তাজমহলে নামাজ পড়া নিয়ে তসলিমার বক্তব্যে ক্ষুদ্ধ মুসলিম সমাজ

আর্কিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার পর এবার নামাজ বিতর্কে মাঠে নেমে পড়লেন বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বলবত করতে একদিকে যখন সার্ভে অফ ইন্ডিয়া কেবলমাত্র শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি দিন গুলিতে তাজমহলে নামাজ পড়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তখনই তসলিমার বক্তব্য শুক্রবারে নামাজ পড়ায় ছাড় কেন?

বরাবরই বিতর্কিত এই বাংলাদেশি লেখিকা কিছুদিন আগেই পাকিস্তানকে এগিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশ থেকে। “বাংলাদেশ যা পারল না, পাকিস্তান সেটাই করে দেখাল।”- পাকিস্তানে ধর্মাবমাননার মামলায় মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই পাওয়া আসিয়া বিবির ইস্যুতে এমনটাই মন্তব্য করেছিলেন নির্বাসিতা লেখিকা তসলিমা নাসরিন। আবার আপোষহীন এই লেখিকা চটেছিলেন কওমী মাদ্রাসার স্বীকৃতিতে আর এবার তাজমহলে নামাজ পড়া প্রসঙ্গে তার মত তাজমহল কোন ধর্মীয় জমায়েতের জায়গা নয় বরং সেটি ভালোবাসার স্মৃতি ফলক। তাই সে খানে সপ্তাহের কোনও দিনই নামাজ পড়ার সিদ্ধান্ত ঠিক না।

নিজস্ব ট্যুইটারে তসলিমা লেখেন কেবলমাত্র জুম্মাবার বা শুক্রবার কেন, তাজমহলে সম্পূর্ণরূপে নমাজ নিষিদ্ধ করার দাবি করেছেন তিনি। তসলিমা লিখেছেন,

“তাজমহলে কখনই নমাজ পাঠ উচিত নয়। শুক্রবারেও নয়।” তিনি আরও লিখেছেন, “তাজমহল একটি দরগা, ভালোবাসার প্রতীক। সপ্তম আশ্চর্যের একটি। রাষ্ট্রসংঘের এই ঐতিহ্যশালী জায়গায় প্রতি বছর বহু পর্যটক আসেন।”


অন্যদিকে আবার আর্কিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার এমন নোটিশে তাজমহলে গত পনেরো বছর ধরে নামাজ পড়াচ্ছেন যে ইমাম সেই সাদিক আলি ও তার অন্যান্য কর্মীরা কিছুটা হতবাকই। সাদিক আলির সুরে সুর মিলিয়ে তাজমহলের ইন্তেজামিয়া কমিটির সভাপতি সৈয়দ ইব্রাহিম হুসেন জাইদি ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছেন৷ এনেছেন সংখ্যালঘু তথ্য। তাঁর দাবি, কেন্দ্র ও উত্তরপ্রদেশের সরকার মুসলিম বিরোধী হওয়ায় এমন সিদ্ধান্তে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তবে এত পুরানো একটা রীতির আকস্মিক বদলে যারপরনাই হতবাক এবং ক্ষুব্ধ স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দারা। তসলিমা নাসরিনের বক্তব্য তাদের ক্ষোভকে যে উসকে দেবে যে ব্যাপারে কোন দ্বিমত নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: