পাকিস্তানের ওপর ভারতের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের এই কথাগুলো মোদী সরকার কাউকে জানায়নি

২০১৬ সালের ২৮–২৯ সেপ্টেম্বরের রাতে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের কথা কারো অজানা নয়। দেশে বিদেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এ ভারতের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। এমনকি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এর সময় পাকিস্তানের ভীরুতার কথাও প্রধানমন্ত্রী জনসমক্ষে তুলে ধরেন। কেননা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক শেষ হওয়ার পর পাকিস্তানের সঙ্গে প্রথম যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল।

স্ট্রাইকের কথা পাক সেনাবাহিনীকে প্রথম জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নির্দেশ দিয়েছিলেন। ভারতের তরফ থেকে সকাল ১১ টা থেকে ওদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু শুরুতে ওরা ভয়ে পেয়ে ফোন ধরেনি। পরবর্তী সময় অনেক দেরীতে তারা ভারতের ফোনের জবাব দিয়েছিল। এবার পাকিস্তানের ওপর ভারতের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে কিছু অজানা তথ্য জেনে নিন :

৫) সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর প্রথমে ভারতের ফোনই ধরেনি পাকিস্তান!

সংবাদমাধ্যমকে জানানোর আগে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের কথা পাকিস্তানকে জানানোর চেষ্টা করেছিল ভারত। লন্ডনে প্রবাসী ভারতীয়দের অনুষ্ঠানে ঠিক এমনটাই বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সঙ্গে সন্ত্রাস নিয়ে খোঁচা দিতে ছাড়লেন না পাক সেনাবাহিনীকেও। দেশে বিদেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে এর আগেও ২০১৬ সালের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের সাফল্য নিয়ে অনেক কথা বলেছেন নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু বুধবার লন্ডনের সেন্ট্রাল হলে ‘ভারত কী বাত,সবকে সাথ’- অনুষ্ঠানে মোদীর গলা থেকে শোনা গেল বেশ কিছু অজানা তথ্য। তিনি বলেছেন,

‘‘ সার্জিক্যাল স্ট্রাইক শেষ হওয়ার পর পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল।স্ট্রাইকের কথা পাক সেনাবাহিনীকে প্রথম জানানোর জন্য আমিই নির্দেশ দিয়েছিলাম। ভারতের তরফ থেকে বেলা ১১ টা থেকে ওদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু শুরুতে ওরা ভয়ে পেয়ে ফোন ধরেনি। পরে দুপুরের দিকে ওদের সঙ্গে কথা হয়। এর পর সেই খবর সংবাদ মাধ্যমকে জানানো হয়।’’

৪) সেনাবাহিনী সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিল লেপার্ডের মূত্র।

দু’‌বছর আগে ২০১৬ সালের ২৮–২৯ সেপ্টেম্বরের রাতে সেই অপারেশন করতে যাওয়ার সময় সেনাবাহিনী সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিল লেপার্ডের মূত্র। কিন্তু লেপার্ডের মূত্র কেন?‌ কি কাজে তা লেগেছিল?‌ বুধবার প্রাক্তন নাগরোটা কর্পস কমান্ডার তথা লেফটন্যান্ট জেনারেল আরআর নিমভরকার সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের কথা বলতে গিয়ে জানান, সেনাবাহিনীর সেই দল লেপার্ডের মূত্র নিয়ে গিয়েছিল সেখানের পথে কুকুরদের সামলাতে। তিনি বলেন,

‘‌সেখানে সম্ভাবনা দেখা গিয়েছিল গ্রামের কুকুররা চিৎকার করতে পারে। যে পথ দিয়ে সেনাবাহিনী পাক অধিকৃত কাশ্মীরে গিয়েছিল সেখানকার গ্রামগুলিতে প্রচুর রাস্তার কুকুর ছিল। তাদের চিৎকারে পাকিস্তানের মাটিতে থাকা জঙ্গি ঘাঁটি এবং সেনারা সতর্ক হয়ে যেত। ফলে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করা যেত না। কিন্তু লেপার্ডের গন্ধ পেলে তারা আমাদের কাছেও ঘেঁষবে না। সেটা আমার জানা ছিল। তাই আমরা লেপার্ডের মূত্র সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলাম।’‌ 

৩) সার্জিক্যাল স্ট্রাইকটা ৫ ঘন্টা ধরে চলেছিল

সার্জিক্যাল স্ট্রাইকটা ৫ ঘন্টা ধরে চলেছিল। যা খুব সহজ ছিল না। অনেক ভেবে চিন্তে এই অপারেশন করা হয়েছিল। উরি সেক্টরে ১৭ জন সেনাকে খুন করেছিল জঙ্গিরা। এএলএইচ ধ্রুব হেলিকপ্টার বিশেষ কমান্ডো বাহিনীকে পাক অধিকৃত কাশ্মীর ভূখণ্ডে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তারপরও যেতে হয়েছিল আরও তিন কিলোমিটার। আর গোটা অপারেশনটি দিল্লি থেকে মনিটরিং করেছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিক্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং সেনাবাহিনীর চিফ জেনারেল দলবীর সিং। ‌‌

২) সোজা কথা 

উরি সেক্টরে ১৭ জন সেনাকে খুন করেছিল জঙ্গিরা। এএলএইচ ধ্রুব হেলিকপ্টার বিশেষ কমান্ডো বাহিনীকে পাক অধিকৃত কাশ্মীর ভূখণ্ডে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তারপরও যেতে হয়েছিল আরও তিন কিলোমিটার। আর গোটা অপারেশনটি দিল্লি থেকে মনিটরিং করেছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিক্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং সেনাবাহিনীর চিফ জেনারেল দলবীর সিং। ‌‌

১) লেপা ভ্যালির মুন্দাকালি গ্রামের লোকেরা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক টের পেয়েছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: