রাশিয়ান শিল্পী বানিয়েছেন উল্টানো আজব বাড়ি; দেখে তাজ্জব হয়ে যাবেন!

শখ মানুষেরই হয়। উদ্ভট শখেও যে মানুষেরই একমাত্র অধিকার তা বোঝা যায় রাশিয়া গেলে। মানুষের কল্পনাশক্তি যে কত বিচিত্র হয় ভিন্নমুখী হয় তা বোঝা যাবে এক রসিক শিল্পীর তৈরি উল্টানো দোতলা বাড়ি। যার সদর দরজা ওপরে। রাশিয়ার উফা প্রদেশে এক ভাস্কর তৈরি করেছেন এই বাড়ি।

বাড়ির আকর্ষনে দেশ-বিদেশ থেকে দর্শক আসছে বিস্তর। ট্যুরিস্টদের মুখে মুখে ফিরছে উল্টানো বাড়ির কথা।প্রায় ত্রিশ হাজার ডলার খরচ করে তৈরি হয়েছে এই ওলটানো বাড়ি। দেখলে মনে হবে কোনও স্থানীয় মিস্ত্রি ভুলবশত মাটিতে উল্টো করে বাড়িটা বসিয়ে ফেলেছে। তবে পুরো ব্যাপারটাই ঘটানো হয়েছে ইচ্ছাকৃত।

এটা শিল্পীর ভেবে চিন্তা করা পরিকল্পনার ফসল। ইতিমধ্যেই একটি প্রোডাকশন হাউস এই বাড়িটাকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় উল্টানো বাড়ি’ বলে ঘোষণা করেছে। একখণ্ড ঘাসের ওপর ওল্টানো ছাদ। বাড়ির সামনে একটি হলুদ চারচাকা গাড়ি উল্টো থেকে ঝুলছে। বাড়ির দেওয়াল, জানলা-দরজা থেকে ভেতরের আসবাব, হ্যাঙারে টাঙানো জামা, বাসনপত্র, টেবিল ল্যাম্প, আয়না, বইপত্র, ফ্রিজ থেকে ফ্রিজের ভেতরে রাখা আনাজপাতি, ঠাণ্ডা পানীয়ের বোতল মায় পাপোশ, দেওয়াল ঘড়ি সব কিছু ঝুলে আছে ছাদ থেকে।

সেই বাড়ির ভেতর ঢুকে সব কিছু ঘুরে দেখার সুযোগ মিলছে দর্শকদের। ভেতরে জিনিসপত্রের সঙ্গে ছবি তুলতে পারবেন। তবে হ্যাঁ, দেখতে হলে দর্শককেও ঝুলে ঝুলেই দেখতে হবে সব কিছু।
১০০ জন কর্মী দুই সপ্তাহের পরিশ্রমে তৈরি করেছেন এই উল্টানো বাড়ি। একসঙ্গে ৫০ জন ঘুরে দেখতে পারবেন গোটা বাড়ি। আলেকজান্ডার ডনস্কুই নিজে হাতে তৈরি করেছেন এই উল্টানো বাড়ি। তিনি এই বাড়ির তত্বাবধায়কও।

এই নিয়ে নয়টা উল্টো বাড়ি তৈরি করেছেন তিনি। বললেন, ‘বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে আমরা ফিজিক্সকেই উল্টে দিয়েছি। শুধু গোটা বাড়িটাই নয়, ভেতরের ছোট ছোট জিনিসও ওলটানো। এমনকি চায়ের কাপটাও। এমন বাড়ি দেখে বাঙালি রবীন্দ্রনাথের কথাকে একটু বদলে বলতে পারে, ‘তিন হাত শরীরের জন্য কী জিনিসই না গড়েছি!’

দেখে নিন সেই ভিডিও –

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: