ব্ল্যাকহেডস নিয়ে ভুগছেন? ঘরোয়া টোটকাতেই পান মুক্তি!

পুরুষ হোক বা মহিলা, একটা ব্যাপার কিন্তু কমন ফ্যাক্টর। মুখ যদি তরতাজা দেখায় আর ত্বক যদি ঝকঝকে থাকে, তাহলে বয়সের ব্যাপারটা কেউ ধরতে পারবে না। ছেলেরা বয়স নিয়ে অতোটা মাথা না ঘামালেও, মনে মনে ঠিকই ভাবনাটা আসে। কার না ইচ্ছে হয় বলুন, নিজের বয়স ধরে রাখতে। ফলে, রপচর্চাটা তাই আজ আর শুধুমাত্র মহিলাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। আর সেই কারণে, অলিতে গলিতে এখন লেডিস পার্লারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জেন্টস পার্লারের সংখ্যাও বাড়ছে। এখন এই শহরেও ইউনিসেক্স পার্লারের সংখ্যা বেড়েছে।

হালের ফ্যাশনের নিত্য নতুন হেয়ার কাটিং ছাড়া পার্লারে যাওয়ার প্রধাণ কারণ মুখে ফেশিয়াল, স্ক্রাবিং ইত্যাদির পরিষেবা নেওয়া অর্থেক বিনিময়ে। কারণ, অনেকেই জানেন না ত্বকের য্ত্ন ঠিক কিভাবে নিতে হয়। তাই জন্য এক্সাপার্টদের সাহায্য নেওয়া। আর বাজারে এমন কিছু প্রোডাক্টও আছে যেগুলি সচারচর আপনি চাইলেও কিনতে পারবেন না। সেগুলি একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি বেসড পার্লারের জন্যই সীমাবদ্ধ। যদিও বা জানতে পারেন, তাহলে কিনতে গেলে আপনাকে পার্লারের মাধ্যমেই আনাতে হবে। ব্যাপারটা যখন মুখের, সেই কারণে কেউ রিস্ক নিতে চান না। সৌন্দর্য ব্যাপারটাই এমন, ওর সঙ্গে আপস হয় না। ব্ল্যাকহেডস। এ এক এমন সমস্যা, যেটা সহজে দূর হয় না। ছেলে বা মেয়ে, যেই হোক না কেন, তাকেই ভোগায়! শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে সময়ে সময়ে মুখে দেখা দেয় – নাক এবং তার আশেপাশের অংশে। এছাড়া, শরীরের অন্যান্য স্থান পিঠ এবং কুঁচকির মতো জায়গাতেও দেখা দিতে পারে।

এবার ব্ল্যাকহেডস ঠিক জিনিসটা কি সেটা বলে রাখি। এটা আসলে কোনও অসুখ নয়। তবে, নাকের চার পাশে থাকলে ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস থাকলে, দৃষ্টিকটু লাগে খানিকটা। আমাদের শরীরে তো ঘাম বেরনোর জন্য নানান ছিদ্র থাকে। তার থেকে নানা রকম বর্জ্য পদার্থ বাইরে বের হয় ঘামের সঙ্গে। এবার ত্বকের থেকে মরা ছালও ওঠে। এবার আমাদের শরীরে নানা স্থানে তো লোম থাকে। সেটা গজানোর জন্য হেয়ারফলিকল থাকে ত্বকের সামান্য নিচেই। পুরনো হেয়ারফলিকল যখন বাইরে বেরিয়ে আসে, ঘামের মাধ্যমে বের হওয়া বর্জ্য পদার্থের সঙ্গে মিশে তা রোমকূপে আটকে রয়ে যায়। তারওপর মরা ছালগুলি জমে সময়ের সঙ্গে কালো আকার ধারণ করে সেগুলিই ব্ল্যাকহেডস বলে। প্রথম প্রথম এগুলি সাদা রঙের থাকে। তখন এগুলিকে হোয়াইটহেডস বলে। তুলনায় এগুলি নরম আর ব্ল্যাকহেডস শক্ত হয়। এগুলিকে অনেকে টিপে বের করেন। ওটা করা ঠিক নয়। কারণ, তাতে রোমকূপের ছিদ্রও বড় হয়ে যায় আর তা স্পষ্ট হয়ে থাকে মুখের চামড়ায়।

ঘরোয়া পদ্ধিতে সহজেই ব্ল্যাকহেডন নির্মূল

বাজারে গিয়ে দামি পণ্য না কিনলেও চলবে। আর পার্লারে গিয়ে মোটা টাকা দিয়ে রূপ চর্চা করার প্রয়োজন পড়বে না। সম্পূর্ণ ঘরোয়া পদ্ধিতেই এই একেবারে মুক্তি পাবেন ব্ল্যাকহেডসের ঝঞ্ঝাট থেকে।

ব্ল্যাকহেডস থেকে মুক্তি পেতে তিনটি ঘরোয়া টোটকা –

১. হলুদ শুধু খাওয়াতেই নয়, রপচর্চাতেও এর গুন অনন্য। গুঁড়ো বা বাটা হলুদ দিয়ে একটা মিশ্রণ তৈরি করুন। তাতে পুদিনা পাতার রস তৈরি করে মেশান। এবার যে যে স্থানে ব্ল্যাকহেডস রয়েছে, সেখানে প্রলেপ দিন ওই মিশ্রনের। শুকিয় গেলে কুসুম কুসম গরম জল দিয়ে পরিষ্কার করে নিন।

২. বাজারে চন্দনের গুঁড়ো কিনতে পাওয়া যায়। ওই গুঁড়ো একটা কাঁচের পাত্রে ঢেলে তাতে পরিমাণ মতো দুধ ও হলুদ গুঁড়ো দিয়ে পেস্ট বানান। সেই মিশ্রণ ব্ল্যাকহেডসের জায়গাগুলিতে প্রলেপ দিন। দশ মিনিট মতো রাখুন। আর তার ধুয়ে ফেলুন সাধারণ জল দিয়ে।

৩. মধু এমন একটা উপাদান যা বহুকাজে ব্যবহৃত হয়। এর ঔষধীগুনও তেমন। কাঁচা মধু নিয়ে ব্ল্যাকহেডসের ওপরে বুলিয়ে দিন। একেবারে শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন ঠান্ডা জল দিয়ে। মধু ত্বককে কোমল রাখে আর রোমকূপের ছিদ্রকেও ছোটো করে দেয়। ফলে ব্ল্যাকহেডস থাকতে পারে না। একেবারে দূর হয়।

এই তিনটি উপায়ের যে কোনও একটি বেছে নিয়ে সপ্তাহে দু-তিনবার প্রয়োগ করুন ব্ল্যাকহেডসের জায়গায়। একেবারে মুক্তি পাবেন এই সমস্যা থেকে। তবে, হ্যাঁ…বন্ধ করলে চলবে না কিন্তু। কারণ, ক্রমাগত রূপচর্চা করলেন রূপ ফুটে ওঠে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: