ভারতে মুসলমানদের ভোটাধিকার থাকা উচিত না : বিশ্ব হিন্দু পরিষদ

এবার খবরের শিরোমামে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মুখপত্র, ” বাংলা বিশ্ব হিন্দু বার্তা”। কয়েকদিন আগেই কট্টর হিন্দুত্ববাদী নেতা তপন ঘোষ বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের হয়ে সওয়াল করেছিলেন এবং প্রয়োজনে হিন্দুদের জন্য জায়গা ছিনিয়ে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন। আর এবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বাংলা মুখপত্র “ বাংলা বিশ্ব হিন্দু বার্তা’য় নৃসিংহপ্রসাদ দে ভারতে মুসলিমদের ভোটাধিকার বাদ যাওয়ার পক্ষে জোর সওয়াল করলেন তার প্রবন্ধ ” হিন্দু সমাজ ভাবনার “ একটি অংশে। লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে ” বাংলা বিশ্ব হিন্দু বার্তা”র ৪৪ তম বর্ষের ৩ য় সংখ্যায়।”

উক্ত প্রবন্ধে লেখক লিখছেন -” ভারতে বসবাসকারী মুসলমানদের সাথে কোন বিরোধ নয়। তাদেরকে যে আশ্বাসে খন্ডিত হিন্দুস্থানে থেকে যেতে দেওয়া হয়েছিল তারা তেমনই থাকুক। কিন্তু হিন্দুস্থানে মুসলমানদের ভোটাধিকার কেন? শিক্ষা, জীবিকা, বাসস্থান, চিকিতসা, ধর্মাচারনের সব সুবিধা থাক। বাদ যাক ভোটাধিকার। হিন্দুস্থান হিন্দুদের। দ্বিজাতি তত্ত্বের এই মর্মে দেশভাগ হয়েছিল। ফলে এখানে স্বাভাবিকভাবেই দেশকে পরিচালনা এবং রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রনের সকল সুযোগ কেবলমাত্র হিন্দুদেরই থাকা উচিত। অন্যদের ভোটাধিকার এখনই বন্ধ করা যথার্থ বুদ্ধিমানের কাজ ( যেটা ১৯৪৭ সাল থেকেই করা উচিত ছিল) এবং সেটাই হবে হিন্দুদের প্রতি,মানবাধিকারেএ প্রতি সুবিচার। হিন্দুরা কি চান সেটা চর্চা হওয়ার সময় একেবারে দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত। এই প্রশ্নে অপেক্ষা চলবে না। অবহেলা তো নয়ই।”

নৃসিংহ প্রসাদ দে এর লেখা নিয়ে বেশ শোরগোল পড়লেও তার মতের সঙ্গে সহমত হননি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বাংলা সহ পূর্বাঞ্চলের প্রধান শচীন্দ্রনাথ সিংহ৷ তিনি বলেন, ‘‘দেখুন যেই লিখে থাকুক এটি অবশ্যই ভুল৷ এবং তার ধারনার সাথে ব্যক্তিগত স্তরে আমি একমত নই। মুসলিমরা দেশের অংশ৷ সাংবিধানিক ভাবে ওদের ভোটাধিকার স্বীকৃত৷ অবশ্যই তা সুরক্ষিত থাক৷অনুপ্রবেশকারী যারা তাদের ক্ষেত্রে অবশ্য ভোটাধিকার রোধ করা হোক৷ কিন্তু দেশ ভাগের আগে যারা এদেশে এসেছেন এবং এখনও আছেন তাদের জন্য ভোটাধিকার অবশ্যই থাকা উচিত।”

কিন্তু শাখা প্রধানের এহেন সাফাইয়ের পরেও প্রশ্ন থেকে যায় সহমত না হলে মুখপত্রে এমন একটি লেখা নির্বাচন হল কি করে না কি সাফাই বা জবাব সবটাই স্রেফ মুখের কথা। এবং সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার পূর্বাঞ্চলের শাখা প্রধান শচীন্দ্রনাথ সিংহ মুখে এ কথা বললেও পত্রিকার থেকে ভুল প্রকাশ বা অনিচ্ছাকৃত প্রকাশ হেতু কোন বিবৃতি এখনও অবধি প্রকাশ হয়নি। ফলে বেশ ভালোই বোঝা যাচ্ছে ইচ্ছাকৃত প্ররোচনামূলক খবর পেশ করতে চাইছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।ভোটের মুখে হিন্দুত্ব ইস্যু যে স্রেফ মিছিল মিটিং বা জন সমাবেশের বিষয় হয়ে উঠছে তাই নয় রাজনৈতিক সংগঠনগুলির মুখপত্রেও তা শিরোনাম হয়ে উঠছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: