যৎ সামান্য সঞ্চয়ে পোস্ট অফিসে, দশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন!

দেশের সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম পোস্ট অফিস। মানি অর্ডার থেকে শুরু করে, যৎসামান্য অর্থ সঞ্চয় – সবেতেই তাঁদের ভরসা দেশের পোস্ট অফিসগুলি। এখানকার কর্মচারীদের তুলনায় সহজ ব্যবহার আর সরকারি ভরসার কারণে পোস্ট অফিস সাধারণ থেকে অতিসাধারণদের মধ্যে খুব জনপ্রিয়। সেই পোস্ট অফিস এবার পুরোপুরি ব্যাঙ্ক সমান হয়ে যাচ্ছে। এই খবরটা ইতিমধ্যে অনেকের কানেই চলে গিয়েছে। যাঁরা এখনও জানেন না, তাঁদের জন্য বলে রাখা, আগামী ২১ তারিখ থেকে দেশের সবকটি পোস্ট অফিসকে ব্যাঙ্কের আদলে বদলে ফেলা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাধের প্রকল্প এটি। নাম দেওয়া হয়েছে ইন্ডিয়ান পোস্ট পেমেন্টস ব্যাঙ্ক (আইপিপিবি)। প্রধানমন্ত্রী মোদীর এর উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

মোদীজির সাধের প্রকল্পে পোস্ট অফিসগুলিকে ব্যাঙ্ক করে তোলার ফলে সরকারি-বেসরকারি ব্যাঙ্কের মতো পোস্ট অফিসের অ্যাকাউন্ট হোল্ডাররাও এবার থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেনদেন করতে পারবেন। যেমন – অনলাইন মানি ট্রান্সফার ও পেমেন্ট এবং এটিএম কার্ড। তবে, হ্যাঁ, কিছু সীমাবদ্ধতা অবশ্যই থাকে টাকা তোলা, পাঠানো এবং জমানোর ক্ষেত্রে। কারণ, পুরো ব্যাপারটাই দেশের দরিদ্র থেকে দরিদ্রতম মানুষদের কথা মাথা রেখে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। পোস্ট অফিসকে যখন ব্যাঙ্ক করে তোলা হচ্ছে, তাহলে সেখানে জীবন বীমার সুবিধাও নিতে পারবেন গ্রাহকরা। আকর্ষণীয় সব অফার রয়েছে।

পোস্ট অফিসে জীবন ব্যাপারটা কিন্তু নতুন নতুন নয়। শুনলে অবাক হবেন, ভারতে স্বাধীনতার অনেক আগে ব্রিটিশ আমলেই চালু হয় পোস্টাল লাইফ ইনস্যুরেন্স – সংক্ষেপে পিআইএল। ১৮৮৪ সালের পয়লা ফেব্রুযারি তারিখে এই জীবন বীমা প্রকল্পের সূচনা। তার ঠিক দশ বছর পর ১৮৯৪ সালে পোস্টাল ও টেলিগ্রাফ বিভাগের মহিলাদের জন্য জীবন বীমার সুযোগ করে দেওয়া হয়। ওটাই প্রথম দেশে মহিলাদের জন্য জীবন বীমা প্রকল্প চালুর ঘটনা। অন্য কোনও সংস্থা মহিলা জীবন বীমা করার সুবিধাই দিতো না।

পিআইএল স্কিম …

ভারতের পোস্ট অফিসগুলিতেই এই জীবন বীমা করানোর সুবিধা দেওয়া হয়। মোট সাত ধরণের স্কিম রয়েছে এর আওতায়। একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর লোন নেওয়ারও সুবিধা থাকে।

১. হোল লাইফ অ্যাস্যুরেন্স (সুরক্ষা) : যিনি জীবন বীমা করছেন, তার জন্য এটি। পলিসি ম্যাচিওরড হওয়ার পর বোনাস সহ তিনিই টাকাটা পাবেন। কোনও কারণে তিনি মারা গেলে অর্থটা তাঁর নমিনি বা আইনত উত্তরাধিকারী পাবেন। ১৯ বছর থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে সঞ্চয় করতে করতে হয় মাসে মাসে। সঞ্চিত অর্থের সর্বনিম্ন সীমা ২০ হাজার আর সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ। চালু করার পাঁচ বছরের মধ্যে পলিসি সারেন্ডার করে দিলে কোনও বোনাস নেই।

২. এনডাউমেন্ট অ্যাস্যুরেন্স (সন্তোষ) : এক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট বয়সে পৌঁছনোর পরই টাকা বোনাস সহ হাতে পাবেন বীমা কর্তা। কোনও কারণে তাঁর মৃত্যু হলে, সেই অর্থ বোনাস সহ পাবেন তাঁর উত্তরাধিকারী বা নমিনি সময়ের আগেই। সঞ্চিত অর্থের সর্বনিম্ন সীমা ২০ হাজার আর সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ।

৩. কনভার্টিবল হোল লাইফ অ্যাস্যুরেন্স (সুবিধা) : সুবিধা মোটামুটি এনডাউমেন্ট অ্যাস্যুরেন্সের মতোই। প্রয়োজনে গ্রাহক এই পলিসি অন্য কোনও পলিসিতে বদলে নিতে পারেন। তবে, ৬ বছর পর।

৪. অ্যান্টিসিপেটেড এনডাউমেন্ট অ্যাস্যুরেন্স (সুমঙ্গল) : যাঁরা স্বল্প সময়ের মেয়াদের জন্য টাকা জমাতে পছন্দ, তাঁদের এটি পছন্দ হবে। পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বোনাস সহ পাওয়ার সুবিধা। ১৫ বছর ও ২০ বছর করে টাকা রাখার মেয়াদ এক্ষেত্রে।

৫. জয়েন্ট লাইফ অ্যাস্যুরেন্স (যুগল সুরক্ষা) : যিনি বীমা করবেন, তাঁর স্বামী বা স্ত্রী, এই বীমার অর্থ পাওয়ার জন্য বিবেচ্য। তবে, সঞ্চিত অর্থের সর্বোচ্চ সীমা অনেকটাই কম।

৬. স্কিম ফর ফিজিক্যালি হ্যান্ডিক্যাপ্ড পার্সন : দিব্যাঙ্গ ব্যক্তিদের জন্য এই স্কিমটি। অন্যান্য পলিসি গুলির মতোই মোটামুটি সুবিধা রয়েছে। তবে, পলিসি নেওয়ার সময় মেডিকেল টেস্ট অবশ্যই করাতে হবে।

৭. চিলড্রেন পলিসি : ২০০৬ সালে এই পলিসি চালু হয়। ৫ থেকে ২০ বছর বয়ষ্করা এই বীমার আওতায় আসতে পারবে। ৪৫ বছর বয়স হওয়ার পর অর্থ বোনাস সহ ফেরত দেওয়া হবে।

তথ্যগুলি নেওয়া হেছে পোস্ট অফিসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: