বিধানসভা ভোটের আগে প্রকাশ্যে এল মধ্যপ্রদেশ পার্টি কংগ্রেসের আভ্যন্তরীণ কোন্দল

সামনেই পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোট যা ২০১৯ এর লোকসভা ভোটের সেমিফাইনালও বলা যেতে পারে। আর এর মধ্যেই প্রকাশ্যে এল প্রার্থী পদ নিয়ে জাতীয় কংগ্রেসের আভ্যন্তরীণ কোন্দল। সূত্রের খবর মধ্যপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী পদের টিকিট নিয়েই সমস্যার সূত্রপাত। পার্টি সুপ্রিমো রাহুল গান্ধীর সামনেই এক বৈঠকে মতানৈক্য সামনে এসে পড়ে দিগ্বিজয় সিং ও জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার মত দুই হেভিওয়েট কংগ্রেস নেতার। বাদানুবাদ এই পর্যায়ে যায় যে পুরো বিষয় নিয়ে বীরপ্পা মোইলি, অশোক গেহলাট ও আহমেদ প্যাটেল কে নিয়ে তিন সদস্যের এক কমিটিও গঠন করেছেন রাহুল গান্ধী।

এদিকে পুরো ঘটনায় নেতা রাহুলের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব নিয়ে আবার প্রশ্ন উঠে গেছে দলের অন্দরেই এবং নিজের দলের দুই নেতার কোদল পার্টি সুপ্রিমো নিজে সমাধান না করে কমিটির হাতে ছেড়ে দেওয়াকেও রাজনৈতিক মহলে রাহুলের কূটনৈতিক অভাবের চর্চাই নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সাথে সাথে লোকসভা ভোটের আগে আগেই দুই নেতার এহেন আচরণে কংগ্রেসের ভিতরে ভাঙ্গনকেও অস্বীকার করা যাচ্ছেনা। জাতীয় কংগ্রেসের তরফ থেকে কেউ সেভাবে বিষয়টিকে খোলসা না করতে চাইলেও রাহুল গান্ধী যে পুরো ঘটনায় যারপরনাই ক্ষুব্ধ, সূত্র মারফৎ তা জানা যাচ্ছে।

প্রার্থী পদে টিকিট নিয়ে দুই কং নেতার বাকযুদ্ধ এতটাই বড় আকার নেয় যে মিটিং এ রাত আড়াইটে অবধি এ বিষয়ে চর্চা চলে এবং দু পক্ষকেই শান্ত করার চেষ্টা করা হয়। সামনেই ২৮ শে নভেম্বর মধ্যপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন আর গত ১৫ বছর শাসনে থাকা বিজেপিকে হারাতে এবার বরিষ্ঠ নেতা কমলনাথের সাথে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াকে পার্টির হয়ে প্রচারে নামিয়েছে রাহুল গান্ধী। সূত্রের খবর কংগ্রেস জামানায় মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পদে ১০ বছর থাকা দিগ্বিজয় সিং যারপরনাই ক্ষুব্ধ দলের এহেন সিদ্ধান্তে যার ফলে টিকিট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসে পড়েছে। কিছুদিন আগেই সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে দিগ্বিজয় সিং এর একটি চিঠি ভাইরাল হয়েছিল সোশাল মিডিয়াতে যা সরাসরি ফেক বলে দাবী করেন দিগ্বিজয়। তবে বিধানসভা ভোটের আগে দলের ভেতরকার কোঁদল যে লোকসভা ভোটেও দলের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: