আর কবে শিক্ষিত হবে ময়দানের ফুটবল সমর্থকরা!

কলকাতা: ময়দানের ফুটবল সমর্থকরা আর কবে শিক্ষিত হবেন, ১৯ জুলাইয়ের শিল্ড ফাইনালের মিনি ডার্বির ঘটনার পর ফুটবল দাঙ্গার ঘটনায় প্রশ্নটা আরও বেশি করে উঠছে৷ বারাসতে শিল্ড ফাইনালে ছোটদের বড় ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ইস্ট-মোহন৷ ফাইনালে জেতে ইস্টবেঙ্গল৷ ম্যাচের পর মোগনবাগান সমর্থকদের ছোড়া ইটের আঘাতে মাথায় গুরুতর চোট পান সমর্থক অনির্বাণ কংসবণিক৷ মাথা ফাঁটে তাঁর৷ পড়ে জানা যায় মাথায় রক্ত জমাট বাঁধে৷ পরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চারটি হাসপাতাল ফিরিয়ে দেওয়ার পর এক বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷ বুধবারই তাঁর মাথায় অস্ত্রোপচার হয়েছে৷ অনির্বাণের অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা৷ আপাতত সুস্থ রয়েছে এই সমর্থক৷ আহত ফুটবল সমর্থকের পাশে দাঁড়িয়েছে ইস্ট-মোহন৷ অনির্বাণের চিকিৎসার খরচ ভাগাভাগি করে নিয়েছে ময়দানের দুই ক্লাব৷বুধবার অনির্বাণকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন দুই প্রধানের কর্তারা৷

ময়দানেই এই ঘটনা ফের সমর্থকদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল৷ ডার্বি মানেই কি রক্তাক্ত হবে ফুটবল!অভিশপ্ত এক ডার্বিতে মাথা ফেটেছিল রহিম নবির৷ ছয় বছর আগে ডিসেম্বরের বিকেলের এক স্মৃতি। খাবরা ও নির্মল ছেত্রীর বল দখলের লড়াইকে কেন্দ্র করে ম্যাচের উত্তাপের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে। এরপর রেফারিকে কুৎসিত ইঙ্গিত করা, ওডাফাকে লাল কার্ড দেখানো৷ দুই ঘটনার পর উত্তাল হয়ে পড়েছিল যুবভারতীতে। গ্যালারি থেকে ছোড়া ঢিলে ফেটে চৌচির হয়ে গিয়েছিল নবির মাথা। পরে নবিকে নিরাপত্তার কর্ডন দিয়ে মাঠের বাইরে নিয়ে এসেছিলেন প্রতিপক্ষ দলের মেহতাব-অর্ণবরা। এরপরও শিক্ষা নেওয়া তো দূর ক্রমেই আরও মাত্রা ছাড়িয়েছে ময়দান সমর্থকদের অসভ্যতা৷

ম্যাচ হারলে ফুটবলার থেকে কোচকে কটূক্তি! ময়দান ফুটবলে এটা নতুন নয়৷ সেই সঙ্গে কোচের দিকে ইট পাথর কিংবা থুথু ছুঁড়ে আসা জুড়ে গিয়েছে শেষবার৷ বাগানের হয়ে কোচ সঞ্জয় সেন ব্যর্থ হওয়াতে এমন ঘটনা ঘটেছিল৷ এবার আবেগের রেষারেষিতে গুরুতর আক্রান্ত হয়েছেন এক ফুটবল সমর্থক৷ অনির্বাণের ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে আর কবে শিক্ষিত হবে ময়দানের ফুটবল সমর্থকরা৷

শেষবার ঘরোয়া লিগের ম্যাচে টলিগঞ্জ অগ্রগামীকে হারানোর পরও ময়দানের সমর্থকদের অসভ্যতার চিত্র প্রকাশ পেয়েছিল৷ বাগান তাঁবুর বাইরে ইটবৃষ্টি করতে দেখা গিয়েছিল বেশ কিছু সমর্থকদের৷ এমনকি মোহনবাগান ক্লাবের গেটটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ সেই অসভ্যতার পর ফের এই ঘটনা ময়দান ফুটবলকে কলুষিত করল ফুটবল সমর্থকের মাথা ফাটা৷

বিদেশের ফুটবল লিগের সমর্থকদের থেকে এবার শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন এসেছে বলেই মনে হয়৷ ব্রাজিল… ব্রাজিল… বলে শুধু গলা ফাটালেই চলবে না৷ময়দান সমর্থকরা শিক্ষা নিক সেই বিদেশি সমর্থকদের থেকেই৷ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে হারের পর পুতিনের দেশে থাকা সেলেকাও ভক্তরা নেইমারদের রাশিয়া ছাড়ার দিন কোনও কটূক্তি করেনি৷এমনকি নেইমার-জেসুসরা এয়ারপোর্টে রওনা দেওয়ার আগের মুহূর্তে তাঁদের টিমবাসে উঠতে দেখবে বলে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছে৷ বিদায়ী মুহূর্তে তাঁদের উদ্দেশ্য করে হাততালি দিয়ে ২০২২ বিশ্বকাপের জন্য উৎসাহ দিতে থাকেন সমর্থকরা৷ময়দানের ফুটবলে জিতলে তুমিই রাজা আর হারলেও শুধুই ভিলেন, ফুটবলার-কোচ-ক্লাব-কর্তাদের সম্মানের কোনও বালাই নেই! ফুটবলকে ভালবাসুন, রক্তাক্ত মুখ আর দেখতে চায় না ময়দান৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: