সাপের কামড়ে মৃত্যু অভিনেত্রীর, শোকের ছায়া!

সাপ দেখলে তার ভয় আঁতকে ওঠে সাধারণ মানুষ ।কিন্তু দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার হাসানাবাদ এলাকায় সাপ নিয়ে অভিনয় করতে দেখা গেল অভিনেত্রীকে। শুনতে যতই অবিশ্বাস্য মনে হোক এমন ঘটনাই ঘটেছে দক্ষিন চব্বিশ পরগনর হাসানাবাদ অঞ্চলের বরুনহাট এলাকায়। কিন্তু সাপের ছোবলে অভিনেত্রীর মৃত্যু ঘটবে এমনটা ভাবতে পারেননি কেউই। কিন্তু সাপ নিয়ে অভিনয়ের কি এমন প্রয়োজন পড়লো এটা নিয়েই প্রশ্নের মুখে সবাই।এই বিষয়টি তাই আরও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ঘটনাসূত্রে জানা গেছে বরুনহাট অঞ্চলের বাসিন্দা মনোরঞ্জন দাসের বাড়িতে নাকি প্রতি বছরই মনসামঙ্গলের পালা বসে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে প্রতি বছর প্লাস্টিকের সাপই ব্যবহার করা হয়।কিন্তু কি এমন কারণে এ বছর প্লাস্টিকের সাপের বদলে নিয়ে আসা হলো আসল সাপ। এলাকাবাসীদের মতে এবার নাকি দর্শকদের নতুন চমক দেওয়ার জন্য । তাই অভিনেত্রী কালিদাসী মন্ডলের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিষধর এই সাপ এবং এই বিষধর সাপ নিয়ে অভিনয় করতে থাকেন তিনি। দর্শকদের মতে অভিনয় চলাকালীন এই সাপের কামরেই মৃত্যু হয় তার।

ছবি সূত্র – 24 ঘন্টা

স্থানীয়দের মতে, ওই পালায় উপস্থিত এক ওঝাই নিয়ে আসে ওই দুটি বিষধর সাপকে। প্রায় ৪০০০০ টাকা খরচ করা হয় এই সাপগুলির পিছনে। এই কেউটে সাপগুলোকে হাতে নিয়ে অভিনয় করতে গিয়ে সাপের কামড়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন অভিনেত্রী। তার পরেই আস্তে আস্তে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েন তিনি। অন্যান্যদের মতে, অসুস্থ হওয়ার পরেও তাকে কোনো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়নি। বরং প্রায় ৪ ঘন্টা মঞ্চে তাকে শুয়ে রেখে চলে ওঝার ঝাড়ফুঁক। বিষক্রিয়া বাড়তে থাকায় আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে পড়েন তিনি। এর পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তারা আরও জানান যে হয়তো একটু আগে আনা হলে শেষ চেষ্টা তিনি করতে পারতেন।

প্রসঙ্গত, এই কেউটে সাপ নিয়ে খেলা দেখাতে গিয়ে মৃত্যু হয় জলপাইগুড়ির হলদিবাড়ির এক যুবকের। তারপর আবার আজকের সেই একই ঘটনা বাংলার মানুষকে তাদের সচেতনতার অভাব বুঝিয়ে দিলো। এই ঘটনা সম্পর্কে জানার পর মুখ্য বনপাল রবিকান্ত সিনহা বলেছেন, সাপ নিয়ে খেলা দেখানো বেআইনি । এর পর এই ধরণে  ঘটনা তিনি আর মেনে নেবেন না। এবং এই অভিযোগের বিরুদ্ধে তিনি যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।

দেখে নিন হার হিম করা  সেই ভিডিও-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: