এখনই সাবধান হন! ভাত খাওয়ার পর এই কাজগুলি ভুলেও করবেন না!

মাছে-ভাতে যায় চেনা বাঙালি। সারা বিশ্বে প্রধান ভোজ্য উপাদান হিসেবে গমের চেয়েও চালের ব্যবহার বেশি। বিশেষত, আমাদের এই এশিয়া মহাদেশের চালের ব্যবহার অনেক বেশি গমের তুলনায় প্রধান ভোজ্য উপাদান হিসেবে। আর অধিকাংশ বাঙালি তো ভাত ছাড়া চলতেই পারেন না। দিনে দু’বেলা ভাত হলে খুব ভালো। কিন্তু, একবেলা অন্তত পেটে চালের কণা যাওয়া চাইই চাই। আমাদের পকেট হারকিউলিস মনোহর আইচ একবার বলেছিলেন – ‘পান্তা ভাতের জল, তিন পুরুষের বল’। দুপুর বেলা যেমন গরম ভারত অত্যাধিক প্রিয়, তেমনই রাতের বেলা গরমের দিনে ভিজে ভাত খেতে ভালোবাসেন অনেকে। আবার এমন অনেকে আছেন, যাঁদের পান্তা ভাতেও আপত্তি নেই।

পুজো-আচ্ছারার দিনে নিরামিষ লুচি-পরোটা-তরকারি থাওয়ার নিয়ম থাকলে আগে থেকে রাত্রিবেলা ভাত রান্না করে জলে ভিজিয়ে রেখে দেন পরের দিনের জন্য। ওতে যেমন আয়রনের ভাগ বেশি থাকে, তেমনই শরীর ঠান্ডা করে। হ্যাঁ… বড্ড ঘুম পায় বটে। কিন্তু, উপকার একশো শতাংশ। ভাত যেমন শরীরে উপকারে লাগে, তেমনই এই খাবারটা আপনাকে ভীষণ অসুস্থ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। সবটাই আমাদের বদঅভ্যেসগত কারণে। তাই এবার থেকে খেয়াল রাখুন, যে বদঅভ্যেসগুলির কথা বলতে চলেছি, সেগুলি থেকে থাকলে পরিবর্তন আনুন। আর সুস্থভাবে বাঁচুন। কারণ, না হলে নিজের শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করে চলেছেন, দিনের পর দিন ওভাবে জীবনযাপন করে।

ভাত খাওয়ার পর যেসব কাজ একদমই কাঙ্খিত নয় –

১. অনেকে আছেন ভাত খাওয়ার পরপরই ফল খেতে শুরু করে দেন। বলেন, ওতে নাকি হজম ভালো হয়। কিন্তু, আসলে তা না। ওতে অম্বল হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ভাত কেন, যে কোনও খাবার খাওয়ার অন্তত ঘণ্টা দু’য়েক পর ফল খাওয়া উচিত।

২. যাঁরা ধূমপায়ী তাঁদের একটা অভ্যেস রয়েছে। খাবার খাওয়ার পরই ধূমপান শুরু করে দেন। বলেন, তাতে নাকি আলাদা একটা তৃপ্তি আসে। কিন্তু, ডাক্তাররা বলেন, ধূমপান করা যেমন ক্ষতিকারক। তেমনই আহার নেওয়ার পরই ধূমপান করা আরও ক্ষতি কারক। দশ শতাংশ বেড়ে যায় শরীর অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা।

৩. শরীরকে সুস্থ-সবল রাখতে দিনে অন্তত একবার স্নান করা প্রয়োজন। দেখবেন বাড়ির বড়রা বলে স্নান করে এসে ভাত খেতে। খাওয়ার পর স্নান করা একবারেই উচিত নয়। দেখবেন শরীর কেমন আইঢাই করে। ব্যাপার হলো, স্নান করলে শরীরে রক্ত সঞ্চালনের মাত্রা বেড়ে যায়। পাকস্থলির আশেপাশে যে রক্তজালিকা থাকে, তাতেও প্রবাহ বেডে যায়। এতে পাকস্থলির স্বাভাবিক পরিপাক ক্রিয়া ব্যাহত হয়। ফলে, খাবার স্বাভাবিক নিয়মে হজম হয় না।

৪. আমাদের অনেকের অভ্যেস আছে সকালে স্কুল, কলেজ, অফিসে বেরনোর আগে ভাত খেয়ে বেরনো। এবার তৈরি হওয়ার সময় ছেলেদের তো পোশাক বলতে শার্ট-প্যান্ট। প্যান্টে বেল্ট দিতেই হবে। ভারি খাবার খাওয়ার পর অসুবিধা হবে বলে বেল্টটা ঢিলে করেই পরা অভ্যেস। আবার মহিলারা ঢিলে জামাকাপড় পরেন। ওতে সাময়িকভাবে অস্বস্তি দূর হলেও আসলে ক্ষতি হচ্ছে। পাকস্থলি ও পায়ুদার পর্যন্ত যে নালী রয়েছে, সেটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর তা থেকেই আসে কোষ্ঠবদ্ধতার সমস্যা। মলদ্বারে গিয়ে মল জমে থাকলেও পুরোটা বের হয় না আর জমা মল থেকে গ্যাস উৎপন্ন হয়ে শরীরকে বিষিয়ে তোলে।

৫. খাবার খেয়ে নিয়ে শারীরিক কসরৎ একদম নয়। ওতে হজমের গোলমাল হয়। আর তা থেকে অম্বলের সমস্যা দেখা দেয়।

৬. অনেকে আছেন দুপুরে খেয়ে নিয়েই ভাতঘুম দিতে চলে যান। বলেন, রাত্রিবেলা ভাত খাওয়ার পর চোখ যদিও খুলে রাখা যায়, দুপুরবেরা চোখ যেন জুড়িয়ে আসে। তাই না শুলে নয় ঘণ্টা দু-তিনেক। তবে, জেনে রাখুন – এতে মারাত্মক ক্ষতি করছেন। শরীরে যেমন মেদ জমে। তেমনই হজমের গোলমাল হয়ে পেটে গ্যাস উৎপন্ন হয়।

৭. বদ অভ্যেসের যেমন শেষ নেই বলে, এখানেই ঠিক তাই। অনেকে আছেন, যাই খান না কেনো, খেয়ে নিয়ে চা খেতেই হবে। সঙ্গে সঙ্গে হলে তো আনন্দের আর সীমা নেই। এটাও কিন্তু মারাত্মক ক্ষতিকারক। চায়ে টোনিক অ্যাসিড থাকে। ওই টোনিক অ্যাসিড আবার খাবারের প্রোটিনের মাত্রাকে বাড়িয়ে তোলে একশো গুন পর্যন্ত। ফলে খাবার হজম হতে সময় লাগে তুলনায় বেশি। সময় বেশি লাগা মানেই হজমের গোলমাল আর শরীরে অস্বস্তি।

৮. যত বেশি শরীরকে সচল রাখবেন, হৃদয় তত ভালো থাকে। আর হাঁটার চাইতে নাকি ভালো ব্যায়াম আর কিছু নেই ডাক্তারেরা বলেন। কিন্তু, ভাত খাওয়ার পর হাঁটতে শুরু করলে ওতে বরং ক্ষয় হয়, বাড়ার পরিবর্তে। ক্রমাগত হজমের গোলমাল হলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। আর দুর্বল শরীরের বেশিদিন স্থায়িত্ব নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: