ছেলে পরীক্ষায় ফেল, মিষ্টি বিলিয়ে বাজনা বাজিয়ে উৎসব পালন পরিবারের!

পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলে সাধারণত ছাত্র বা ছাত্রীর পরিবাররে লোকজনদের মুখ গোমড়া করে থাকাটাই স্বাভাবিক, অনেক ক্ষেত্রে তাই হয়ে থাকে। পরীক্ষায় ফল বাজে হলে অনেক ছাত্র ছাত্রীই অভিভাবকের কাছে প্রশংসিত হওয়া থেকে বঞ্চিত হয় তার বদলে শুনতে হয় অনেক বকা ঝকা। কিন্তু এবার যা হলো উল্টো। সম্প্রতি দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষার ফল প্রাকাশ পেয়েছে মধ্যপ্রদেশ রাজ্যে।

আর সেখানেরই এক ছাত্র প্রায় চারটি বিষয়ে ফেল করে, দশম শ্রেণীর পরীক্ষায় অকৃতকার্য থেকে যায়। কিন্তু সো নয় হলো সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু তার ফেল করার পরও তার মা বাবা যা পদক্ষেপ নেন সেটাই আশ্চর্যোর। ছেলের ফেল করার জন্য ছেলেকে বিন্দুমাত্র প্রহার বা তিরষ্কার না করে বরং সারা এলাকা জুড়ে মিষ্টি খাইয়ে এব শোভাযাত্রা বার করে ছেলেকে অভিনন্দিত করে তারা। তাদের এরকম কান্ডকারখানা দেখে হতবাক হয়ে যান এলাকাবাসী, তারা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারেন না ছেলের এরকম রেজাল্টেও এতো উৎসব পালনের কারণ কি!

পরে অবশ্য তার কারণ খোলসা করে দেয় ছাত্রের বাব সুরেন্দ্র। তার মতে, জীবনের এটাই শেষ পরীক্ষা নয় আর তিনি চাননা যে তার পুত্র একটা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হতে পেরে জীবনে কিংকর্তব্য বিমূঢ় হয়ে এবং মনোবল ভেঙে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলুক। তাই তার মনোবল ধরে রাখার জন্যই এরকম আয়োজন। ছাত্রের বাবার এরকম মানসিকতা দেখে অবশ্য পরে প্রশংসাই করেছেন ছাত্রের বন্ধুবান্ধ এব এলাকাবাসীরা। তারাও পরে শামিল হন এই উৎসবে।

তবে এই পডুয়া জানিয়েছেন যে চারটি বিষয়ে অকৃতকার্য থেকে উত্তীর্ণ না হতে পারার ফলে আপাতত পড়াশুনায় ইতি টানতে চায় তিনি। বাবার পরিবহণ ব্যাবসায় এক্ষেত্রে আপাতত বাবাকে সহযোগিতা করবেন এমনটাই বলেছেন। অন্যদিকে গত সোমবার মধ্যপ্রদেশ বোর্ডের ফলপ্রকাশ হয়েছে। ফলপ্রকাশের পর রাজ্যের প্রায় ১১ জন পড়ুয়া আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। তাদের মধ্যে ছয়জন মারা গিয়েছে। এবার দশম শ্রেণীর পরীক্ষায় ৩৪ শতাংশ এবং দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষায় ৩৪ শতাংশ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।

Source 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: