ব্রেকিং : শ্যুটিং বন্ধ টালিগঞ্জে! অনিশ্চয়তার মুখে টেলি ধারাবাহিকগুলির ভবিষ্যৎ

দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু সুরাহা না হওয়ায় কর্মবিরতিতে কলাকুশলীরা। টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে প্রযোজকদের অসন্তোষে সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে নামলেন ইন্দ্রপুরী স্টুডির টেকনিশিয়ানসরা। আর এই ঘটনার জেরে অনিশ্চয়তার মুখে একগুচ্ছ বাংলা টেলি ধারাবাহিকের ভবিষ্যৎ। এদিন সকাল থেকে অনেক কলা-কুশলীই শ্যুটিংয়ের জন্য স্টুডিওতে এলেও শ্যুটিং হয়নি। সমস্যা মেটানোরও নানান চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি। এদিকে বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে প্রোডিউসার্স-গিল্ডের একটি বৈঠক হওয়ার পরই এই কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন টেকনিশিয়ানসরা। তবে আশার কথা এই যে টেকনিশিয়ানসদের সমস্ত অভিযোগের সমাধানে ফেডারেশনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন প্রযোজকরা। সমস্যার কোনও সমাধান সূত্র বের হয় কিনা সেটাই দেখার।

কিন্তু টেকনিশিয়নদের দাবি কী ?

বেতন বৃদ্ধির দাবি তো রয়েছেই। সেই সঙ্গে সূত্রের খবর টেকনিশিয়ানসদের অভিযোগ রয়েছে একাধিক। তাঁদের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে পারিশ্রমিক বৃদ্ধির দাবি জানানো হলেও সেটা বাড়ানো হয়নি। পাশাপাশি, তাঁদের কাজের সময়ও নির্দিষ্ট করা হয়নি।অভিযোগ, বেশিরভাগদিনই অনেক রাতে তাঁদের বাড়ি ফিরতে হলেও পরদিন সকালে তাঁদের ফের শ্যুটিংয়ের জন্য হাজির হতে হয়। এছাড়া রাতে বাড়ি ফেরার জন্য বেশিরভাগ সময়ই তাঁদের নিজেদেরই গাড়ির ব্যবস্থা করে নিতে হয়, তাঁদের জন্য প্রযোজকদের তরফে কোনও ব্যবস্থা থাকে না। এত সমস্যার বিষয়ে ফেডারেশনকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন টেকনিশিয়ানসরা।


তবে এই ঘটনা প্রথম নয়, ২০১৬ সালেও কর্মবিরতিতে গিয়েছিলেন টলি পাড়ার কলাকুশলীরা। সেবার দাবি ছিল ওভারটাইম নিয়ে। কলাকুশলীদের সঙ্গে প্রযোজকদের সেই পুরনো সংঘাত৷ বহুবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সমস্যা সমাধানে নিজেই এগিয়ে এসেছেন৷ সমস্যা সমাধানের পরিবেশ সৃষ্টি করে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছিলেন কোনও মতেই শ্যুটিং বন্ধ রাখা যাবে না৷ কিন্তু দু বছর আগেও শ্যুটিং বন্ধ হয়েছিল, এবারেও সেই একই ছবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: