ব্রেকিং: ফের ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো দেশ, সুনামির সতর্কতা জারি

ভূমিকম্পের আঘাতে কেঁপে উঠল জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপপুঞ্জ। সূত্রের খবর স্থানীয় সময় সকাল ৮.৫৮ তে জাপানের পঞ্চম বৃহত্তম শহর সাপেরোর ৭৩ মাইল দক্ষিণে ভূমিকম্পের কম্পন অনুভব হয়। জাপানের তোমাকোমাইয়ের ৩৭ কিলোমিটার পূর্বে এই কম্পনের উৎসস্থল বলে মনে করা হচ্ছে। যার গভীরতা প্রায় ৩০.০০ কিলোমিটার । জাপানের ভূমিকম্প তীব্রতা স্কেল অনুযায়ী আজকের ভূমিকম্পটাকে ‘উইক ৫’ এর মধ্যে রাখছেন বিশেষজ্ঞরা। জিওলিজিকাল সার্ভের মতে কম্পনের তীব্রতা ছিল প্রায় ৫.২ রিখটার স্কেল। সুনামির সতর্কতা জারি হয়েছে।

যেহুতু হোক্কাইডোর এই অঞ্চলটিতে নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট ও কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট রয়েছে, তাই স্বভাবতই বড়সড় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছিলনা তবে প্রশাসনিক সূত্রের খবর নিউক্লিয়ার বা কোল প্ল্যান্টের কোনো ক্ষতি আপাতত হয়নি। গত কয়েকদিন ধরেই জাপান টোকিও ইন্দোনেশিয়া ধরে এশিয়ার বিস্তৃত অঞ্চলে যে ভূমিকম্প ও সুনামীর বারংবার ধ্বংসলীলা দেখা যাচ্ছে তাতে আজকের ভূমিকম্পেও সাধারন মানুষের মধ্যে সকাল থেকেই আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে রিখটার স্কেলে আজকের ভূমিকম্পের যে তীব্রতা সেই তীব্রতার ১০০০ থেকে ১৫০০ টি মত ভূকম্প পৃথিবী জুড়ে সারাবছর ঘটে। এই একই অঞ্চলে গত মাসেই ৪১ জন মানুষ মারা যান ৬.৭ রিখটার তীব্রতার তীব্র ভূমিকম্পের কাঁপনে। হোক্কাইডো দ্বীপপুঞ্জে তখন থেকেই একাধিক ছোটো ভূমিকম্পের আফটার এফেক্ট লক্ষ করা যাচ্ছিল। সেপ্টেম্বরের ভূমিকম্পে মোট ৬৮১ জন মানুষ আহত হন।

নিকটবর্তী আসুমা শহরের প্রায় ২২০ টি ঘরবাড়ি ধুয়ে মুছে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। জাপানের চারদিক ঘিরে মহাদেশীয় প্লেটগুলির একে অপরের সাথে মিশে যাওয়ায় এখানে ভূমিকম্পের প্রকোপ এত বেশি, গোটা পৃথিবীর মোট ভূমিকম্পের প্রায় ৯০ শতাংশই জাপানের এই রিং অফ ফায়ারে ঘটে এবং এই রিং অফ ফায়ার অঞ্চলটি পৃথিবীর মোট আগ্নেয়গিরির ৭৫ শতাংশ ধারন করে রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের মতে গত ৭ দিনে জাপানে মোট ৯ বার ভূমিকম্প হয়েছে এবং গত এক মাসে ভূমিকম্পের পরিমান ৮১ টি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: