, দক্ষিণেশ্বর এবং বেলুড় মঠে সারা বছর অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করেন। সেই কারণে এই জলট্যাক্সিগুলো যে সাধারণ মানুষের কাছে যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়ে উঠবে সেটা বলাই বাহুল্য। ট্যাক্সিগুলি কেনা হলেও তা কবে থেকে চালু হবে, এখনই স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়নি পরিবহন দপ্তরের তরফে।ওয়াটার ট্যাক্সি চালু হলে ব্যস্ত অফিস টাইমে যাত্রীদের বিশেষ সুবিধা হবে বলে মনে করছেন নিত্যযাত্রীরা।


প্রসঙ্গত, গত বছরই গঙ্গাবক্ষে ওয়াটার ট্যাক্সি চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল নবান্ন থেকে। জলপথ উন্নয়ন ও পরিকাঠামো তৈরির প্রকল্পের অধীনে মোট ৫০ টি ওয়াটার ট্যাক্সি চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের কাছে রাজ্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার লক্ষ্যে ওয়াটার ট্যাক্সি পরিষেবা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নবান্ন। সেই প্রকল্পের বাস্তবায়ণের প্রথম ধাপ বলা যেতে পারে এই দুটি ওয়াটার ট্যাক্সিকে। পরে এই নতুন জলযান পরিষেবাকে আরও উন্নত করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: