এই কাজ করলেই তিন মাসের জন্য লাইসেন্স বাতিল

ড্রাইভারদের অসতর্কতায় রোজ এদেশে কত শত দুর্ঘটনা ঘটে। বছরে কত মানুষের প্রাণহানি হয় তার ইয়ত্তা নেই। সচেতনতা আনতে যতই সরকার নানারকম অভিযান চালাক, যত রকম সচেতনতামূলক প্রচার চালাক না কেন, গাড়িচালকদের হুঁশ ফেরে না। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, ফোন কানে নিয়ে ড্রাইভিং, ওভারটেকিং ইত্যাদি চলতেই থাকে। শহরের রাস্তা তো বটেই, হাইওয়ের অবস্থাও তথৈবচ।

গাড়ি চালাতে চালাতে ফোনে কথা বলা যে অত্যন্ত বিপজ্জনক, সেই সতর্কবার্তা বহু বার বহু জায়গায় প্রচার করে এসেছে পুলিশ।  তাতেও কোনও কাজ না হওয়ায় এবার আরও কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে মহারাষ্ট্র সরকার। গাড়ি চালানোর সময় ফোনে কথা বললেই লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে তিন মাসের জন্য।

ওই রাজ্যের প্রতেকটি ট্রাফিক পুলিশ ব্রাঞ্চে এই সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়েছে ট্রাফিক  বিভাগের বিভাগের পক্ষ থেকে। মুম্বই-পুনে এক্সপ্রেসওয়েতে শুরু করা হয়েছে ‘জিরো টলারেন্স’ ক্যাম্পেন। সেই নির্দেশিকায় বলা আছে নির্দিষ্ট কিছু ট্রাফিক আইনভঙ্গের অপরাধে তিন মাসের জন্য লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

নির্দিষ্ট কিছু বলতে ঠিক ছ’ রকমের আইনভঙ্গের কথা স্পষ্ট করে বলা আছে। এর মধ্যে রয়েছে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, সিগন্যাল পেরিয়ে যাওয়া, ড্রাইভিং সিটে বসে ফোনে কথা বলা, কমার্শিয়াল গাড়িতে বাইরের যাত্রী তোলা এবং ওভারলোড করা। এই সমস্ত ক্ষেত্রে চালকের লাইসেন্স তিন মাসের জন্য বাতিল করা হবে। পুলিশ অফিসার বিজয় পাটিলের জানিয়েছেন, এই শাস্তি দিলে কোনও ব্যক্তি তিন মাস গাড়ি না চালাতে বাধ্য হবেন, ফলে তার একটা সমুচিত শিক্ষা হবে।

গত বছর মহারাষ্ট্রে ৩৫,৮০০টি দুর্ঘটনার রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছে। মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ১২,২০০ জনের। এই রিপোর্ট পাওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির তত্ত্বাবধানে বিশেষ কমিটি তৈরি হয়েছিল। উক্ত কমিটির তরফে এই পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। যদিও পুলিশ কতটা বিষয়টির ওপর গুরুত্ব সহকারে নজর রাখবে তা নিয়ে সন্দিহান খোদ সেই কমিটিই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: