রোজ রোজ ধনে পাতা খান অতো… জানেন কি ক্ষতি করছেন শরীরের?

ঝালমুড়ি খাবেন, তাতে চাই। ফুচকা খেতে ইচ্ছে হয়েছে, ওতেও দেওয়া চাই। বাড়িতে দু’বেলা রান্না হচ্ছে, তাতেও চাই ধনে পাতা। অনেকের আবার নাকে ওই গন্ধটা গেলেই অর্ধেক খাওয়া হয়ে যায়। কারও আবার একটু ধনে পাতার চাটনি খেতে খেতে না পেলে, খাওয়াটা যেন পুরোই হয় না হয় না ভাব। হাতে গোনা কয়েক জনকেই হয়ত পাবেন, যাঁদের ধনে পাতার গন্ধে একটু আপত্তি আছে। তবে, একসঙ্গে খেতে বসলে তারাও খেয়ে ফেলেন। কোরিয়েন্ড্রাম স্যাটিভাম। পাতি বাংলায় যেটা ধনে পাতা হিসেবে পরিচিত, সেটা কিন্তু চাইনিজ পার্সলে পাতা নামেও পরিচিত। এটা হয়ত অনেকেই জানেন না। এই ধনে পাতার অনেক ঔষধী গুন রয়েছে। তাই যাঁরা নেহাৎ স্বাদ ও গন্ধের জন্য ভালোলাগে বলে খান, তাঁদের শরীরে এই ভেষজ উপাদান ঠিক চলে যাচ্ছে অজানতেই।

ওই যে আজ মাছের কালিয়া হচ্ছে, দাও ওতে একটু ধনে পাতা ফেলে। বেশ ঝাল ঝাল কষা মাংস করা হয়েছে, সেটাকে সাজানোর জন্য একটু ধনে পাতা কুচিয়ে না দিলে কি আর হয়! তাই দিয়ে দিলেন। আবার বাড়িতে হয়তো কেউ দইবড়া বানিয়ে খাচ্ছেন, সেখানেও ধনে পাতা কুচি ছড়াতে পছন্দ করেন অনেকে। একই বায়না ধোঁকলা খাওয়ার ক্ষেত্রে দেখা যায়। যার যেমনভাবে স্বাদ নিতে পছন্দ আর কি…! আর তাই বাজারে গিয়ে কাঁচা আনাজের থলেটা ভর্তি হয়েও যেন ভর্তি হয় না, যতক্ষণ তার থেকে কয়েকটা ধনে পাতার সারি উঁকি দিচ্ছে। আমাদের পশ্চিমবঙ্গে এই চলটা নেই। তবে দিল্লি, বম্বে, উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে বাজার করতে গেলে বাজারওয়ালা সবার শেষে ফাউতে কাঁচা লঙ্কা আর ধনেপাতার একটা আঁটি ঠিক গুঁজে দেবেই দেবেন।

তবে, এটা জানেন কি, আপনার প্রিয় ধনে পাতার যেমন ভেষজ গুন আছে, তেমনই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে। অত্যাধিক ধনে পাতা খাওয়া শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক।

১. লিভারের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয় এই গাছের রস। এবার লিভার তার কার্যক্ষমতা হারানোর ফলে মানব শরীরে নানান সমস্যা দেখা দেয়। লিভার ঠিক না থাকলে, হজমের গোলমাল তো হবেই হবে। অনেকে এই কারণেই গ্যাস-অম্বলে ভোগেন।

২. ধনে পাতায় এক ধরণের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে। অ্যান্টি অক্সিডেন্টের কাজ হলো, শরীরের কোষকে তাড়াতাড়ি বুড়িয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করা। কিন্তু, যদি কোনও কারণে মাত্রা বেড়ে যায়। তাহলে আবার হীতে বিপরীত হতে পারে।

৩. ধনে পাতায় থাকা বিশেষ উপাদান উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত খেতে খাকলে রক্তচাপ একেবারে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। ওটা আবার ঠিক নয়।

৪. হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিসের মতো শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা রয়েছে যাঁদের, তাঁদের জন্য ধনে পাতা ক্ষতিকারক। ইনহেলার নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে অতিরিক্ত ধনে পাতা খাওয়ার কারণে।

৫. ধনে পাতায় আরও একটি বিশেষ উপাদান আছে, যা ত্বককে সূর্যরশ্মির ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে রক্ষা করে। তবে, অতিরিক্ত ধনে পাতা খাওয়ার কারণে সমস্যা তৈরি হতে পারে। কারণ, ধনে পাতায় থাকা ওই বিশেষ উপাদান আবার সূর্যরশ্মি থেকে ভিটামিন ডি তৈরি হতে বাধা দেয়।

৬. ধনে পাতায় নানান ধরণের অ্যাসিড জাতীয় উপাদান থাকে। এই সবের কারণে মুখের ভিতর প্রদাহ দেখা দিতে পারে।

৭. গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ধনেপাতা মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। ধনে পাতায় থাকা একটি বিশেষ উপাদান মাতৃত্বের ক্ষেত্রেও বাধা তৈরি করে পারে।

সবশেষে এটাই বলা, কোনও জিনিস অতিরিক্ত ভালো নয়। পরিমাণ মতো খান আর সুস্থ থাকুন। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: