বিজেপিতে এক বছর পূর্তি উপলক্ষে নতুন দায়িত্বে মুকুল রায়

২০১৭ সালের শারদ চতুর্থীর দিনটা ছিল মুকুল রায়ের তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের অঘোষিত দিন। সেদিনই সুকিয়া স্ট্রিটে রামমোহন সম্মিলনীর পূজো উদ্বোধনে যোগ দিয়ে চমকে দেন মুকুল রায়। পূজোটা ছিল তৃণমূলেরই সাংসদ কুনাল রায়ের পাড়ার। আর সেদিন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের মহা সচিবও ঘোষনা করেন -” মুকুলের ওপর নজর রাখছে দল”। মুকুলের দল ছাড়ার সেই ছিল শুরু, তারপর জল অনেক দূর অবধি গড়িয়ে আজ মুকুল রায় বিজেপির জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে জায়গা করে নিয়েছেন।

তবে বিজেপি তে আসার এবং এই এক বছর টিঁকে থাকার মুকুলিত যাত্রাপথটি মোটেও কন্টকাতীর্ণ নয়। বলা যেতে পারে পদে পদে পরীক্ষা দিতে হয়েছে মুকুল রায় কে। তবে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের আস্থা অর্জন করেছেন মুকুল এবং বিজেপির অন্যান্য নেতাদের তুলনায় রাজ্য রাজনীতিতে এখনো মুকুল রায়ের সাংগঠনিক দূরদর্শিতা যে অনস্বীকার্য তা মুকুল দেখিয়েছেন পঞ্চায়েত ভোট থেকে।

পঞ্চায়েত ভোটে বিপুল সন্ত্রাসের মধ্যেও সাত হাজার পঞ্চায়েতে জিতে বিজেপিকে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের প্রধান বিরোধী হিসেবে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে মুকুল রায়। এটা ঠিক মুকুল বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর এখনো অবধি কোন বিধানসভা বা লোকসভা আসনের উপনির্বাচনে জেতেনি বিজেপি কিন্তু এটাও ঠিক কোন কোন জায়গায় ১৮% থেকে ৬০০% অবধি নিজেদের ভোট বাড়িয়ে নিতে পেরেছে বিজেপি। গত জানুয়ারীতে নোয়াপাড়া বিধানসভার উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী সন্দীপ বন্দোপাধ্যায়ের প্রাপ্ত ভোট থেকে দেখা যায় ওই কেন্দ্রে বিজেপির যেখানে অস্তিত্বই ছিল না সেখানে তাদের ভোট বেড়েছে ৪০০ শতাংশ, যা শাসক তৃণমূলের কাছে অবশ্যই মাথা ব্যথার।

পঞ্চায়েত ভোটে মুকুল রায়কে যে সাংগাঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তার অনেকাংশেই তিনি লেটার মার্কস সহ পাশ করেছেন বলেই পার্টি সূত্রের খবর এবং একমাত্র মুকুলের হাত ধরেই পশ্চিমবঙ্গের মসনদে আসতে পারে বিজেপি এমনটাই অমিত শাহ রা বিশ্বাস করেন আর তাই আসন্ন লোকসভায় আরো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন মুকুল রায়। এক বছর বাদে তিনি এবার দলের ১৫ সদস্যের রাজ্য নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান৷ এবং রাজনৈতিক মহলের ধারণা রাজ্য থেকে প্রার্থী বাছাইয়ে এবার বড়সড়ো ভূমিকা পালন করতে চলেছে মুকুল রায়। এক বছর আগের “ভাগ মুকুল ভাগ” নয় আর এবার বিজেপির অন্দরেই স্লোগান ” আয় মুকুল আয়”…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: