নিয়মিত মৌরি খান সুস্থ থাকুন! জানুন ১২ টি উপকারিতার কথা…

একটা আমন্ত্রণ বাড়িতে গেলেন বা কোনও রেস্তোরাঁতেই খেতে গেলেন, সেখানে ভালোমন্দ খাওয়ার পর পেল্লাই একটা ঢেকুর তুলে সোজা মৌরীর বাটিটার দিকে হাত বাড়ানো। জম্পেশ একটা খাওয়া শেষে ওটা না হলে মনটা যেন কি একটা হলো না, হলো না করে। হাতে মৌরী নিয়ে মুখে যাওয়ার পর তবেই পরিতৃপ্তি।

রসনা তৃপ্তি আর মুখসুদ্ধিতে মৌরী। দুপুরের মহাভোজ বা রাতের এলাহি খানাপিনা, এই দুইয়ে মৈরী যোগ কিন্তু কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয়। এর পেছনে কারণ রয়েছে। খাওয়া-দাওয়া শেষে মৌরী লোকজনের হাতের তালুতে দেওয়ার পিছনে অনেক কারণ রয়েছে। হ্যাঁ, মৌরী খানিক চিবিয়ে একটু জল খেলে মুখে মিষ্টি মিষ্টি স্বাদ লাগে বটে। তবে, মৌরীর গুনাগুন কিন্তু অনেক। গুনাগুন বলতে স্বাস্থ্যগুন আর কী…

আমাদের অভ্যেস বলুন বা সংস্কৃতি, সবকিছুর পিছনেই কোনও না কারণ রয়েছে। কোনও ব্যাপারটাই শুধু নাম কে ওয়াস্তে নয়। তবে, মৌরীর সঙ্গে মিছরি মেশানো বা রঙ-বেরঙের মুড়ি লজেন্সের ব্যবহার, ওগুলি স্বাদ বাড়ানোর জন্য। আর কিছু নয়।

মৌরীর বিশেষ গুনাগুন –

১. মৌরী অন্যতম গুনের মধ্যে হলো দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করা। সোজা কথায় চোখের জ্যোতি বাড়াতে মৌরীর জুড়ি মেলা ভার।

২. মৌরী বায়ুরোগ নাশক। গ্যাস, অম্বলের সমস্যা এখনকার দিনে কোনও অবাক করে দেওয়া ঘটনা নয়। ভালোমন্দ কিছু খেলে এমনিই হজমের গোলমাল হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। মৌরী সেটা দূর করে খাবার হজমে সাহায্য করে। গ্যাসের সমস্যা দূর করে।

৩. মৌরী জলে ভিজিয়ে রেখে সেই জল খাওয়ার কথা তো শুনেছেন। অনেকেই খেয়েওছেন। মৌরীর রস পেট ফাঁপা ভাব দূর করে। এক সপ্তাহ যদি খেতে পারেন, রোজ সকালবেলা নিয়ম করে, তাহলে ভীষণ উপকার পাবেন। পেড় কামড়ালেও তৎক্ষণাৎ উপকার দেয় মৌরী ভেজা মিছরি জল।

৪. খাওয়ার সঙ্গে হজমের গোলমালের ব্যাপারটা সবসময় জড়িয়ে থাকে। মৌরী সেটা হতে দেয় না। আর যদি তেমন কোনও ব্যাপার থেকেও থাকে, সেটাও দূর করে।

৫. মায়ের বুকের দুধ নবজাতক সন্তানের জন্য বলদায়ক এবং রোগপ্রতিরোধক। অনেক সময় প্রসূতি মায়ের শারীরিক সমস্যা থাকলে পর্যাপ্ত দুধ উৎপন্ন হয় না। মৌরী সে সমস্যাও দূর করে এবং বুকের দুধ বাড়াতে সাহায্য করে।

৬. মুখে কোনও কারণে ঘা হয়ে থাকলে, কোনও খাবার খেলেই জ্বালা করে। মাঝেমধ্যে এরকম সমস্যায় যাঁরা ভোগেন, তাঁরা নিয়মতি মৌরী চিবিয়ে দেখতে পারেন। মৌরীর রস ওই সমস্যা একেবারে দূর করে।

৭. সর্দি-কাশিতে ভোগা ব্যাপারটা এখনও প্রায় সহনীয় হয়ে গিয়েছে। হাল্কা সর্দি সবারই কম-বেশি থাকে দূষণ বেড়ে যাওয়ার কারণে। যদি এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে চান, তাহলে নিয়ম করে মৌরী মুখে ফেলুন। দেখবেন উপকার পাবেন।

৮. মৌরী যেমন উপকারী, তেমনই তার গাছের পাতাও উপকারী। ছোটোবেলায় অনেকেরই কৃমি হয়। মৌরীর পাতার রস বাচ্চাদের খাওয়ানো হয় এই কারণেই। বড়রাও এর উপকার নিতে পারেন চাইলে।

৯. মৌরীর গায়ে যে আঁশ রয়েছে, তাতে একটি বিশেষ উপদান রয়েছে। ওই উপাদান কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধক।

১০. স্ট্রোক এবং হার্টের রোগ বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ভোগেন মানুষ। মৌরী এসবের সম্ভাবনাকে কমিয়ে আনে।

১১. গ্যাস অম্বলের প্রধান কারণ কোষ্ঠ-কাঠিন্য। মৌরী মলত্যাগের সমস্যাকে দূর করে, পেটে ময়লা জমতে দেয় না। আর পেটে ময়লা না জমলে গ্যাস, অম্বল ইত্যাদির সমস্যাও থাকে না।

১২. যাঁদের হাঁপানি এবং ব্রঙ্কাইটিসের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য উপকারী মৌরীর পাতা। এই গাছের পাতা গরম জলে সেদ্ধ করে সেই ধোঁয়া নিঃশ্বাসের সঙ্গে নিলে উপকারে লাগে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: